একাদশে ভর্তিতে ৬ হাজার টাকা সহায়তা দেবে সরকার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫২ বার
একাদশে ভর্তিতে ৬ হাজার টাকা সহায়তা দেবে সরকার

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে উৎসাহ দিতে আবারও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে উচ্চ-মাধ্যমিক ও সমমান পর্যায়ে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য এককালীন ৬ হাজার টাকা ভর্তি সহায়তা প্রদান করা হবে। একাদশ শ্রেণি ও আলিম প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া যোগ্য শিক্ষার্থীরা এই সহায়তার আওতায় আসবেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে এই অর্থ প্রদান করা হবে, যা শিক্ষার্থীদের ভর্তি ব্যয় বহনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্মৃতি কর্মকার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারলে যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সরাসরি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হবে। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজেই ঘরে বসেই আবেদন করতে পারেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এই সহায়তার জন্য বিবেচিত হবেন। ফলে সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষার্থীরা সমানভাবে এই সুযোগ পাবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি শিক্ষাক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

আবেদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। পূর্ববর্তী শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর অথবা জিপিএ ৫.০০ এর ক্ষেত্রে ৩.৫০ থাকতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীর পরিবারের বার্ষিক আয় তিন লাখ টাকার কম হতে হবে। এতে বোঝা যায়, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোর সন্তানদের অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যেই এই সহায়তা চালু করা হয়েছে।

এছাড়া সমাজের বিশেষ কিছু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সুযোগ রাখা হয়েছে। এতিম শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

আবেদনের সময় শিক্ষার্থীদের কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনলাইনে আপলোড করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে প্রাপ্ত আর্থিক অসচ্ছলতার সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের প্রত্যয়নপত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ, পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এবং অনলাইন ব্যাংক হিসাবের তথ্য। আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় কোনো ধরনের হার্ডকপি জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এতে সময় ও খরচ দুটোই কমবে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক পরিবার সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে। ভর্তি ফি, বইপত্র, যাতায়াতসহ নানা খরচ শিক্ষার্থীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই সহায়তা তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবেদন করার পর একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি সব আবেদন যাচাই-বাছাই করবে। এরপর যোগ্য বিবেচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং সরাসরি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হবে। এতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে।

অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, শিক্ষা খাতে এ ধরনের সহায়তা চালু থাকলে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় উৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ালে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি লাভবান হয়। তাই আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা রাষ্ট্রের জন্য একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

বর্তমান সময়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন গ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীরাও সহজেই আবেদন করতে পারবেন। একই সঙ্গে আবেদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।

আবেদন প্রক্রিয়া আগামী ৩০ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত চালু থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। সহায়তা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানার জন্য নির্ধারিত হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে নতুন প্রেরণা পাবে। সরকারের এই সহায়তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষার মূলধারায় ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি সহায়তা হিসেবে ৬ হাজার টাকা প্রদান কর্মসূচি শিক্ষা খাতে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমিয়ে তাদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে এই উদ্যোগ সহায়ক হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে দেশের শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত