অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে দলে ফিরে এলেন স্টার্ক, ভারতের বিপক্ষে স্কোয়াডে চমক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫২ বার

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণার মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে ফেরানো হয়েছে অভিজ্ঞ পেসার মিচেল স্টার্ককে, যিনি গত বছরের নভেম্বরে শেষবার ওয়ানডে খেলেছিলেন। স্টার্কের অভাব অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণে দীর্ঘদিন অনুভূত হচ্ছিল, আর এখন তাঁর ফিরে আসা দলের আক্রমণাত্মক সম্ভাবনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এই ঘোষণার পাশাপাশি চমক হিসেবে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ২৯ বছর বয়সী ব্যাটার ম্যাট রেনশ, যিনি ওয়ানডে দলে নতুন হলেও খেলোয়াড় হিসেবে ইতিমধ্যেই নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ ব্যাটার মার্নাস লাবুশেন দলে জায়গা পাননি, যা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াড পরিকল্পনায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে ধরা হচ্ছে।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ অক্টোবর পার্থে। এই সিরিজের পরেই অস্ট্রেলিয়া ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের স্কোয়াডও ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে।

টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে চোটের কারণে নেই গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, যিনি দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তবে অভিজ্ঞ পেসার নাথান এলিসকে ফেরানো হয়েছে, যা বোলিং বিভাগকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ অক্টোবর ক্যানবেরায়।

অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে স্কোয়াডে নেতৃত্ব দেবেন মিচেল মার্শ। তাঁর অধিনায়কত্বে দলকে গত কয়েক বছর ধরে সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। স্কোয়াডে হ্যাভিয়ের বার্টলেট, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটকিপার), কুপার কনোলি, বেন ডওয়ারশুইস, নাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হ্যাজলউড, ট্র্যাভিস হেড, জশ ইংলিশ (উইকেটকিপার), মিচেল ওয়েন, ম্যাট রেনশ, ম্যাথু শর্ট, মিচেল স্টার্ক এবং অ্যাডাম জ্যাম্পা রয়েছেন।

এই স্কোয়াড ঘোষণা হওয়ার পর ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন যে, স্টার্কের অভ্যাব ফেরানোর ফলে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণে ভারসাম্য ফিরে এসেছে। স্টার্ককে বিশেষভাবে দ্রুত গতির বল এবং তার অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে দলের বোলিং বিভাগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্টার্কের পাশাপাশি নাথান এলিসের ফেরাও বোলিং ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করার দিক নির্দেশ করছে।

ব্যাটিং লাইনআপেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। মার্নাস লাবুশেনের অভাবের জায়গায় নতুন ব্যাটার ম্যাট রেনশকে নেওয়া হয়েছে, যিনি তরুণ বয়সে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। এছাড়া ক্যামেরন গ্রিন ও হ্যাভিয়ের বার্টলেটের মতো ক্রিকেটাররা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে সক্ষম, যা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচগুলিতে অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় সহায়ক হবে।

অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শও স্কোয়াড ঘোষণা হওয়ার পর ক্রীড়ামাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, এই দল যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ এবং ভারতীয় দলের বিপক্ষে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নামবে। তিনি যোগ করেন, “আমাদের লক্ষ্য থাকবে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখানো। স্টার্কের অভিজ্ঞতা এবং তরুণ খেলোয়াড়দের উদ্যম দলকে সব দিক থেকে শক্তিশালী করবে।”

অন্যদিকে, ভারতীয় ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অস্ট্রেলিয়ার এই স্কোয়াডের ঘোষণার ফলে ভারতকে মাঠে আরও সতর্কভাবে খেলতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেসার এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ইউনিট ভারতের ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াবে। বিশেষত স্টার্কের উপস্থিতি, যিনি অত্যন্ত ধারালো পেস এবং শিকারী বোলার হিসেবে পরিচিত, ভারতীয় ব্যাটারদের জন্য চাপ তৈরি করবে।

ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যেই অভ্যাস ম্যাচ ও প্র্যাকটিস সেশন শুরু করেছে। কোচিং স্টাফরা মূলত পেস বোলিং, ফিল্ডিং এবং ব্যাটিং কৌশল উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। বিশেষ করে স্টার্কের সাথে অন্যান্য বোলারদের সমন্বয় করে একটি প্রভাবশালী বোলিং ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার এই সিরিজে ভারতীয় দলের বিপক্ষে কৌশলগত দিক থেকেও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। ভারতও তার ব্যাটিং লাইনআপে শক্তিশালী খেলোয়াড়দের জায়গা নিশ্চিত করতে এবং বোলিং ইউনিটকে সমন্বিত করার পরিকল্পনা করছে। ফলে ম্যাচগুলো কৌশলগত দিক থেকে সমানভাবে উত্তেজনাপূর্ণ হতে যাচ্ছে।

ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য কেবল জয়লাভের বিষয় নয়, বরং ভারতের বিপক্ষে অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের মিলিতভাবে পারফরম্যান্স দেখানোর সুযোগও। স্টার্কের অভ্যাব ফেরানো একদিকে যেমন বোলিংয়ে ভারসাম্য ফিরিয়েছে, অন্যদিকে ব্যাটিং ও ফিল্ডিংয়ের সঙ্গে দলীয় সমন্বয় বৃদ্ধি করেছে।

এই সিরিজের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য থাকবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি উভয় ফরম্যাটে ভারতকে চ্যালেঞ্জ দেওয়ার পাশাপাশি, তরুণ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিজ্ঞতা অর্জন করানো। স্টার্কের মত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিলিতভাবে তরুণদের খেলোয়াড়ি দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ হবে।

সংক্ষেপে বলা যায়, অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে স্কোয়াডে স্টার্কের ফেরত, নতুন ব্যাটারদের অন্তর্ভুক্তি এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয় ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে সিরিজকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উত্তেজনাপূর্ণ করবে। এই সিরিজ কেবল ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পর্যালোচকদের জন্যও নজরকাড়া একটি ঘটনা হিসেবে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত