গুচ্ছ ‘এ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা শুরু: আসনপ্রতি ২১ জন প্রতিদ্বন্দ্বী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৩ বার
গুচ্ছের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের ২০টি সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গঠিত গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার ‘এ’ ইউনিটের (বিজ্ঞান বিভাগ) পরীক্ষা আজ শুক্রবার সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পরীক্ষাকে ঘিরে ক্যাম্পাস ও কেন্দ্র এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর অথচ কিছুটা উদ্বেগময় পরিবেশ।

এবারের ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষায় আসন সংখ্যা রয়েছে মোট ৭ হাজার ৮৮০টি। বিপরীতে আবেদন করেছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৬২ জন শিক্ষার্থী। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি আসনের জন্য গড়ে ২১ জনেরও বেশি পরীক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা চলতি বছরের ভর্তি প্রতিযোগিতাকে আরও কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি উচ্চশিক্ষার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রীয় কোর কমিটির সচিব এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক জানিয়েছেন, পরীক্ষার সকল প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে গঠিত এই ভর্তি প্রক্রিয়া এবারও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে দুপুর ১২টায় শেষ হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের নির্দেশনা অনুযায়ী কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হয়েছে। প্রবেশপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক ছিল। পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ এমসিকিউ পদ্ধতিতে ১০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হতে ন্যূনতম ৩০ নম্বর পেতে হবে। ভুল উত্তরের ক্ষেত্রে ০.২৫ নম্বর কেটে নেওয়ার নিয়ম থাকায় পরীক্ষার্থীদের সতর্কতার সঙ্গে উত্তর দিতে হচ্ছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ‘এ’ ইউনিটের সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান জানান, এই কেন্দ্রে মোট ৯টি ভবনের ১৯৫টি কক্ষে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি কক্ষেই পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সার্বিক প্রস্তুতি সন্তোষজনক হওয়ায় পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হবে।

অন্যদিকে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, দেশের সব কেন্দ্রেই প্রয়োজনীয় উপকরণ আগে থেকেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, গুচ্ছ পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমিয়ে একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও কার্যকর করেছে।

পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও কেন্দ্র এলাকায় অভিভাবকদের ভিড় দেখা যায়। সন্তানদের পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষারত অনেক অভিভাবকের চোখেমুখে ছিল উদ্বেগ ও আশার মিশ্র ছাপ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন ও আবাসন ব্যবস্থাও অনেক জায়গায় স্বাভাবিক ছিল বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা আলাদা ভর্তি পরীক্ষার ঝামেলা কমিয়ে একক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুযোগ করে দেওয়ার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবে ইতোমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে। তবে বিপুল সংখ্যক প্রতিযোগীর কারণে প্রতিযোগিতা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে যেমন চাপ ছিল, তেমনি প্রস্তুতির প্রতি আত্মবিশ্বাসও দেখা গেছে অনেকের মধ্যে। কেউ কেউ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল পাওয়ার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। আবার অনেকে সময় ও প্রতিযোগিতার চাপকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

সব মিলিয়ে দেশের ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত এই ভর্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠেছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হলে এটি আবারও প্রমাণ করবে যে গুচ্ছ পদ্ধতি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত