সিলেটে উৎমাছড়া পর্যটনকেন্দ্র থেকে দুই লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হলো

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪০ বার
সিলেটে উৎমাছড়া পর্যটনকেন্দ্র থেকে দুই লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হলো

১৯ আগস্ট ২০২৫ |  নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন

পটুয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উৎমাছড়া পর্যটনকেন্দ্র থেকে গতকাল উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় দুই লাখ ঘনফুট লুট হওয়া পাথর। এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে টাস্কফোর্স ও যৌথ বাহিনীর অংশগ্রহণে—বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সিলেট ব্যাটালিয়নের সদস্যরা রংঘরিয়া ইউনিয়নের আদর্শগ্রাম থেকে এ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেন। উদ্ধারকৃত পাথর ও বালু সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইফরাহিম ইকবাল চৌধুরীর নির্দেশনায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগেই স্থানীয় আলেম-ওলামার একদল যুবক ঈদের ছুটিতে উৎমাছড়ায় বেড়াবার বিপরীতে ভিডিওতে পরিবেশ দূষণ ও অশ্লীল কাজের কারণ দেখিয়ে মানুষকে যেতে নিষেধ করেছিলেন। সেই সময় অভিযোগ ওঠে, বিজিবি-র উপেক্ষায় পাথর-দখলদাররা ড্রেনে পরিণত নদীর পাথর লুটপাট করছে। আজকের এই উদ্ধার সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই সামাজিক দুর্ভরতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া দুই লাখ ১৪ হাজার ঘনফুট পাথর ও ২৮ হাজার ঘনফুট বালুকে স্থানান্তর করা হয়েছে—এর মধ্যে কিছু পুরোনো এবং কিছু নতুন উত্তোলিত পাথর রয়েছে। উদ্ধারকৃত পাথরগুলো আদর্শগ্রামে রাস্তা ও বাড়িঘরের কাছাকাছি অবস্থান করছিল। উদ্ধার পর সেটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির যতœে রাখা হয়েছে, যা পরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত অনুসারে পরিচালিত হবে।

এদিকে, গোয়াইনঘাটের জুমপার এলাকা থেকেও প্রায় ২ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়, যা জাফলং জিরোপয়েন্ট এলাকায় প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সাথে ২৪ হাজার ঘনফুট পাথর, যার মধ্যে ৩ হাজার সাদাপাথর হিসাবে আলাদা ভিডিও বলা হয়েছে। জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুরে পরিচালিত টাস্কফোর্স অভিযানে ১২ হাজার ঘনফুট পাথর ও ২৮ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ হয় এবং বালুগুলো ৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।

সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত পাথরের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার ঘনফুট প্রতিস্থাপিত হয়েছে—তাদের বেশিরভাগই সাদাপাথর। বাকি অংশ জাফলং ও জৈন্তাপুরে বিনিময় করা হয়েছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ৫১টি নির্দিষ্ট কোয়ারি রয়েছে; সেখানকার আটটি সিলেটের চার উপজেলায়—কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর। তবে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলো—সাদাপাথর, জাফলং, বিছনাকান্দি ও উৎমাছড়া—কোয়ারির বাইরে হলেও প্রাকৃতিক পাথরের জন্য খ্যাত। ২০২০ সালের আগে এই কোয়ারিগুলো ইজারা ভিত্তিক পরিচালনা হতো, তবে পরবর্তীতে পরিবেশের ক্ষতির কারণে এই প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়।

তবে ইজারা না থাকলেও রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলে আবার কোনভাবে ইজারা চালু করার চেষ্টা করলেও তা অনুমোদিত হয়নি। সেই সুযোগ নিয়ে গত বছর অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যে রাতভর অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন চলছিল, প্রশাসনের তদারকিও ছিল যথেষ্ট না—যার ফলস্বরূপ পর্যটন ও পরিবেশ টেকসই বাধায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

এই উদ্ধার অভিযান পরিবেশ সুরক্ষা ও স্থানীয় সম্পদের ফৌজদারি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলেও একইসঙ্গে উদাহরণ হয়ে থাকবে—যদি ফলপ্রসূ নিয়ম প্রয়োগ ও কঠোর রাজনৈপত্যের মাধ্যমে দখলদারদের মোকাবিলা করা হয়, তাহলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষা সম্ভব।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত