বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুর গুলিতে কক্সবাজারি জেলে নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৯ বার
কক্সবাজারে জলদস্যু জেলের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় বঙ্গোপসাগরের পানি আবারও রক্তাক্ত হলো। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মাছ ধরতে গিয়ে জলদস্যুদের গুলিতে কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের মনছুর আলী হাজির পাড়ার মৃত মো. বাদশার ছেলে, ১৭ বছর বয়সী শাহাদত হোছাইন মারাত্মকভাবে আহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাছ ধরার সময় দস্যুদের হামলার শিকার হয়ে তিনি সাগরে পড়ে যান এবং রাতে উপকূলে ফেরার পর চিকিৎসার জন্য কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। দুঃখজনক হলেও তিনি সেখানে মারা যান।

জেলেরা জানান, ফিশিং বোট মালিক নাছির উদ্দিনের মালিকানাধীন বোটে মোট ২০ জন মাঝি ও মাল্লা মাছ ধরতে সাগরে যান। দুপুর ২টার দিকে বোটটি কুতুবদিয়ার পশ্চিম অংশের সমুদ্রে পৌঁছালে জলদস্যুরা হঠাৎ হামলা চালায়। বোটে উঠতে না পেরে দস্যুরা বারবার গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে গুলিতে শাহাদত গুরুতর আহত হন। অন্যান্য জেলেরা আতঙ্কিত হয়ে চরম বিপদে পড়ে।

নাছির উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমাদের মাছ ধরার সময় হঠাৎ করেই দস্যুরা এসে বোটে গুলি চালায়। শাহাদত মারাত্মকভাবে আহত হয়। আমরা রাত সাড়ে ১১টার দিকে বোট উপকূলে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হই। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না।”

স্থানীয়রা জানান, বঙ্গোপসাগরের ওই এলাকায় সম্প্রতি জলদস্যুদের কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলেরা মাছ ধরার জন্য প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিচ্ছে। তারা বলছেন, দিন দিন সাগরে মাছ ধরা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। জলদস্যুদের হামলা শুধু প্রাণহানি নয়, বরং জেলেদের জীবিকার ওপরও ধাক্কা দিচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন এবং কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত জলদস্যুদের খুঁজে বের করতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। তারা বলছেন, সমুদ্র সুরক্ষায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তবে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বঙ্গোপসাগরের কিছু অংশে জলদস্যুদের সক্রিয় উপস্থিতি এলাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। মাছ ধরা কেবল জেলেদের জীবিকা নয়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতার মাধ্যমে সমুদ্র এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।

শাহাদত হোছাইনের পরিবার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “এ ধরনের ঘটনা আমাদের জন্য ভয়ঙ্কর শোক। আমরা চাই হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। সন্তান আমাদের ঘর-বাড়ি ও জীবিকার আশা ছিল।” এলাকার মানুষও একই দাবি করছেন। তারা চান, সমুদ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করা হোক যেন কেউ যেন আর জেলে জীবন নিয়ে এমন ঝুঁকি নিতে না হয়।

কুতুবদিয়া উপকূলবর্তী এলাকায় প্রায়ই জলদস্যুদের হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এই ধরনের প্রাণঘাতী ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে তৎপরতার অভাব থাকে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন। কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে এবং জেলেদের নিরাপদ মাছ শিকারের জন্য বিশেষ নজরদারি, সতর্কতা ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে।

এ ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রতীয়মান হয়েছে, সমুদ্র নিরাপত্তা শুধু জেলেদের নয়, দেশের অর্থনৈতিক ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও জরুরি। স্থানীয় সম্প্রদায়, প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী একযোগে কাজ না করলে এই ধরনের বিপজ্জনক পরিস্থিতি পুনরায় ঘটতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত