সর্বশেষ :
আইপিএল ফাইনালে মুখোমুখি আরসিবি-গুজরাত পিএসজির শিরোপা অক্ষুণ্ণ, আর্সেনালের টাইব্রেকার দুঃখ ইরান যুদ্ধের সুবর্ণ সুযোগে তুরস্কে এরদোয়ানের ক্ষমতা সুসংহতকরণের গল্প চীনের আপত্তি উপেক্ষা করে সামরিক শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা জাপানের ইউরোপসেরা পিএসজির শিরোপা উদযাপনে ফ্রান্সে রণক্ষেত্র দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জামায়াত-এনসিপির অর্থের উৎস নিয়ে রাশেদ খাঁনের তীক্ষ্ণ কটাক্ষ ২৫ কোটি টাকা ‘নিয়ে যাওয়ার’ অভিযোগে মুখ খুললেন আসিফ মাহমুদ জেলা প্রশাসকের কাছে ১০ কোটি টাকার ব্যাখ্যা চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে কিনসাসা, ঢাকার বাতাস এখনো অস্বাস্থ্যকর

ভোটযুদ্ধে সরগরম সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
  • ৪৬ বার
ভোটযুদ্ধে সরগরম সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ

প্রকাশ: ১৩ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের আইন অঙ্গনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন Supreme Court Bar Association-এর ২০২৬-২৭ সেশনের নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ। নানা আলোচনা, অভিযোগ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পর্যন্ত।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। তবে দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার বিরতি রাখা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে সভাপতি, সম্পাদকসহ মোট ১৪টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪০ জন প্রার্থী। নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন ১১ হাজার ৮৯ জন আইনজীবী।

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আইনজীবীদের বিভিন্ন গ্রুপ ও প্যানেলের নেতাকর্মীরা নিজেদের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। আদালতপাড়াজুড়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা যায়।

এবারের নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে। কারণ দীর্ঘদিন পর একই নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি সমর্থক আইনজীবীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। ফলে সুপ্রিম কোর্ট বারের এই নির্বাচন শুধু আইনজীবীদের পেশাজীবী সংগঠনের ভোটেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং জাতীয় রাজনীতিরও একটি প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে বড় আলোচনা তৈরি হয়েছে আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীদের ভোট বর্জনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। তারা অভিযোগ করেছেন, এবারের নির্বাচনে প্যানেলভিত্তিক রাজনীতির প্রভাব অতিমাত্রায় বেড়েছে এবং সাধারণ আইনজীবীদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা বলেন, একটি বিশেষ মহলের প্রভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বাতিল করা হয়েছে। এমনকি লিখিতভাবে কোনো ব্যাখ্যাও দেয়া হয়নি। এতে সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীরা।

অন্যদিকে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনকে ঘিরে নানা অভিযোগ থাকলেও ভোটগ্রহণ এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই চলছে। প্রার্থীরাও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। অনেক আইনজীবী মনে করছেন, পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন হওয়ায় এখানে মতপার্থক্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নেতৃত্ব নির্ধারিত হওয়া উচিত।

সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচন বরাবরই দেশের আইন অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। কারণ এই সংগঠনের নেতৃত্ব শুধু আইনজীবীদের পেশাগত স্বার্থ নিয়েই কাজ করে না, বরং দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতেও অবস্থান নেয়। অতীতে বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সুপ্রিম কোর্ট বারের ভূমিকাও ছিল আলোচিত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক বিভাজনের ছাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশের জাতীয় রাজনীতির মেরুকরণের প্রতিফলন আদালতপাড়াতেও দেখা যাচ্ছে। ফলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। তবে তারা মনে করছেন, নির্বাচন ঘিরে সহনশীল পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। কারণ সুপ্রিম কোর্ট দেশের বিচারব্যবস্থার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান এবং এখানকার পরিবেশ দেশের বিচারব্যবস্থার ভাবমূর্তির সঙ্গেও জড়িত।

ভোট দিতে আসা অনেক আইনজীবী বলেছেন, তারা এমন নেতৃত্ব চান যারা পেশাগত অধিকার রক্ষা, আইনজীবীদের কল্যাণ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। তাদের মতে, রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে আইনজীবীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন।

এদিকে নির্বাচন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা চলছে। কেউ নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এতে সাধারণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ও মতপ্রকাশের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। অনেকেই বলছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনই একটি সংগঠনের গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করে।

সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন। ভোটারদের নিরাপদে ভোটদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।

নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, এবারের ভোট যে দেশের আইন অঙ্গনে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দেবে— এমন ধারণা করছেন অনেকেই। কারণ এই নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব নির্ধারণের লড়াই নয়, বরং দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতারও প্রতিফলন হয়ে উঠেছে।

এখন দেখার বিষয়, দুই দিনের ভোটগ্রহণ শেষে কারা পাচ্ছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী সংগঠনের নেতৃত্ব এবং নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি কতটা শান্ত ও স্থিতিশীল থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত