জিম্বাবুয়ের বিশ্বকাপ স্বপ্নপূরণ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫১ বার
জিম্বাবুয়ের বিশ্বকাপ স্বপ্নপূরণ: আফ্রিকার গর্বিত প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

আফ্রিকার ক্রিকেটে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার ঘটল হারারে স্পোর্টস ক্লাবে। গ্যালারি ভরে উঠেছিল লাল-সবুজ পতাকায়, উচ্ছ্বাসে কাঁপছিল দর্শক সারি। কারণ, দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নাম লেখাতে সক্ষম হলো জিম্বাবুয়ে। আফ্রিকান অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে কেনিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে সিকান্দার রাজার দল নিশ্চিত করল ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট।

দিনটি ছিল জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকার মতো। কেনিয়া আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে তুলেছিল মাত্র ১২২ রান। প্রতিপক্ষের এমন ছোট লক্ষ্য জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা সহজেই টপকে যান। মাত্র ১৫ ওভারেই তারা জয় নিশ্চিত করে ফেলে এবং ৭ উইকেট হাতে রেখেই সেমিফাইনালের লড়াই শেষ করে বিশ্বকাপের মূল আসরে নাম লেখায়। ম্যাচশেষে পুরো হারারে কেঁপে ওঠে উল্লাসে, যেন ক্রিকেটই হয়ে উঠল জাতির নতুন প্রেরণার প্রতীক।

কেনিয়ার হয়ে রাকেপই কেবল প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। তার ৬৫ রানের ইনিংস দলকে কিছুটা ভরসা দিলেও অন্য প্রান্তে ছিলেন না কার্যকর কোনো ব্যাটসম্যান। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১২২। বল হাতে জিম্বাবুয়ের হয়ে মুজারাবানি নিয়েছেন ২ উইকেট, আর ইভান্স ও মাপোসা নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

পাল্টা ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ে শুরু থেকেই ছিল দৃঢ়। তরুণ ব্রায়ান বেনেট ইনিংসের ভিত গড়ে দেন ৫১ রানের অসাধারণ খেলায়। তার সঙ্গে মারুমানি ৩৯ রানের অবদান রাখেন। শেষদিকে রায়ান বার্ল ১৬ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এমন একটি দিনে দলীয় প্রয়াসে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটাররা প্রমাণ করেছেন, তারা বিশ্বমঞ্চে ফেরার জন্য কতটা ক্ষুধার্ত। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন ব্রায়ান বেনেট, যার ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাস ও নিখুঁত শটের প্রদর্শনী।

এই জয়ে আফ্রিকার ক্রিকেট আবারও একটি বড় উল্লম্ফন দেখল। নামিবিয়া এরই মধ্যে তানজানিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূল আসরে জায়গা করে নিয়েছে। আফ্রিকার বাছাইপর্বের দুই দল নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়ে—এখন মুখোমুখি হবে ফাইনালে। তবে ফাইনালটি মূলত মর্যাদা রক্ষার লড়াই, কারণ দুটো দলই ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে।

বিশ্বকাপের মূল আসরে এখন পর্যন্ত ১৭টি দল নিশ্চিত হয়েছে। বাকি তিনটি দল আসবে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাছাই থেকে। আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে বসবে দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই আসরে জিম্বাবুয়ের অংশগ্রহণ আফ্রিকার ক্রিকেটে শুধু নতুন অনুপ্রেরণাই দেবে না, বরং ভবিষ্যতের প্রতিভাবান প্রজন্মের জন্য এক শক্তিশালী বার্তাও বয়ে আনবে।

জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে নানা চ্যালেঞ্জ বিরাজ করছিল। প্রশাসনিক জটিলতা, আর্থিক সংকট, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ওঠানামা—সবকিছু মিলিয়ে একসময় দেশটির ক্রিকেট ছিল অনিশ্চয়তার মধ্যে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক উন্নতি দেখা গেছে। সিকান্দার রাজার নেতৃত্বে দল একদিকে অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে নতুন প্রতিভার সমন্বয় ঘটাতে শুরু করেছে। বেনেট, মারুমানি, মুনিওঙ্গার মতো তরুণরা যেভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের মেলে ধরছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে জিম্বাবুয়ে শুধু বিশ্বকাপে অংশ নিতে নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতেও প্রস্তুত হচ্ছে।

হারারে ম্যাচের শেষে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। গ্যালারিতে থাকা হাজারো সমর্থক জাতীয় পতাকা উড়িয়ে খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান। সোশ্যাল মিডিয়ায় ম্যাচের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ আনন্দ ভাগাভাগি করছে। আফ্রিকার মিডিয়াগুলো এ জয়কে ‘আত্মবিশ্বাসের পুনর্জন্ম’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

অন্যদিকে, ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ জয় শুধু বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ নয়, বরং জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট অর্থনীতি ও ক্রীড়ানীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে অংশগ্রহণ মানেই আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রচারণা, স্পন্সরশিপ এবং স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্য বেশি সুযোগ।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দক্ষিণ আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব ক্রিকেটে শক্ত অবস্থানে থাকলেও, নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়ের মতো দলগুলো আসর রঙিন করে তোলে। বিশেষ করে জিম্বাবুয়ের ঐতিহ্য, তাদের ক্রিকেট সংস্কৃতি এবং প্রতিভাবান প্রজন্ম আবারও বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে যে উপস্থিতি ঘটাতে যাচ্ছে, তা ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য আনন্দের সংবাদ।

সবশেষে বলা যায়, জিম্বাবুয়ের এই জয় কেবল একটি ক্রিকেট ম্যাচের জয় নয়, বরং এটি এক নতুন যাত্রার সূচনা। আফ্রিকার মাঠ থেকে উঠে আসা এই দল আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করার সুযোগ পেল। আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বসবে মহারণের আসর, আর সেই আসরে জিম্বাবুয়ের পতাকা উড়বে—এটি শুধু ক্রিকেট ভক্তদের নয়, পুরো জাতির জন্য গর্বের বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত