সর্বশেষ :
আইপিএল ফাইনালে মুখোমুখি আরসিবি-গুজরাত পিএসজির শিরোপা অক্ষুণ্ণ, আর্সেনালের টাইব্রেকার দুঃখ ইরান যুদ্ধের সুবর্ণ সুযোগে তুরস্কে এরদোয়ানের ক্ষমতা সুসংহতকরণের গল্প চীনের আপত্তি উপেক্ষা করে সামরিক শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা জাপানের ইউরোপসেরা পিএসজির শিরোপা উদযাপনে ফ্রান্সে রণক্ষেত্র দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জামায়াত-এনসিপির অর্থের উৎস নিয়ে রাশেদ খাঁনের তীক্ষ্ণ কটাক্ষ ২৫ কোটি টাকা ‘নিয়ে যাওয়ার’ অভিযোগে মুখ খুললেন আসিফ মাহমুদ জেলা প্রশাসকের কাছে ১০ কোটি টাকার ব্যাখ্যা চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে কিনসাসা, ঢাকার বাতাস এখনো অস্বাস্থ্যকর

হজমশক্তি বাড়াতে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের গুরুত্ব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮৩ বার
হজমশক্তি বাড়াতে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের গুরুত্ব

প্রকাশ: ২১  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দৈনন্দিন জীবনে সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে হজমশক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাপন, অনিয়মিত খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি ঝোঁক এবং মানসিক চাপের কারণে অনেকেই হজমজনিত সমস্যায় ভুগছেন। পেটে গ্যাস, পেট ফাঁপা, বুকজ্বালা, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা এখন খুবই সাধারণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সার্বিক জীবনমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হজমশক্তি ভালো রাখতে শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। সুষম খাবারের মধ্যে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক প্রোটিন শরীরের কোষ মেরামত ও শক্তি জোগানোর পাশাপাশি পরিপাকতন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। এ কারণে যাদের নিয়মিত হজমের সমস্যা রয়েছে, তারা খাদ্যতালিকায় কিছু সহজলভ্য ও উপকারী প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যুক্ত করতে পারেন।

হজমশক্তি বাড়াতে যে খাবারগুলোর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, তার মধ্যে ঘোল একটি অত্যন্ত কার্যকর পানীয়। দই থেকে তৈরি এই ঘোল শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং পরিপাকতন্ত্রকে শান্ত রাখে। ঘোলে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের ক্ষতিকর জীবাণু কমাতে সাহায্য করে, ফলে গ্যাস ও বদহজমের সমস্যা অনেকটাই কমে আসে। গরমের দিনে নিয়মিত ঘোল পান করলে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে।

মাছ হলো সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর একটি প্রোটিন উৎস। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। নিয়মিত মাছ খেলে অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমে। তবে ভাজা মাছের পরিবর্তে সেদ্ধ, ঝোল বা হালকা রান্না করা মাছ হজমের জন্য বেশি উপকারী।

দই হজমশক্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে পরিচিত ও জনপ্রিয় খাবারগুলোর একটি। এতে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়াকে সক্রিয় রাখে, যা খাবার ভাঙতে এবং পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে। নিয়মিত দই খেলে পেটের সমস্যা কমে এবং দীর্ঘদিনের বদহজম থেকেও স্বস্তি পাওয়া যায়। টক দই বা ঘরে তৈরি দই হজমের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি উপকারী বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।

পনির বা ছানা থেকেও ভালো মানের প্রোটিন পাওয়া যায়। তাজা পনির হজমে সহায়ক এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করে এবং পেটের জ্বালাপোড়া প্রশমিত করে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে পনির খেলে হজম প্রক্রিয়া ধীরে ও স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হয়, ফলে পেট ভারী লাগার প্রবণতা কমে।

ডিমকে বলা হয় সম্পূর্ণ প্রোটিনের অন্যতম উৎস। এতে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে হজমের সুবিধার জন্য ডিম ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া উচিত। সেদ্ধ ডিম বা হালকা ঝোল করা ডিম সহজে হজম হয় এবং পেটে গ্যাসের সমস্যা তুলনামূলকভাবে কম সৃষ্টি করে। সকালে নাশতায় ডিম খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং হজম প্রক্রিয়াও সুষ্ঠুভাবে চলে।

অঙ্কুরিত মুগ ডাল হজমশক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষভাবে উপকারী। অঙ্কুরোদ্গমের ফলে ডালের পুষ্টিগুণ আরও বাড়ে এবং তা সহজে হজমযোগ্য হয়ে ওঠে। এতে থাকা প্রোটিন, আঁশ ও বিভিন্ন ভিটামিন অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। লেবু, সামান্য লবণ ও হালকা মসলা দিয়ে অঙ্কুরিত মুগ খেলে এটি যেমন সুস্বাদু হয়, তেমনি হজমের জন্যও কার্যকর ভূমিকা রাখে।

তবে শুধু এসব খাবার খেলেই হজমের সব সমস্যা দূর হবে—এমনটি ভাবা ঠিক নয়। খাবারের পরিমাণ, খাওয়ার সময়, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমও হজমশক্তির ওপর বড় প্রভাব ফেলে। ধীরে ধীরে খাবার চিবিয়ে খাওয়া, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং রাতে ভারী খাবার না খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে প্রোটিনসমৃদ্ধ এসব খাবারের উপকারিতা আরও ভালোভাবে পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হজমশক্তি ভালো থাকলে শরীর নিজেই অনেক রোগ প্রতিরোধ করতে পারে। তাই ওষুধের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে খাদ্যাভ্যাসে সচেতন পরিবর্তন আনা জরুরি। সহজলভ্য ও পুষ্টিকর প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় যুক্ত করলে ধীরে ধীরে হজমজনিত সমস্যা কমে আসবে এবং শরীর থাকবে আরও সুস্থ ও কর্মক্ষম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত