উত্তেজনার মধ্যেই গোপালগঞ্জের পথে এনসিপি নেতারা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৮২ বার
উত্তেজনার মধ্যেই গোপালগঞ্জের পথে এনসিপি নেতারা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সামগ্রিক রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আজ বুধবার সকালে বরিশাল থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের নেতৃত্বে রয়েছেন দলের আহ্বায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, যিনি গত তিনদিন ধরে বরিশাল অঞ্চলে ধারাবাহিক ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছিলেন। আজ তাদের পথনির্ধারিত গন্তব্য গোপালগঞ্জ—এবং সেটিকে ঘিরেই রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে উঠেছে।

সকাল ৭টায় বরিশালে নাস্তা শেষে সার্কিট হাউজে সংক্ষিপ্ত বিশ্রামের পর সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে নাহিদ ইসলাম ও তার সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় নেতারা কোটালীপাড়া হয়ে সড়কপথে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসানাত আব্দুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন এবং সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা।

তবে এই যাত্রার পথ একেবারেই শান্তিপূর্ণ নয়। গোপালগঞ্জে প্রবেশপথে এবং সদর উপজেলার একাধিক এলাকায় ইতোমধ্যেই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘাটিয়াগড় চরপাড়া এলাকায় টহলরত পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জে আজ বিকেলে একটি পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরোধিতা এবং একাধিক সহিংস ঘটনার পর পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠা থাকলেও এনসিপি নেতারা তাদের ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক আবু সাইদ মূসা জানান, “নেতৃবৃন্দ সকাল পৌনে ১১টায় সার্কিট হাউজ ত্যাগ করেছেন এবং গোপালগঞ্জে প্রবেশের পথে অবস্থান নিচ্ছেন। আশা করছি, সরকার সংযত আচরণ করবে এবং শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় বাধা দেবে না।”

অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ জেলাজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরের প্রবেশপথগুলোতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের চৌকি, মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বিজিবি এবং গোয়েন্দা নজরদারি।

স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গোপালগঞ্জ ঐতিহ্যগতভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র হওয়ায় এনসিপির এই পদযাত্রা নিছক কর্মসূচির চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্য বহন করছে। একই সঙ্গে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়াও এই উত্তেজনার মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির এই ধরনের ঘনঘন জেলা সফর ও জনসংযোগ কার্যক্রম আগামী জাতীয় নির্বাচনের পূর্বাভাস হতে পারে, যার কারণে ক্ষমতাসীন মহলের পক্ষ থেকে প্রতিরোধমূলক নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এই মুহূর্তে গোপালগঞ্জজুড়ে সাধারণ মানুষও আতঙ্ক ও কৌতূহলের মধ্যে রয়েছেন—জাতীয় রাজনীতির অন্যতম উত্তপ্ত অধ্যায় যেন চোখের সামনে বাস্তব হয়ে ধরা দিচ্ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টায় এনসিপি নেতাদের গন্তব্যে পৌঁছানো ও ঘোষিত সভার বাস্তবায়ন ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নির্ধারণ করে দেবে পরবর্তী রাজনীতির গতিপথ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত