৩৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে,ভারতকে হারাল অস্ট্রেলিয়ান নারীরা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৯ বার
৩৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ,ভারতকে হারাল অস্ট্রেলীয় নারীরা

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক

নারী ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েছে অস্ট্রেলিয়া। ভারতের বিপক্ষে ৩৩০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে ৩ উইকেটে জয় তুলে নিয়ে তারা লিখেছে রেকর্ডের নতুন অধ্যায়। ৫২ বছরের নারী ওয়ানডে ইতিহাসে তিন শতাধিক রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় পাওয়া এতদিন ছিল একমাত্র শ্রীলঙ্কার। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া তৈরি করল এক অনন্য নজির, যা নিঃসন্দেহে নারী ক্রিকেটে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

অজিদের এ জয়ের নেপথ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম অ্যালিসা হিলি। ওপেনিংয়ে নেমে তার ব্যাটে ঝড় তোলে রানের বন্যা। ১০৭ বলে ১৪২ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংসে ২১টি চার ও ৩টি ছক্কার ঝলক দেখা যায়। হিলির ইনিংস ছিল আত্মবিশ্বাস, নিয়ন্ত্রণ ও পরিশ্রমের নিখুঁত সংমিশ্রণ। ব্যাট হাতে তিনি যেন বলেছিলেন— বড় লক্ষ্য তাড়া করা অজিদের কাছে অসম্ভব নয়। তাকে সহায়তা করেন তরুণী ফিনোম ফিবি লিচফিল্ড, যিনি ৪০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। পরবর্তীতে অভিজ্ঞ এলিস পেরি ৪৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

এর আগে ভারতের ইনিংসও ছিল রোমাঞ্চে ভরা। শুরু থেকেই ভারতীয় ওপেনাররা আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মনোযোগী ছিলেন। স্মৃতি মান্ধানা ৬৬ বলে ৮০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে নারী ওয়ানডে ইতিহাসে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বাধিক রানের রেকর্ড গড়েন। একইসঙ্গে তিনি পাঁচ হাজার রান পূর্ণ করার মাইলফলকও স্পর্শ করেন— যা নারী ক্রিকেটের জন্য এক গর্বের অর্জন। তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন রাওয়াল, যিনি ৭৫ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন। তবে এই দুই ব্যাটারের বিদায়ের পরই ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে।

এক পর্যায়ে ৩০ ওভারে ১৯২ রানে ১ উইকেট হারানো ভারতীয় দলটি শেষ পর্যন্ত ৪৮.৫ ওভারে অলআউট হয় ৩৩০ রানে। শেষ ৯ উইকেট পড়ে মাত্র ১৩৮ রানে। অস্ট্রেলীয় বোলার অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড ছিলেন বিধ্বংসী। তার বোলিংয়ে গতি ও ধার ছিল ভয়ঙ্কর। ৯ ওভারে মাত্র ৪০ রান খরচ করে তিনি নেন ৫ উইকেট— যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তার সঙ্গে সহযাত্রী ছিলেন মলিনু, যিনি ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরুটা ছিল চ্যালেঞ্জিং। ৩৩০ রানের বিশাল লক্ষ্য সামনে রেখে তারা ব্যাট করতে নামে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস নিয়ে। হিলি ও লিচফিল্ডের জুটি দলকে দেয় শক্ত ভিত। তবে ভারতের বোলার চরণীর ধারাবাহিক আক্রমণে মাঝপথে কয়েকটি উইকেট হারালেও ব্যাটিংয়ের ধৈর্য হারায়নি অজিরা। একদিকে হিলির ব্যাটে আস্থা, অন্যদিকে পেরির অভিজ্ঞতা দলকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যায়। শেষ মুহূর্তে জেস গার্ডনার ৪৫ রানের দ্রুত ইনিংস খেলে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে যখন অস্ট্রেলিয়া জয়ের খুব কাছে, তখন মাঠজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দর্শকরা নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করছিলেন ইতিহাসের জন্ম দেখার জন্য। অবশেষে ৪৯তম ওভারের শেষ বলে পেরি এক রান নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন। স্কোরবোর্ডে তখন ৩৩১/৭— নতুন বিশ্বরেকর্ড।

অস্ট্রেলিয়া এ জয়ের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে। চার ম্যাচে তিন জয়ে তারা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় হারে ভারত নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে, তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়— এটি নারী ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাসের নতুন উদাহরণ। এতদিন পুরুষ ক্রিকেটেই বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয় ছিল স্বাভাবিক দৃশ্য, কিন্তু নারী ক্রিকেটে এমন সাফল্য বিরল। অজিদের এই পারফরম্যান্স দেখিয়ে দিয়েছে যে নারীরাও সমানভাবে শক্তিশালী, টেকনিক্যালি দক্ষ এবং মানসিকভাবে পরিপক্ব।

বিশ্বজুড়ে অস্ট্রেলিয়ার এই জয় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলছেন, অ্যালিসা হিলির ইনিংসটি নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা শতক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি শুধু ব্যাট হাতে রানের পাহাড় গড়েননি, বরং দেখিয়েছেন কীভাবে আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলা দিয়ে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।

ম্যাচ শেষে হিলি বলেন, “আমরা জানতাম লক্ষ্যটা বড়, কিন্তু আমরা বিশ্বাস করতাম এটি অর্জন করা সম্ভব। দল হিসেবে আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছি, সেটিই ফল দিয়েছে।” তার কণ্ঠে আত্মবিশ্বাসের সুর আর মাঠে তার পারফরম্যান্স— দুটোই অস্ট্রেলিয়ার জয়যাত্রার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর ম্যাচ শেষে বলেন, “আমরা ভালো শুরু করেছিলাম, কিন্তু মাঝপথে উইকেট হারানো আমাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। অস্ট্রেলিয়া দারুণ খেলেছে, তাদের কৃতিত্ব প্রাপ্য।”

নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে এই ম্যাচটি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকবে। কারণ এটি শুধু রানের হিসাব নয়— এটি ছিল মনোবলের, দলগত ঐক্যের এবং সীমা ভাঙার প্রতীক। মাঠের বাইরেও এই জয় নারী খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, তাদের স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত