সর্বশেষ :
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে গবেষণা-উদ্ভাবনের ওপর নোবিপ্রবিতে সেমিনার ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা, কাঠগড়ায় ইউপি সদস্য আইনগত বাধা কাটল: এমপি হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন সরোয়ার হবিগঞ্জে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০৩ জন মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল বিকলে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট ভারতের মুদ্রায় বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে চায় রাশিয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুযোগ চায় জামায়াত ড. ইউনূসের পরিকল্পনায় ছিল বিএনপিকে মাইনাস করা: রাশেদ খাঁন সারজিস-পাটওয়ারীর ওপর হামলা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় কূটনৈতিক চাপের মুখে ইসরাইল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৩ বার
ইরান যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই সংঘাতে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষতির মুখে পড়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়ায় ইসরাইলকে কার্যত পাশ কাটানো হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তেল আবিবের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ও সামরিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে দ্রুত একটি কৌশলগত জয় অর্জনের পরিকল্পনা ছিল নেতানিয়াহু সরকারের। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয় এবং সংঘাত প্রত্যাশিতভাবে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে না গিয়ে একটি অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতির দিকে গড়ায়।

গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর সময় ইসরাইলকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়। এতে করে ইসরাইলের ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়ে এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে তাদের প্রভাব কমে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ দাবি করেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইসরাইল কার্যত কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। তার মতে, যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ইসরাইলকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।

অন্যদিকে বামপন্থি নেতা ইয়ার গোলান এই সংঘাতকে ইসরাইলের ইতিহাসে একটি বড় কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এই যুদ্ধ ইসরাইলের নিরাপত্তা নীতি ও আঞ্চলিক কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে দ্রুত ফল পাওয়ার যে পরিকল্পনা ইসরাইল নিয়েছিল, তা বাস্তবে উল্টো প্রভাব ফেলেছে। ইরানের সামরিক কাঠামো ভেঙে পড়ার পরিবর্তে বরং তা আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংঘাত চলাকালীন সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস বা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করার লক্ষ্য থাকলেও তা অর্জিত হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। বরং এই পরিস্থিতিতে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী ও কৌশলগত অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে বলে দাবি করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির অভিযোগও সামনে এসেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ওয়াশিংটন চূড়ান্ত পর্যায়ে তেল আবিবকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কেও কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংঘাত চলাকালে ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক অবস্থান বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ প্রয়োগ করলেও শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান কার্যকর হয়নি। এতে নেতানিয়াহুর কূটনৈতিক কৌশল প্রশ্নের মুখে পড়ে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই সংঘাত ইসরাইলের ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধকালীন ব্যয়, সামরিক প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার খরচ মিলিয়ে এই সংঘাতকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ব্যয়বহুল সংঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পরিবর্তে দ্রুত রাজনৈতিক সমাধানের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো নতুন করে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইসরাইলি রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রশ্ন উঠছে, এই যুদ্ধ থেকে দেশটি কী অর্জন করেছে। বিরোধীরা বলছেন, সামরিক লক্ষ্য অর্জনের পরিবর্তে কূটনৈতিকভাবে ইসরাইল আরও কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে সমালোচকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি ইসরাইলের ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক নীতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা এখন আগের চেয়ে বেশি বলে মনে করছেন তারা।

সব মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার প্রভাব শুধু সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত