রাজনীতি ও তার প্রতীক হয়ে ওটার ইতিকথা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৯ বার
রাজনীতি ও তার প্রতীক হয়ে ওটার ইতিকথা

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজীনীতির মাঠে যুগে যুগে উত্তান পতন হয়েছে ,তবে প্রত্যেকটা দলের একটা শুরু ছিল কালের বিবর্তনে নিজস্বতায় তা বহমান ছিল , মানুষ সেই দলের প্রতীক ও প্রচারণা দেখেই ভোট দিতো আজও তা চলমান , তবে কিছুটা বিবর্তন র আর পরিবর্তন এর মাধ্যমে এবারের ভোট আর জনগণের ভোটাধিকার পরিচালিত হবে সময়ের প্রেক্ষাপটে –

বিএনপির ধানের শীষ
প্রতীকের উদাহরণ সবচেয়ে স্পষ্ট। ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী একত্রিত করে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। বিএনপি প্রথম ধানের শীষ প্রতীকে ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়। তবে ধানের শীষ প্রতীকটি বিএনপির আগে থেকেই ব্যবহৃত হতো। ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়েছিল। ভাসানীর দল থেকে বের হয়ে মশিউর রহমানের নেতৃত্বে অংশগুলো বিএনপিতে যোগ দিলে ধানের শীষ প্রতীকও সেখানেই স্থানান্তরিত হয়। এরপর থেকে ধানের শীষ বিএনপির প্রতীকেরূপে বহাল রয়েছে।

নৌকা প্রতীকের ইতিহাস
ও সমান গুরুত্বপূর্ন। স্বাধীনতার আগে ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচনেও নৌকা প্রতীক ব্যবহৃত হয়। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগ নৌকা প্রতীকের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করে। প্রতীকের জনপ্রিয়তার কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে নৌকা খুবই পরিচিত একটি প্রতীক। তবে ২০২৪ সালের ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয় এবং নৌকা প্রতীকও স্থগিত রাখা হয়।

লাঙ্গল প্রতীক
বাংলাদেশের নির্বাচনে দীর্ঘ ইতিহাস বহন করে। এটি প্রথম ব্যবহার হয় অবিভক্ত ভারতের কৃষক প্রজা পার্টির মাধ্যমে, পরবর্তীতে পাকিস্তান ও স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রতীকেরূপে ব্যবহৃত হয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময়ে জাতীয় পার্টি গঠিত হলেও লাঙ্গল প্রতীক ধরে রাখে। বর্তমানে জাতীয় পার্টি এই প্রতীকের অধিকার ধরে রেখেছে, যদিও দলটি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় আসতে পারেনি।

বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রতীকের গুরুত্ব শুধুমাত্র ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত করাই নয়, এটি দলের ঐতিহ্য, রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা এবং নির্বাচনী কৌশলের একটি অপরিহার্য অংশ। ধানের শীষ, নৌকা এবং লাঙ্গল প্রতীকের ইতিহাস এই দেশের নির্বাচনের রাজনৈতিক বিবর্তনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’
বাংলাদেশের নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত ইসলামী দল দীর্ঘ সময় নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। স্বাধীনতার পর থেকে দলটির রাজনৈতিক জীবন প্রায়শই বাধা-বিপত্তিতে ভরা ছিল। কখনো নিবন্ধন বাতিল, কখনো নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা এবং কখনো নিজেদের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ হারিয়ে জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

স্বাধীনতার আগে ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত অংশ নিয়েছিল বিভিন্ন প্রতীকের মাধ্যমে। নৌকা বা লাঙ্গলের পাশাপাশি দলটি তখন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোটের মাঠে উপস্থিত ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে দলটি ১৯৮৬ সালে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিলে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে। এর পর থেকে দলটি নিজেদের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা বহাল রেখেছে এবং পরবর্তী পাঁচটি সংসদীয় নির্বাচনে এ প্রতীকের মাধ্যমে ভোটের অংশগ্রহণ করেছে।

২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করলে জামায়াতের কাছে আগের মতো দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে ২০১৩ সালে হাইকোর্টের এক রিটের আদেশে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করা হয় এবং নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করে।

২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের চিঠির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ২০১৭ সালের ৯ মার্চ নির্বাচনী বিধিমালা সংশোধন করে এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নির্বাচন থেকে বাদ দেয়। ফলে ২০১৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতকে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে অংশ নিতে হয়, তবে তখন দলের প্রতীক হিসেবে ধানের শীষ ব্যবহার করা হয়।

গত বছরের জুলাই-অগাস্টে ছাত্র জনতার আন্দোলনের সময় জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপরও শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ওই নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। চলতি বছরের জুনে আদালতের নির্দেশে জামায়াত আবারো তাদের নিবন্ধন ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ফিরে পায়। নির্বাচনের প্রাক্কালে দলটি ইতিমধ্যেই এই ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জামায়াতের প্রতীক ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত থাকলেও রাজনৈতিক ওঠানামা ও বৈচিত্র্যের কারণে এটির ব্যবহার সময়ের সঙ্গে সীমিত বা বিরতিপূর্ণ হয়ে এসেছে। আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক দলটির পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পুনরায় মাঠে প্রাধান্য পাবে।

এবারের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক থাকবেনা,আর লাঙ্গল প্রতীক আইনি জটিলতার মধ্যে রয়েছে ,যোগ হবে এনসিপি, তাদের মার্কা অনুমোদন পায় নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত