সর্বশেষ :
প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ খাতে বরাদ্দ কমায় উদ্বেগ তামাকমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে বাধা হতে পারে প্রস্তাবিত বাজেট: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগে গতি ফিরবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নয়, লাইসেন্স বাতিল হয়েছে প্যাথলজি সেন্টারের: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা খুলনায় গুলিতে নিহত বিএনপি নেতা ঢাকাইয়া রফিক, এলাকায় চাঞ্চল্য বাজেটে ঘাটতি ও ঋণনির্ভরতার ঝুঁকি, সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন জামায়াতের রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারে জেলা কমিটি বাজেটে সংস্কার দেখছেন না নাহিদ ইসলাম দেশকে সম্মানে ফেরানোর অঙ্গীকার মঈন খানের চলে গেলেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী ব্রিতো

গুম মামলায় ১০ সেনা কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে হাজির

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬০ বার
গুম মামলায় ১০ সেনা কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে হাজির, বিচার প্রক্রিয়া তীব্র

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গুম ও নির্যাতনের একটি সংবেদনশীল মামলায় ১০ জন সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বুধবার (০৩ ডিসেম্বর) অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই শুনানিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারেক আহমদে সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরোয়ার বিন কাসেমসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

শুনানিকে ঘিরে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আদালতে হাজির করা সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

এই মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন এবং র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ। পলাতক আসামিদের পক্ষে আদালতে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ করা হয়েছে।

শুনানিতে আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে এই সেনা কর্মকর্তারা গুম, খুন ও বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়াও আশুলিয়ার ৬ মরদেহ পোড়ানো এবং ৭ জনকে হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণের দ্বিতীয় দিনও আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এইদিন হাজির করা হয়েছে মামলার গ্রেফতারকৃত ৯ আসামিকে। তাদের মধ্যে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা শেখ আফজালুল এ মামলার রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও অভিযোগ গঠন প্রক্রিয়ার সময় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনও ধরনের বাধা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।

মামলাটি দেশের বিচারব্যবস্থার কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে। কারণ এটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্য ও প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে। ট্রাইব্যুনালের এ ধরনের কার্যক্রম জনগণের কাছে বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এছাড়াও মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থার মধ্যে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের নথি তৈরি হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে, এই মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য উঠে আসছে যা দেশের প্রগতিশীল বিচার ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মামলাটি শুধু সেনা কর্মকর্তাদের নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটকেও প্রকাশ করছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মানবাধিকার সংরক্ষণ নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এ ধরনের অভিযোগ ও প্রমাণ কার্যকরভাবে বিচার ব্যবস্থায় প্রতিফলিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত