সর্বশেষ :
আইপিএল ফাইনালে মুখোমুখি আরসিবি-গুজরাত পিএসজির শিরোপা অক্ষুণ্ণ, আর্সেনালের টাইব্রেকার দুঃখ ইরান যুদ্ধের সুবর্ণ সুযোগে তুরস্কে এরদোয়ানের ক্ষমতা সুসংহতকরণের গল্প চীনের আপত্তি উপেক্ষা করে সামরিক শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা জাপানের ইউরোপসেরা পিএসজির শিরোপা উদযাপনে ফ্রান্সে রণক্ষেত্র দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জামায়াত-এনসিপির অর্থের উৎস নিয়ে রাশেদ খাঁনের তীক্ষ্ণ কটাক্ষ ২৫ কোটি টাকা ‘নিয়ে যাওয়ার’ অভিযোগে মুখ খুললেন আসিফ মাহমুদ জেলা প্রশাসকের কাছে ১০ কোটি টাকার ব্যাখ্যা চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে কিনসাসা, ঢাকার বাতাস এখনো অস্বাস্থ্যকর

কোলন ক্যানসার: প্রাথমিক লক্ষণ জানলে বাঁচতে পারে জীবন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৬ বার
কোলন ক্যানসার: প্রাথমিক লক্ষণ জানলে বাঁচতে পারে জীবন

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নীরবে শরীরে বাসা বাঁধে, শুরুতে তেমন কোনো লক্ষণও দেখা যায় না—কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভয়ংকর রূপ নেয় কোলন ক্যানসার। আধুনিক জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে বিশ্বজুড়েই বাড়ছে এই ক্যানসারের ঝুঁকি। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে কোলন ক্যানসার বলতে মলাশয় বা বৃহদান্ত্রের ক্যানসারকে বোঝানো হয়, যা কোলোরেকটাল ক্যানসার নামেও পরিচিত। সচেতনতা ও প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে জানাই পারে এই মরণব্যাধির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে।

পরিপাকতন্ত্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কোলন বা বৃহদান্ত্র। এটি মূলত খাদ্য থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় উপাদান শোষণ করে এবং শরীর থেকে বর্জ্য বের করে দেওয়ার জন্য মল তৈরি করে। গঠনগতভাবে কোলন একটি লম্বা টিউবের মতো, যার দৈর্ঘ্য প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে প্রায় চার থেকে ছয় ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। কোলনের প্রথম অংশ সিকাম, যা পেটের ডান নিচের দিকে অবস্থিত এবং ক্ষুদ্রান্ত্রের শেষ অংশ ইলিয়ামের সঙ্গে যুক্ত। সিকামের পর কোলন চারটি অংশে বিভক্ত—এসেনডিং, ট্রান্সভারস, ডিসেনডিং ও সিগময়েড কোলন। এই পুরো ব্যবস্থার কোথাও অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধি পেলে তা ধীরে ধীরে কোলন ক্যানসারে রূপ নিতে পারে।

নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই কোলন ক্যানসার দেখা গেলেও কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নারীদের ক্ষেত্রে কোলোরেকটাল ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি, আর পুরুষদের মধ্যে রেকটাল ক্যানসার বেশি দেখা যায়। সাধারণত ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিরা এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কম বয়সীদের মধ্যেও এই ক্যানসারের হার বাড়ছে, যা বিশেষজ্ঞদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

কোলন ক্যানসারের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। যাদের পরিবারে কোলন ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি। একইভাবে যাঁদের আগে স্তন, জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসার হয়েছে, তাঁদের মধ্যেও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।

জীবনযাপনের ধরন কোলন ক্যানসারের ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা রাখে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এই রোগের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে পড়ে। নিয়মিত ফাস্ট ফুড, প্রসেসড খাবার, ফ্রোজেন খাদ্য, অতিরিক্ত তেল, চর্বি ও মশলাযুক্ত খাবার গ্রহণ কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। যাঁদের ওজন বেশি, যাঁরা ধূমপান বা মদ্যপানে অভ্যস্ত এবং নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, তাঁদের মধ্যেও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত খাবারের অভাব এবং দীর্ঘদিন ধরে অন্ত্রে পলিপ থাকা অবস্থাও কোলন ক্যানসারে রূপ নিতে পারে।

এই ক্যানসারের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো—প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। ফলে রোগটি নীরবে শরীরে বেড়ে ওঠে। তবে ধীরে ধীরে কিছু উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে, যেগুলো অবহেলা করলে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। কোলন ক্যানসারের প্রাথমিক ও মধ্যবর্তী পর্যায়ে রোগীদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য বা হঠাৎ ঘনঘন মলত্যাগের প্রবণতা দেখা দিতে পারে। কখনো ডায়রিয়া, আবার কখনো অল্প অল্প করে পায়খানা হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা যায়।

মলের রং বা স্বভাবের পরিবর্তন কোলন ক্যানসারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত। অনেক সময় পায়খানার সঙ্গে রক্ত বের হতে পারে, যা অনেকেই পাইলস বা সাধারণ কোনো সমস্যার ভেবে উপেক্ষা করেন। পায়খানা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যাওয়া, পেটের ভেতরে অস্বস্তি, বারবার পেটব্যথা বা গ্যাসের সমস্যা বেড়ে যাওয়াও এই রোগের লক্ষণের মধ্যে পড়ে। পাশাপাশি বমিভাব, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, শরীরে লোহিত রক্তকণিকার অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা, দুর্বলতা ও অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করাও কোলন ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যানসার চূড়ান্ত পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত অনেক সময় এসব লক্ষণ খুব মৃদু থাকে বা একেবারেই প্রকাশ পায় না। এ কারণেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ বয়সে স্ক্রিনিং অত্যন্ত জরুরি। কোলন ক্যানসার নির্ণয়ের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে কোলনোস্কোপি। এ ছাড়া বেরিয়াম এনিমা এক্সরে পরীক্ষার মাধ্যমেও বৃহদান্ত্রের ভেতরের অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে।

রোগ নির্ণয়ের পর চিকিৎসার ধরন নির্ভর করে ক্যানসারের পর্যায়, রোগীর শারীরিক অবস্থা ও অন্যান্য জটিলতার ওপর। চিকিৎসক প্রথমে রোগী ও তাঁর পরিবারের চিকিৎসা ইতিহাস বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেন। এরপর পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব চিকিৎসার সমন্বয়ও করা হয়। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর জন্য বিশেষ ডায়েট চার্ট নির্ধারণ করা হয় এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মেডিটেশন বা কাউন্সেলিংয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়।

চিকিৎসকদের মতে, কোলন ক্যানসার যদি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে, তাহলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই বয়স ৫০ পেরোলেই নিয়মিত স্ক্রিনিং করানো, পারিবারিক ইতিহাস থাকলে আরও আগেই পরীক্ষা শুরু করা এবং শরীরের কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সচেতন জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

নীরব ঘাতক এই ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সচেতনতা। শরীরের সংকেতগুলোকে অবহেলা না করে সময়মতো পদক্ষেপ নিলেই অনেক ক্ষেত্রে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। কোলন ক্যানসার মানেই মৃত্যুদণ্ড নয়—সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসাই পারে জীবনকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত