প্রকাশঃ ০২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের মাদরাসা শিক্ষাকে আরও যুগোপযোগী ও আধুনিক করার উদ্যোগে আলিয়া মাদরাসায় বাণিজ্য বিভাগ চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জাতীয় শিক্ষাক্রম কমিটির (এনসিসি) সাম্প্রতিক সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা, এনসিসির সদস্য এবং সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা সূত্রে জানা যায়, নতুন বাণিজ্য বিভাগের আওতায় শিক্ষার্থীরা অ্যাকাউন্টিং, ফিন্যান্স, মার্কেটিং ও ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে শিক্ষা লাভ করতে পারবে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে বিভাগটি চালু করা হবে। সাফল্যের পর ধাপে ধাপে দেশের সব আলিয়া মাদরাসায় এই বিভাগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাদরাসার শিক্ষার্থীরা এভাবে আধুনিক ব্যবসায়িক জ্ঞান অর্জন করতে পারবে, যা তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগের মাদরাসা অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব জানিয়েছেন, বাণিজ্য বিভাগ চালুর বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যেই প্রাথমিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, “বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই মাদরাসায় বাণিজ্য বিভাগ চালুর বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। সম্প্রতি অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা শেষে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন শিগগির পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম শুরু হবে।”
এই সিদ্ধান্ত মাদরাসা শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি সংযুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাদরাসার শিক্ষার্থীরা এখন শুধুমাত্র ধর্মীয় শিক্ষা নয়, বরং ব্যবসায়িক জ্ঞানও অর্জন করতে পারবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানে বড় সুবিধা দেবে। শিক্ষার্থীরা ব্যবসা, ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
এছাড়া, বাণিজ্য বিভাগ চালু হলে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা পেশাগত জীবনেও নতুন সুযোগের মুখোমুখি হবে। এটি শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মনির্ভর হতে সহায়তা করবে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি দেশের শিক্ষা খাতকে আধুনিক করার পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষার মান বৃদ্ধি করবে। বাণিজ্য বিভাগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষ হয়ে উঠবেন, যা তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থাকে শক্তিশালী করবে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম কমিটির সভার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিভাগের কার্যক্রম শুরু হলে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আধুনিক পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাদান পদ্ধতি নিশ্চিত করা হবে। এই নতুন পদক্ষেপ শিক্ষার সমন্বয় ঘটাবে এবং মাদরাসা শিক্ষার সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে সংযুক্ত করবে।
বিভাগটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হলেও, মন্ত্রণালয় আশা করছে, এটি দ্রুত দেশের সব আলিয়া মাদরাসায় সম্প্রসারণ পাবে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করার জন্য এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা ব্যবসা, অ্যাকাউন্টিং, ফিন্যান্স ও মার্কেটিং বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারবে।
নতুন বাণিজ্য বিভাগ শিক্ষার্থীদের শুধু শিক্ষাগত বিকাশই নিশ্চিত করবে না, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে তাদেরকে আরও শক্তিশালী করবে। এটি মাদরাসা শিক্ষার সঙ্গে চাকরিপ্রত্যাশা ও উদ্যোক্তা দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।
এই নতুন উদ্যোগ শিক্ষার আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে। দেশের মাদরাসা শিক্ষার মান ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনে প্রভাব ফেলবে। শিক্ষার্থীরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও আত্মনির্ভর হয়ে উঠতে পারবে।