প্রয়োজনে কেয়ামত পর্যন্ত ভ্যাট নিরীক্ষা স্থগিত থাকতে পারে: এনবিআর চেয়ারম্যান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫০ বার
প্রয়োজনে কেয়ামত পর্যন্ত ভ্যাট নিরীক্ষা স্থগিত থাকতে পারে: এনবিআর চেয়ারম্যান

২৬ আগস্ট ২০২৫|  নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান সম্প্রতি কর ও ভ্যাট সংস্কার বিষয়ক এক সংলাপে মন্তব্য করেছেন, যে স্বয়ংক্রিয়পদ্ধতি বা অটোমেশন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে ভ্যাট নিরীক্ষা স্থগিত রাখা হতে পারে। তিনি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, এই পদক্ষেপ কোনোভাবেই ব্যবসায়ীদের ওপর অহেতুক চাপ বা হয়রানির উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়নি, বরং চলমান ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য এটি করা হচ্ছে।

গুলশানের এক হোটেলে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজন করা সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, তারা একটি একক ভ্যাট হার প্রবর্তন করতে চাইছেন, যা ব্যবসায়ীদের জন্য আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে। বর্তমান ব্যবস্থায় ব্যবসায়ীদেরকে ভ্যাট দিতে সরকারের কাছে যেতে হয়, কিন্তু নতুন সিস্টেমে এটি সম্পূর্ণ অনলাইন মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে, যেখানে এক ক্লিকেই ভ্যাট প্রদানের প্রক্রিয়া শেষ হবে।

করছাড় বিষয়ে তিনি জানান, দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য দেশি ও বিদেশি কোম্পানিকে করছাড় দিয়ে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব ব্যবস্থার অদক্ষতার কারণে এই ছাড় বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশি ঋণের বোঝা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধি না হলে এই ঋণ পরিশোধ করা বিপজ্জনক হয়ে যাবে।

রাজস্ব খাতের সংস্কার বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, নীতিমালা প্রণয়নের জন্য অনেক সময় নষ্ট হয়, যার ফলে কার্যকর রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এজন্য তিনি রাজস্ব ব্যবস্থাকে দুটি ভাগে বিভক্ত করার পরিকল্পনা করছেন, যাতে একসাথে দুজন কর্মকর্তা কাজ করলে সিস্টেম আরও কার্যকর হবে। এছাড়া ন্যূনতম করহার সংক্রান্ত বিধান, যা তিনি কালাকানুন হিসেবে বর্ণনা করেছেন, ভবিষ্যতে বাতিল করা হতে পারে, কিন্তু তা এখনই কার্যকর করলে রাজস্ব আদায় কমে যাবে।

সংলাপে ব্যবসায়ী নেতা, উদ্যোক্তা এবং বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা বর্তমান কর ও ভ্যাট সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এনবিআরের এই উদ্যোগ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যিক পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কর প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় এবং পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করবে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত