ঈদের প্রধান জামাতে বিশ্বশান্তি কামনায় মোনাজাত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬
  • ২৪ বার

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, সৌহার্দ্য ও আধ্যাত্মিক আবহে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত। নামাজ শেষে দেশ-জাতির সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি সমগ্র মুসলিম উম্মাহ এবং বিশ্বের শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত এ প্রধান জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা মুফতি মো. আবদুল মালেক। ঈদের জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিদের অংশগ্রহণে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেশের শান্তি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং মানুষের কল্যাণ কামনা করা হয়। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন ও ইরানে চলমান সংকটের মধ্যে নির্যাতিত মুসলমানদের জন্যও বিশেষ দোয়া করা হয়।

মোনাজাতে সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া হাম ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত ব্যক্তিদের জন্যও দোয়া করা হয়েছে। মুসল্লিরা মহান আল্লাহর কাছে মানবজাতির নিরাপত্তা, রোগমুক্তি এবং বিশ্বশান্তি কামনা করেন। মৃতদের গুনাহ মাফ ও কবরের আজাব মাফের জন্যও প্রার্থনা করা হয়।

এর আগে খুতবায় মানুষের অন্তরের হিংসা, লোভ ও অহংকার দূর করার আহ্বান জানান খতিব। তিনি বলেন, কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা কেবল পশু জবাই নয়, বরং নিজের মনের পশুত্বকে নিয়ন্ত্রণ করা। দেশ ও জাতির অগ্রগতি এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার দিকেও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ঈদের প্রধান জামাতে জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায়ের সুযোগ পেয়েছেন।

এবার জাতীয় ঈদগাহে মোট ১২১টি কাতারের ব্যবস্থা করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য পৃথক কাতার রাখা হয়, যেখানে প্রায় ২৫০ জন পুরুষ ও ৮০ জন নারীর নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল। এছাড়া সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ ও সাড়ে তিন হাজার নারীর জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়।

নারী মুসল্লিদের সুবিধার্থে পৃথক প্রবেশপথ, অজুখানা এবং নামাজের নির্ধারিত স্থান রাখা হয়েছিল। আয়োজকরা জানিয়েছেন, নারী ও প্রবীণ মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছে।

ঈদগাহের বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণেও ছিল বিশেষ আয়োজন। প্রায় ৪৩ হাজার বাঁশ এবং ১৫ টনের বেশি রশি ব্যবহার করে কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। বৃষ্টি থেকে সুরক্ষার জন্য টাঙানো হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯০০ উন্নতমানের ত্রিপল।

গরমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পুরো প্যান্ডেলে ১ হাজার ১০০টির বেশি ফ্যান স্থাপন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত অংশে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। পুরো মাঠে কার্পেট বিছিয়ে মুসল্লিদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয় ঈদগাহ এলাকায় ছিল কঠোর ব্যবস্থা। বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাব এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। প্রবেশপথে তল্লাশি, সিসিটিভি নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

ঈদগাহে প্রবেশের জন্য চারটি গেট রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য এবং বাকিগুলো সাধারণ মুসল্লিদের জন্য নির্ধারণ করা হয়। নামাজ শেষে নির্বিঘ্নে বের হওয়ার জন্য সাতটি পৃথক বহির্গমন পথ রাখা হয়।

ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ এবং ত্যাগের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাজধানীজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত