জনপ্রিয়তা না পেয়ে ‘অ্যাভাটার’ বন্ধ করছে হোয়াটসঅ্যাপ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ৫০ বার
জনপ্রিয়তা না পেয়ে ‘অ্যাভাটার’ বন্ধ করছে হোয়াটসঅ্যাপ

প্রকাশ: ৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে ব্যবহৃত মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলোর অন্যতম WhatsApp আবারও বড় একটি পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। প্রতিনিয়ত নতুন ফিচার যোগ করে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট রাখার কৌশলে অভ্যস্ত এই প্ল্যাটফর্মটি এবার উল্টো সিদ্ধান্ত নিয়ে বন্ধ করে দিচ্ছে বহুল আলোচিত ‘অ্যাভাটার’ ফিচার। প্রযুক্তি জগতে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই দেখছেন ব্যবহারকারীর আচরণ ও বাস্তব চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি উদাহরণ হিসেবে।

‘অ্যাভাটার’ ফিচারটি চালুর সময় Meta Platforms ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছিল। মূল লক্ষ্য ছিল, ব্যবহারকারীদের চ্যাটিং অভিজ্ঞতাকে আরও ব্যক্তিগত ও প্রাণবন্ত করে তোলা। এই ফিচারের মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী নিজের মুখাবয়ব, চুলের স্টাইল, ত্বকের রঙ, পোশাক এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে একটি ভার্চুয়াল চরিত্র তৈরি করতে পারতেন। সেই অ্যাভাটার দিয়ে স্টিকার, রিঅ্যাকশন কিংবা প্রোফাইল চিত্র হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ ছিল, যা অনেকের কাছে নতুন ধরনের ডিজিটাল পরিচয় তৈরির একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়েছিল।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ এই ফিচারটির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। অনেকেই তাদের প্রোফাইল ছবিতে বাস্তব ছবি ব্যবহার করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন, আবার কেউ কেউ সাধারণ ইমোজি বা ডিফল্ট অপশনেই সন্তুষ্ট থেকেছেন। ফলে অ্যাভাটার ফিচারটি প্রত্যাশিত জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবহারকারীরা এখন এমন ফিচারকেই বেশি গুরুত্ব দেন, যা তাদের দৈনন্দিন যোগাযোগকে সহজ করে। জটিল বা অতিরিক্ত কাস্টমাইজেশনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যদি সেটি ব্যবহারিক প্রয়োজন মেটাতে না পারে, তাহলে সেটি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। অ্যাভাটার ফিচারের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটিই ঘটেছে।

বর্তমানে এই ফিচারটি ধাপে ধাপে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। সব ব্যবহারকারীর জন্য একসঙ্গে পরিবর্তনটি কার্যকর করা হচ্ছে না; বরং অঞ্চলভেদে ধীরে ধীরে এটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক ব্যবহারকারী লক্ষ্য করেছেন, তারা আর নতুন করে অ্যাভাটার তৈরি বা সম্পাদনা করতে পারছেন না। কারও ক্ষেত্রে সেটিংস অপশন থেকে অ্যাভাটার অংশটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, আবার কারও ক্ষেত্রে চ্যাট বা কিবোর্ড থেকে এটি পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে গেছে।

তবে ব্যবহারকারীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির জায়গাও রাখা হয়েছে। যারা আগে থেকেই অ্যাভাটার স্টিকার তৈরি করেছিলেন, তাদের সেই স্টিকারগুলো তাৎক্ষণিকভাবে মুছে ফেলা হচ্ছে না। ‘রিসেন্ট’ বা ‘ফেভারিটস’ সেকশনে থাকা স্টিকারগুলো আগের মতোই ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ, একেবারে হঠাৎ করে সবকিছু বন্ধ না করে একটি ট্রানজিশন সময় দেওয়া হচ্ছে, যাতে ব্যবহারকারীরা ধীরে ধীরে পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ডেটা-নির্ভর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কোন ফিচার কতটা ব্যবহার হচ্ছে, ব্যবহারকারীরা কত সময় দিচ্ছেন, কোন ফিচার দ্রুত বাদ দিচ্ছেন—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেই ভবিষ্যতের কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে। অ্যাভাটার ফিচারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিশ্লেষণ থেকেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ Meta Platforms-এর জন্য একটি বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত। কারণ, একটি ফিচার যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, যদি সেটি ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ না হয়ে ওঠে, তাহলে সেটি ধরে রাখা দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক নয়। বরং সেই জায়গায় এমন ফিচারে বিনিয়োগ করা উচিত, যা সরাসরি ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করে।

বর্তমানে WhatsApp মূলত নিরাপত্তা, দ্রুততা এবং ব্যবহার সহজ করার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন, ভয়েস ও ভিডিও কলের উন্নয়ন, মাল্টি-ডিভাইস সাপোর্ট এবং বিজনেস কমিউনিকেশন—এইসব ক্ষেত্রেই তারা নতুন নতুন ফিচার নিয়ে কাজ করছে। ফলে কম ব্যবহৃত ফিচার বাদ দিয়ে মূল ফোকাসে ফিরে আসার এই সিদ্ধান্তকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে এই ঘটনা প্রযুক্তি জগতের একটি বড় বাস্তবতাও সামনে নিয়ে এসেছে—সব নতুন ফিচার সফল হয় না। অনেক সময় বড় বিনিয়োগ, প্রচারণা এবং প্রত্যাশা থাকা সত্ত্বেও একটি ফিচার ব্যবহারকারীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় না। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেই ব্যর্থতা থেকে দ্রুত শিক্ষা নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে সাহসিকতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা।

ব্যবহারকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিবর্তন খুব বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, অধিকাংশ ব্যবহারকারী নিয়মিত অ্যাভাটার ব্যবহার করতেন না। বরং এটি অনেকের কাছে একটি ‘একবার চেষ্টা করে দেখার’ মতো ফিচার হিসেবেই রয়ে গিয়েছিল। ফলে এটি সরিয়ে নেওয়ার ফলে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।

সব মিলিয়ে, অ্যাভাটার ফিচার বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—ব্যবহারকারীর চাহিদাই শেষ কথা। জনপ্রিয়তা না পেলে, যত আকর্ষণীয়ই হোক না কেন, কোনো ফিচার টিকিয়ে রাখা যায় না। আর সেই বাস্তবতা মেনে নিয়েই নতুন পথে এগোচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত