প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেল ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা এবং নতুন চালানের সীমিততা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতেও চাপ তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের পরিকল্পনা, দেশের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয় নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাহত না হতে দেওয়ার জন্য আংশিক অনলাইন ক্লাস চালু করার বিষয়ে।
সরকারি সূত্র জানায়, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনলাইন ক্লাস আয়োজনের জন্য প্রস্তাবনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। প্রস্তাবনার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। দীর্ঘ রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটির পর গত রবিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা হলেও, জ্বালানি সংকটের কারণে ক্লাস বন্ধ বা পরীক্ষা স্থগিত করলে শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এজন্য শিক্ষকদের এবং শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সরকারি সংস্থাগুলোর কর্মসূচিও এই প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মকর্তাদের জন্য সাপ্তাহিক ছুটি বৃদ্ধির প্রস্তাবনা এবং অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন বা ওয়ার্ক ফ্রম হোম কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে, এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনও গ্রহণ করা হয়নি।
প্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ১১টি নির্দেশনা জারি করেছে। এসব নির্দেশনায় সকালবেলা অফিসে বাধ্যতামূলক ৪০ মিনিট উপস্থিতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়, অফিস কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় রবিবার বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালু করলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কোনো বড় ব্যাঘাত হবে না। পাশাপাশি এটি শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রযুক্তি নির্ভর করে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ এবং অব্যাহত শিক্ষার নিশ্চয়তা প্রদানে এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করছেন।
সর্বশেষ, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের প্রস্তুতি অনুযায়ী প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং অনলাইন ক্লাসের কার্যক্রমের প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করতে শুরু করেছে। শিক্ষার্থীরা নিজেরা যে কোনো সময় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্লাসে অংশ নিতে পারবে এবং শিক্ষকরা সরাসরি পাঠদান, প্রশ্নোত্তর এবং মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।
এতে করে, বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময় শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষার মধ্যে কোনো ধরনের ব্যাঘাত না পেয়ে তাদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে পারবে। সরকার আশা করছে, অনলাইন শিক্ষার এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলবে।