প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর ঐতিহাসিক জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় আয়োজিত এ জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেন।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান ভোর থেকেই মুসল্লিদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিতে ঈদগাহে জড়ো হন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত শুরু হয়।
প্রধান জামাতে ইমামতি করেন মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। নামাজ শেষে তিনি দেশ, জাতি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন।
এ জামাতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিচারপতি, কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। আয়োজক সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।
এবারের ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঈদগাহে ছিল বিশেষ আয়োজন। প্রায় ৩০ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে সাজানো হয় ঈদের প্রধান জামাতের অবকাঠামো। সেখানে মোট ১২১টি কাতারের ব্যবস্থা রাখা হয়। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য পৃথক কাতারের পাশাপাশি নারী মুসল্লিদের জন্যও আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
আয়োজকরা জানান, প্রায় ২৫০ জন গুরুত্বপূর্ণ পুরুষ অতিথি এবং ৮০ জন নারী অতিথির জন্য বিশেষ স্থান নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ ও সাড়ে তিন হাজার নারী নামাজ আদায়ের সুযোগ পান।
ঈদ জামাতকে ঘিরে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জাতীয় ঈদগাহ ও আশপাশ এলাকায় মোতায়েন ছিল পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। প্রবেশপথে ছিল তল্লাশি ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ। এছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকেও সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদগাহ ময়দানে পর্যাপ্ত ফ্যান, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, কার্পেট, অজুখানা এবং চিকিৎসা সহায়তা রাখা হয়। নারী ও প্রবীণ মুসল্লিদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।
ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনেকে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য দোয়া করেন।
অন্যদিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ সকাল ৭টায় ঈদুল আজহার প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং ১০টা ৪৫ মিনিটে আরও চারটি জামাত আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে।
রাজধানীসহ সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি কোরবানির প্রস্তুতিতেও ব্যস্ত সময় পার করছেন মানুষ।