অষ্টম শ্রেণি থেকে ইবতেদায়ি ও দাখিল বৃত্তি: প্রস্তুতি, নিয়ম ও নির্দেশনার সব তথ্য

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১২৫ বার
অষ্টম শ্রেণি থেকে ইবতেদায়ি ও দাখিল বৃত্তি: প্রস্তুতি, নিয়ম ও নির্দেশনার সব তথ্য

প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জুড়ে শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা ও প্রস্তুতি আজ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, কারণ দেশের হাজার হাজার বালক-বালিকা আগামীকাল রোববার থেকে বৃত্তি পরীক্ষার শুরু নিয়ে আত্মবিশ্বাস ও উদ্বেগ দুইয়ের একসঙ্গে অনুভূত করছেন। সরকারি বিদ্যালয় সচিবালয়, স্থানীয় শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এই বৃত্তি পরীক্ষা একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ, যা প্রতিভাবান ছাত্র-ছাত্রীদের সক্ষমতা যাচাই করে এবং ভালো শিক্ষাগত ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরি করে দেয়।

এই বৃত্তি পরীক্ষা আগামীকাল রোববার (২৮ ডিসেম্বর) থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। এবারে তিনটি শ্রেণির জন্য আলাদা আলাদা পরীক্ষা রুটিন নির্ধারণ করা হয়েছে; অষ্টম শ্রেণির “জুনিয়র বৃত্তি”, পঞ্চম শ্রেণির “ইবতেদায়ি বৃত্তি” ও অষ্টম শ্রেণির “দাখিল বৃত্তি” পরীক্ষা একইসঙ্গে বাস্তবায়িত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে; তবে ইবতেদায়ি বৃত্তির সময় সার্বিক পরীক্ষা আড়াই ঘণ্টার জন্য নির্ধারণ থাকায় তা দুপুর সাড়ে ১২টায় সমাপ্ত হবে।

অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় পাঁচটি বিষয়ে মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে, যা শিক্ষার্থীদের মৌলিক জ্ঞান, বিশ্লেষণ, চিন্তাশক্তি ও বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা যাচাই করবে। প্রথম দিন রোববার বাংলা ভাষার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ভাষা দক্ষতা, ব্যাকরণ, বাক্যগঠন, রচনা ও বোধগম্যতার ওপর প্রশ্ন সমন্বিত থাকবে। দিনগুলি অনুসারে ২৮ ডিসেম্বর ইংরেজি, ৩০ ডিসেম্বর গণিত এবং ৩১ ডিসেম্বর বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয় পরীক্ষা নেওয়া হবে। বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয় প্রতিটিতে ১০০ নম্বর নির্ধারণ থাকলেও বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৫০–৫০ নম্বরের পরীক্ষা মিলিয়ে মোট ১০০ নম্বরের প্রশ্নপত্র থাকবে। প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানভিত্তিক ও ধারণাশক্তি উভয় দিক থেকে মূল্যায়ন করবে।

ইবতেদায়ি বৃত্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও পরীক্ষার্থীরা আন্তরিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন। রুটিন অনুযায়ী, আগামীকাল রোববার কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ বিষয় নিয়ে পরীক্ষা শুরু হবে। পরের দিন ২৯ ডিসেম্বর আরবি ভাষার প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, ৩০ ডিসেম্বর বাংলা ও ইংরেজি এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বর গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীরা প্রতিটি বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথভাবে অংশগ্রহণ করবে এবং কাগজপত্রে তাদের লিখনশৈলী ও উত্তরের মান বিচারকগণ নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করবেন।

আরবি ভাষা ও ইসলামী বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষায় অগ্রণী এক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ম শ্রেণির দাখিল বৃত্তি পরীক্ষাও একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। এই পরীক্ষার প্রথম দিনে রোববার কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং আকাইদ ও ফিকহ বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরের দিনে ২৯ ডিসেম্বর আরবি ১ম ও ২য় পত্র, ৩০ ডিসেম্বর বাংলা ও ইংরেজি এবং ৩১ ডিসেম্বর গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ইসলামিক স্টাডিজ ও সাধারণ বিষয় সমন্বিত করায় মূলধারার শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় জ্ঞানে পারদর্শিতা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন।

পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও পরীক্ষা বাস্তবায়নকারী প্রতœষ্ঠান কর্তৃপক্ষ থেকে বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যাতে পরীক্ষার দিন কোনো রকম অনিয়ম বা পরিস্থিতিগত বাধা সৃষ্টি না হয়। পরীক্ষার্থীদের বলা হয়েছে, পরীক্ষার শুরু হওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে বসার ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে হবে। সময়নিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই ধীরগতি বা দেরি হলে অবশ্যই রেজিস্টার খাতায় সময়সহ তথ্য লিখে প্রবেশের অনুমতি নিতে হবে।

পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে মোবাইল ফোন বা যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে নিয়ে আসা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এ নিয়মনীতির লক্ষ্য হলো পরীক্ষার সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা, অসদুপায় বা অনৈতিক সুবিধা বন্ধ করা। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই তাদের ওএমআর ফরমে বলপেনের মাধ্যমে সঠিকভাবে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর আর বিষয় কোড লিখে বৃত্ত ভরাট করতে হবে। যে কোনো ভুল বা অসতর্কতা ভবিষ্যতে মূল্যায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছেন।

পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের পর কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না। এটি পরীক্ষার ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বরপূর্ণ। পাশাপাশি, পরীক্ষা আরম্ভের এক ঘণ্টা অতিক্রান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র গ্রহণ করা হবে না। এই নিয়মের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থী যেন পুরো সময়টুকু কাজে লাগিয়ে নিজের সর্বোচ্চ দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারে। এছাড়া, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে প্রাকৃতিক কোনো জরুরি পরিস্থিতি ব্যতীত কোনো পরীক্ষার্থীকে কক্ষের বাইরে যেতে অনুমতি দেওয়া হবে না।

পরীক্ষার সময় উপস্থিত ইনভিজিলেটরগণ সকল নিয়মনীতির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন। পরীক্ষার শেষ হবার পূর্ব পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্র ত্যাগ করতে দেওয়া হবে না, যতক্ষণ না ইনভিজিলেটরগণ উত্তরপত্র সংগ্রহের জন্য নির্দেশ দেন। এই সময়ে উপস্থিতি খাতায় স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক, যাতে পরীক্ষার আইনগত প্রমাণ সঠিকভাবে সংরক্ষিত থাকে।

পরীক্ষার শেষের দশ মিনিট আগে সতর্ক ঘণ্টা বজানো হবে, যাতে পরীক্ষার্থীরা বিষয়ভিত্তিক উত্তর পূরণ শেষ করতে পর্যাপ্ত সময় পায় এবং শেষ মুহূর্তে ঘাবড়ে নয় সফলভাবে প্রশ্নপত্রের উত্তরগুলি সাজিয়ে ফেলতে পারে। সমাপ্তি ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে ইনভিজিলেটরগণ উত্তরপত্র সংগ্রহ শুরু করবেন এবং সেই মুহূর্তেই শিক্ষার্থীরা তাদের জালিয়াতিমুক্ত ও নিয়মমাফিক উত্তরপত্র জমা দিতে পারবে।

এবার বৃত্তি পরীক্ষায় অতিরিক্ত উত্তরপত্র বা লুজশীট ব্যবহারের সুযোগ থাকলে, পরীক্ষার্থীদের সতর্কভাবে নাম, রোল নম্বর, কেন্দ্র ও বিষয় কোড সঠিকভাবে লিখে দিতে হবে। অতিরিক্ত উত্তরপত্র নেওয়ার সময় ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর উপস্থিত আছে কি না তা যাচাই করে নিতে হবে। পরীক্ষার শেষে মূল উত্তরপত্রের কভার পেজে অতিরিক্ত লুজশীটের সংখ্যা লিখে দেওয়া আবশ্যক। লузশীটে লেখা উত্তরগুলো ক্রমানুসারে সাজিয়ে স্ট্যাপল বা সেলাই করে জমা দিতে হবে যাতে যে কোনো বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নে বিভ্রান্তি না আসে।

এভাবে কঠোর নিয়মানুগ অনুসরণ করলে এবং পরীক্ষার্থীরা তাদের সর্বোচ্চ জ্ঞান ও নৈতিক দিক থেকে প্রস্তুত হলে, এই বৃত্তি পরীক্ষা তাদের শিক্ষা জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের শুরু হবে। দেশের প্রতিটি কোণে পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে শিক্ষকমন্ডলী সবাই শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা ও উৎসাহ প্রদান করছেন যাতে তারা আত্মবিশ্বাসীভাবে এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত