প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান জানিয়েছেন, ডিজিটাল আইন প্রবর্তনের পথপ্রদর্শক হিসেবে আইসিটি অ্যাক্ট থেকেই এটি শুরু হয় এবং তিনি ও তার পত্রিকাই প্রথম আসামি ছিলেন। কুমিল্লায় সোমবার অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এই আইনের আওতায় তিনি চার মাস অফিসের ভিতরে বন্দি জীবন কাটিয়েছেন।
মাহমুদুর রহমান জানান, ২০০৯ সালে তাদের কাছে একটি সংবাদ আসে, যেখানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি দুর্নীতিতে জড়িত বলে অভিযোগ ছিল। সেই সংবাদ প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই তার সঙ্গে সরকারের ব্যক্তিগত লড়াই শুরু হয়। তিনি বলেন, তখন তিনি জেনেশুনেই এই ঝুঁকিপূর্ণ লড়াইয়ে নামেছিলেন।
২০১০ সালে তিনি বুঝতে পারেন, দেশের বিচার ব্যবস্থাই তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। এই পরিস্থিতি উপেক্ষা না করে তিনি ‘স্বাধীন বিচারের নামে তামাশা’ শীর্ষক একটি আর্টিকেল প্রকাশ করেন, যার ফলে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়, পত্রিকা বন্ধ থাকে এবং এক বছর জেল ভোগ করতে হয়। তারপরও তিনি তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
মাহমুদুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে প্রকাশিত ‘স্কাইপ কেলেঙ্কারি’ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি দেশের ইনভেস্টিগেশন নিউজগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। এ ঘটনার কারণে তিনি আইসিটি অ্যাক্টের প্রথম আসামি হন এবং অফিসের ভিতরে দীর্ঘ চার মাস বন্দি জীবন কাটান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা ও মহানগর এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষাবিদ, সরকারি কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমের ব্যক্তিত্বরা। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো. হায়দার আলী, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কলামিস্ট এম আব্দুল্লাহ, এনসিপির কুমিল্লা মহানগর যুগ্ম-সমন্বয়ক রাশেদুল হাসানসহ অন্যান্য বিশিষ্টজনরা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ‘আমার দেশ’ কুমিল্লা প্রতিনিধি এম হাসান।