প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা ও হলুদ কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞার নিয়মে বড় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিবিসি স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন একটি ‘অ্যামনেস্টি’ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে, যার মাধ্যমে টুর্নামেন্টের নির্দিষ্ট দুটি ধাপে খেলোয়াড়দের জমে থাকা হলুদ কার্ডের হিসাব শূন্য করে দেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত এই নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর সব খেলোয়াড়ের আগের হলুদ কার্ড বাতিল করা হবে। একইভাবে কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার পর আবারও খেলোয়াড়দের কার্ড রেকর্ড শূন্য করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে প্রতিযোগিতার পরবর্তী ধাপে খেলোয়াড়রা আগের সতর্কতার চাপ ছাড়াই মাঠে নামতে পারবেন।
বর্তমানে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের প্রথম পাঁচ ম্যাচে কোনো খেলোয়াড় দুইটি হলুদ কার্ড দেখলে তিনি পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ হন। এই নিয়মের কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় নকআউট পর্বে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে থাকেন, যা দলগুলোর কৌশল ও পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে।
২০২৬ বিশ্বকাপে দলসংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করা হচ্ছে। এর ফলে ম্যাচের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে এবং খেলোয়াড়দের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপও বৃদ্ধি পাবে। এমন পরিস্থিতিতে হলুদ কার্ডের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তারকা খেলোয়াড়দের হারানোর ঝুঁকি আরও বেশি হয়ে উঠবে বলে মনে করছে ফিফা।
নতুন ফরম্যাটে নকআউট পর্বেও অতিরিক্ত রাউন্ড যুক্ত হচ্ছে। ফলে কোনো দল সেমিফাইনালে পৌঁছাতে ছয়টি ম্যাচ পর্যন্ত খেলতে পারে। দীর্ঘ এই টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই হলুদ কার্ড নিয়মে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুরুতে ফিফা কর্তৃপক্ষ হলুদ কার্ডের সীমা দুই থেকে বাড়িয়ে তিন করার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তারা মনে করছে, নির্দিষ্ট দুটি ধাপে কার্ড বাতিল করার ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর এবং ভারসাম্যপূর্ণ হবে। এতে খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত চাপও কমবে এবং প্রতিযোগিতা আরও আকর্ষণীয় থাকবে।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্ব শেষে সব হলুদ কার্ড মুছে ফেলা হবে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে আবারও একইভাবে কার্ড রেকর্ড শূন্য করা হবে। তবে টুর্নামেন্ট জুড়ে দুইটি হলুদ কার্ড দেখলে এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার বর্তমান নিয়ম অপরিবর্তিত থাকবে।
এই প্রস্তাব নিয়ে আগামী বৈঠকে আলোচনা হবে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কাউন্সিল সভায়। সেখানে সদস্যদের অনুমোদন পেলে নতুন নিয়মটি ২০২৬ বিশ্বকাপে কার্যকর করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। অনেক সময় ছোটখাটো ফাউল বা ভুলের কারণে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা নিষেধাজ্ঞায় পড়েন, যা ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলে। নতুন নিয়ম সেই ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে।
তবে কিছু সমালোচক মনে করছেন, নিয়মে অতিরিক্ত নমনীয়তা আনা হলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। তাদের মতে, হলুদ কার্ডের গুরুত্ব কমে গেলে খেলোয়াড়দের আচরণে শিথিলতা আসতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। এই প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর, যা ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে, ফিফার এই নতুন উদ্যোগ বিশ্বকাপের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা খেলোয়াড়, কোচ এবং দর্শক—সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।