সর্বশেষ :
প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ খাতে বরাদ্দ কমায় উদ্বেগ তামাকমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে বাধা হতে পারে প্রস্তাবিত বাজেট: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগে গতি ফিরবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নয়, লাইসেন্স বাতিল হয়েছে প্যাথলজি সেন্টারের: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা খুলনায় গুলিতে নিহত বিএনপি নেতা ঢাকাইয়া রফিক, এলাকায় চাঞ্চল্য বাজেটে ঘাটতি ও ঋণনির্ভরতার ঝুঁকি, সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন জামায়াতের রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারে জেলা কমিটি বাজেটে সংস্কার দেখছেন না নাহিদ ইসলাম দেশকে সম্মানে ফেরানোর অঙ্গীকার মঈন খানের চলে গেলেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী ব্রিতো

চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের গোড়া কেটে দেব: শফিকুর রহমান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৭ বার
চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের গোড়া কেটে দেব: শফিকুর রহমান

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শনিবার (৩১ জানুয়ারি) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় নির্বাচনী জনসমাবেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের গোড়া কেটে দিতে চাই, তবে এর অর্থ কোনো ভয় প্রদর্শন নয়। যারা পূর্বে এই ধরনের অপরাধ করেছেন, তারা যদি নিজেদের সংশোধন করে সৎ পথে ফিরে আসেন, তাহলে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ পাবেন।

শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ এখন একটি বড় পরিবর্তন চায়। আগামী নির্বাচনের পর যে পরিবর্তন আসবে, তা যুব সমাজের আকাঙ্ক্ষা, মায়েদের নিরাপত্তা এবং দেশের সার্বিক সম্মানকে কেন্দ্র করে বাস্তবায়িত হবে। আগামীর বাংলাদেশে আর কোনো আধিপত্যবাদ, ফ্যাসিবাদ বা দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার মেনে নেওয়া হবে না। আমরা একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে চাই।” তিনি আরও যোগ করেন, “সাড়ে পনেরো বছরে যারা মজলুম ছিলেন, আগামীর বাংলাদেশ তাদের পক্ষেই থাকবে। জামায়াতে ইসলামী কোনো একক দলীয় শাসন কায়েম করতে চায় না। আমাদের লক্ষ্য ১৮ কোটি মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং দেশের সকল জনগণকে বিজয়ের অংশীদার করে তোলা।”

তিনি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেন, “যারা মানুষের সম্পদ, জীবন ও সম্মানে আঘাত করেছে, যারা মায়েদের ইজ্জতে হাত দিয়েছে, তারা কি দেশের মায়েদের নিরাপদ রাখবে? মা ও বোনেরা এখন এগারো দলীয় জোটকে আস্থার ঠিকানা হিসেবে দেখছে। এজন্য কিছু মহল অস্থির হয়ে উঠেছে। যদি কেউ আর কোনো অসদাচরণ করে, যুবসমাজ প্রয়োজনে আবারও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।”

চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক তার জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতের পূর্ণ নিরাপত্তা ভোগ করবে। হালাল রুজির মাধ্যমে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকবে সবাই। যারা একসময় মজলুম ছিলেন, এখন কেন জালিম হলেন? এসব অপকর্ম ছেড়ে দিয়ে জাতিকে কষ্ট দেওয়া বন্ধ করুন। যারা সংশোধন হয়ে ফিরে আসবেন, তাদের আমরা বুকে আলিঙ্গন করব। যারা সংশোধন করবে না, তাদের জন্য আমাদের কোনো মায়া দয়া থাকবে না।”

সরকারি চাকরিজীবীদের বর্তমান কষ্টের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, “বর্তমান বেতনে অনেকেরই চলতে কষ্ট হয়। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে একটি জনকল্যাণমূলক সরকার গঠন করবে এবং মানুষের কল্যাণে যা প্রয়োজন, তা করা হবে।” কওমি মাদরাসা প্রসঙ্গেও গুজব নাকচ করে তিনি বলেন, “কওমি অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব মামুনুল হক সাহেব আমাদের পাশে রয়েছেন। কওমি মাদরাসা বন্ধ করার কোনো প্রশ্নই আসে না। বরং এর উৎকর্ষ সাধনের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

যুব সমাজের ভূমিকা তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “যুবকরা বেকার ভাতার জন্য যুদ্ধ করেনি, তারা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য বুক পেতে দিয়েছিল। জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। বেকার ভাতা গল্প শোনানোর সময় শেষ, এবার যুবকদের হাতে হাতে সম্মানের কাজ তুলে দেওয়ার সময়। তারা গর্ব করে বলবে—‘আমিই বাংলাদেশ’। আগামীর বাংলাদেশ হবে তারুণ্যের এবং যৌবনদীপ্ত বাংলাদেশ।” তিনি জাতিকে অতীতের দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং ঐক্যের সরকার গঠনের অঙ্গীকার করেন।

ক্ষমতায় গেলে সহযোগিতার শর্তও তিনি স্পষ্ট করেন। শফিকুর রহমান বলেন, “যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তারা অবদান রাখতে পারেন, তবে তিনটি শর্ত মানতে হবে। কোনো দুর্নীতি, ব্যাংক ডাকাতি, শেয়ার বাজার লুট বা জনগণের টাকা আত্মসাৎ করা যাবে না। সবার জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতা বিচারের ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে হবে।” এই শর্তগুলো মানলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এ দেশে সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। কেউ কারো ধর্ম পালনে বাধা দিতে পারবে না। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়, তাই শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে।”

জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। এতে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মুহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেটসহ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত