জর্ডানের বিপক্ষে আজ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারীদের লড়াই

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫০ বার
জর্ডানের বিপক্ষে আজ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারীদের লড়াই

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য আজকের দিনটি হতে পারে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচনের সূচনা। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে আজ রাতেই মাঠে নামছে বাংলাদেশের তরুণীরা। ‘এইচ’ গ্রুপে প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক জর্ডান। আকাবা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হবে এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। জর্ডানের মাটিতে বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং নিজেদের সামর্থ্য ও সাফল্যের নতুন গল্প লেখার এক বড় সুযোগ।

বাছাই পর্বের আগে নিজেদের প্রস্তুতি আরও মজবুত করতে বাংলাদেশের মেয়েরা দুবাইয়ে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল। প্রথম ম্যাচে সিরিয়াকে ২-০ গোলে হারানোর পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় দলের মধ্যে। দ্বিতীয় ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দুর্দান্ত জয়ে আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে তারা। এই দুই জয়ের ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে আজ জর্ডানের মাঠে নামবে অর্পিতা বিশ্বাস ও তার সতীর্থরা।

তবে পথটা মোটেও সহজ নয়। কঠিন একটি গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক জর্ডান শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে আগে থেকেই পরিচিত। আরেক প্রতিপক্ষ চাইনিজ তাইপেও নারী ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরেই শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তাই এই গ্রুপ থেকে চূড়ান্ত পর্বে উঠতে হলে বাংলাদেশের মেয়েদের খেলতে হবে নিজেদের সেরাটা দিয়ে। কোচ ও ফুটবলারদের চোখ এখন সেই কাঙ্ক্ষিত চূড়ান্ত পর্বে খেলার টিকিটে।

ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে আত্মবিশ্বাসী শোনালেন নারী দলের কোচ সাইফুল বারীকে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সিনিয়র নারী দল ও অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাই পর্ব পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আমাদের লক্ষ্যও সেই পথেই হাঁটা। মেয়েরা প্রস্তুত এবং আমরা ভালো কিছু আশা করছি।”

কোচ স্বীকার করেছেন, এই গ্রুপটি সহজ নয়। স্বাগতিক দল জর্ডান তাদের ঘরের মাঠে খেলবে, যা তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা। অন্যদিকে চাইনিজ তাইপে বরাবরই দ্রুত গতি ও টেকনিক্যাল ফুটবলে এগিয়ে। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন, তার শিষ্যরা ভয় নয়, বরং চ্যালেঞ্জকে জয় করেই মাঠে নামবে। “আমরা জানি প্রতিপক্ষ খুবই শক্তিশালী। তবে মেয়েরা দারুণভাবে অনুশীলন করেছে। তারা নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেবে। এই ম্যাচগুলোই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। সিনিয়র দলে জায়গা করে নিতে হলে এখান থেকেই প্রমাণ দিতে হবে,” বলেন সাইফুল বারী।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দল গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে এগিয়েছে। বয়সভিত্তিক ফুটবলে মেয়েদের সাফল্য দেশের ফুটবল অঙ্গনে আশার আলো জ্বালিয়েছে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তারা বারবার প্রমাণ করেছে, প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চে টিকে থাকার মতো সামর্থ্য তাদের রয়েছে। বিশেষ করে সিরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে সাম্প্রতিক দুটি জয়ে দলের মধ্যে যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা আজকের ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

এই দলের অন্যতম শক্তি তাদের গতি ও দলগত সংহতি। কোচের তত্ত্বাবধানে টানা অনুশীলনে মেয়েরা নিজেদের ফিটনেস ও ট্যাকটিক্যাল প্রস্তুতি অনেকটা ঝালিয়ে নিয়েছে। গোলরক্ষক থেকে শুরু করে ডিফেন্স, মিডফিল্ড ও ফরোয়ার্ড লাইন—প্রতিটি পজিশনেই তারা সমন্বিতভাবে খেলতে পারছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মাঠে খেলা হবে কৌশল ও মনোবলের লড়াই। স্বাগতিক জর্ডান নিজেদের দর্শকদের সামনে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ চায় চাপের মুখে সুশৃঙ্খল ডিফেন্স ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চমকে দিতে। কোচ সাইফুল বারী ইঙ্গিত দিয়েছেন, তারা ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে পরীক্ষা নিতে চান।

নারী ফুটবলে বাংলাদেশ বারবার প্রমাণ করেছে, তারা লড়াই করতে জানে। বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে মেয়েদের পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য সম্মানের জায়গা তৈরি করেছে। অনূর্ধ্ব-১৭ দলও সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে চায়। আজকের ম্যাচে একটি ইতিবাচক ফল পেলে শুধু পরবর্তী রাউন্ডে এগোনোর পথই সহজ হবে না, বরং মেয়েদের মনোবলও আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথম গোলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ যদি ম্যাচের প্রাথমিক মুহূর্তগুলোতে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলে রাখতে পারে, তবে ধীরে ধীরে খেলার নিয়ন্ত্রণে আসতে সক্ষম হবে। এর আগে বড় দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচে এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ভালোভাবেই টিকে ছিল, যা আজ তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে।

এদিকে দেশের ফুটবলপ্রেমীরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন আজকের ম্যাচের জন্য। নারী ফুটবলে সাম্প্রতিক সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন অনুপ্রেরণা তৈরি করেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা থেকে উঠে আসা অনেক মেয়ের জন্য জাতীয় দলের হয়ে খেলা শুধু একটি স্বপ্ন নয়, বরং নিজের অবস্থান তৈরি করার বাস্তব সুযোগ। তাই আজকের ম্যাচটি তাদের কাছে অনেক বড় এক মঞ্চ।

রাত ১০টায় আকাবা স্টেডিয়ামে বাঁশি বাজতেই শুরু হবে বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ মিশন। সামনে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ চাইনিজ তাইপে। কিন্তু তার আগে জর্ডানের বিপক্ষে লড়াইটাই আজ সবার চোখে। জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট শুরু করতে পারলে সেটি হবে বাংলাদেশ দলের জন্য শুধু একটি ভালো সূচনা নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের অমূল্য পুঁজি।

বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দল আজ খেলবে শুধু তিন পয়েন্টের জন্য নয়, খেলবে স্বপ্ন পূরণের জন্য, খেলবে নিজেদের প্রমাণ করার জন্য। আর এই লড়াইয়েই লুকিয়ে আছে দেশের নারী ফুটবলের ভবিষ্যতের অনেকটা অংশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত