প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
আজকের এই দিনে আমরা আবরার ফাহাদের স্মরণে দাঁড়িয়েছি, যিনি শুধু একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন না, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব ও অধিকার রক্ষায় এক প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘দিল্লি না ঢাকা’—এই স্লোগানটি এক সময় দেশে গভীর প্রভাব ফেলেছিল এবং সেটাই ছিল আবরার ফাহাদের হত্যার প্রতিবাদের মিছিলের মূল মন্ত্র। সেই দিন থেকে আবরারের দেখানো পথেই আমাদের রাজনীতি এগিয়ে চলছে, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি ভারতের আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসন বিরোধিতার পথে অবিচল।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আবরার ফাহাদ ও অন্যান্য শহীদদের স্মরণ আমাদের রাজনৈতিক আন্দোলনের মেরুদণ্ড। ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াই ও গত ১৬ বছরে যারা গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই আমরা দেশের ভবিষ্যত নির্মাণে কাজ করছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আবরার ফাহাদ বুয়েটের মেধাবী ছাত্র ছিলেন, যাকে রাজনৈতিক ভিন্নমত ও দেশের স্বার্থ রক্ষার আহ্বানে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছিল। তার অপরাধ ছিল দেশের স্বার্থ রক্ষা করা, ফেনী নদী চুক্তির মতো অনুচিত ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।
২০১৯ সালের আবরার হত্যাকাণ্ড এবং এর প্রতিবাদে সারা দেশে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শক্তিশালী আধিপত্যবিরোধী ও সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। নাহিদ ইসলাম এ ঘটনাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, আবরারের মৃত্যু রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে এক মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং ভারতের আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনের পুনরুত্থানে নতুন উদ্দীপনা জাগিয়েছে।
কবর জিয়ারতের সময় আবরার ফাহাদের পরিবারসহ জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র ও যুগ্ম আহ্বায়করা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও এনসিপির অঙ্গসংগঠন যুব শক্তি ও শ্রমিক উইংয়ের নেতৃবৃন্দ এবং কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরাও অংশগ্রহণ করেন। নাহিদ ইসলাম ও এনসিপি নেতৃত্বের এই মিলনসভার মাধ্যমে একটি স্পষ্ট বার্তা প্রেরণ করা হয় যে, আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগ ও তার মৃত্যুর প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলন যেন বাংলাদেশের রাজনীতিকে আরও গণতান্ত্রিক, স্বাধীনচেতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তোলে।
আবরার ফাহাদের স্মৃতি আজও তরুণ সমাজকে অনুপ্রাণিত করছে দেশের জন্য কথা বলার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ও দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় কঠোর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকার জন্য। নাহিদ ইসলাম ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতৃত্ব এ প্রতিজ্ঞাকে সামনে রেখে আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাবেন বলে জানান।