ঈদে কবর জিয়ারতে তারেক রহমানের আবেগঘন মুহূর্ত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬
  • ৩১ বার

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঈদুল আজহার পবিত্র দিনে রাজধানী ঢাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যখন ঈদের নামাজ শেষে পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পারিবারিক স্মৃতিচারণায় এদিনটি তার জন্য গভীর আবেগের মুহূর্ত হয়ে ওঠে বলে জানা গেছে।

সকালবেলা জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায়ের পর তিনি সরাসরি রাজধানীর জিয়া উদ্যান এলাকায় যান। সেখানে তার পিতা সাবেক রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia-এর কবর জিয়ারত করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী Zubaida Rahman এবং দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

ঈদের মতো একটি আনন্দঘন দিনে কবর জিয়ারতের এই ঘটনা রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কবরস্থানে উপস্থিতি ছিল নীরব ও শোকাবহ পরিবেশে পরিপূর্ণ। পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি, যা উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তোলে।

জিয়ারত শেষে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় তিনি প্রয়াতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশবাসীর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন বলে জানা যায়। পরে তিনি বনানী কবরস্থানের উদ্দেশে রওনা হন, যেখানে তার ছোট ভাই Arafat Rahman Coco-এর কবর জিয়ারত করেন। এরপর তিনি বনানীর সামরিক কবরস্থানে গিয়ে তার শ্বশুর মাহবুব আলী খানের কবরেও শ্রদ্ধা জানান।

এই পুরো কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সংশ্লিষ্ট কবরস্থান এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রিত চলাচল নিশ্চিত করেন। ফলে পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে দলীয় একজন শীর্ষ নেতা হিসেবে উল্লেখিত Ruhul Kabir Rizvi মন্তব্য করেন যে, দেশবাসী এবার তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছে। তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

ঈদের দিন কবর জিয়ারত বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতিতে একটি প্রচলিত রীতি। পরিবার হারানোর বেদনা থাকলেও এই দিনে প্রয়াতদের স্মরণ করা এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনা করা একটি গভীর মানবিক অনুশীলন হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে ঈদের মতো উৎসবে, যেখানে আনন্দ ও মিলন প্রধান বিষয়, সেখানে কবর জিয়ারত এক ধরনের আধ্যাত্মিক সংযোগ তৈরি করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পারিবারিক ও ধর্মীয় কর্মসূচি জনসাধারণের সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আবেগগত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। ঈদের দিনে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্বও যখন পারিবারিক স্মৃতিতে ফিরে যান, তখন তা সামাজিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে ওঠে।

কবরস্থানে উপস্থিত স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, ঈদের সকালে এমন একটি দৃশ্য সাধারণ মানুষের মনে বিশেষ অনুভূতির সৃষ্টি করে। একদিকে ঈদের আনন্দ, অন্যদিকে প্রিয়জনদের স্মৃতি—এই দুই অনুভূতির মিশ্রণ পুরো পরিবেশকে ভারাক্রান্ত অথচ শান্তিময় করে তোলে।

এছাড়া রাজধানীর জিয়া উদ্যান ও বনানী এলাকায় সকাল থেকেই মানুষের ভিড় ছিল তুলনামূলক বেশি। ঈদের নামাজ শেষে অনেকেই নিজ নিজ পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের কবর জিয়ারত করতে বিভিন্ন কবরস্থানে যান। ফলে শহরের বিভিন্ন অংশে এক ধরনের নীরব ও ভাবগম্ভীর পরিবেশ বিরাজ করে।

ঈদের এই দিনে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের এমন কর্মসূচি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে এক ধরনের মানবিক দিকও তুলে ধরে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তারা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে পারিবারিক আবেগ ও ধর্মীয় অনুভূতির এই প্রকাশ সমাজে সহানুভূতি ও সংযোগের বার্তা দেয়।

সব মিলিয়ে ঈদুল আজহার এই দিনে রাজধানী ঢাকায় একদিকে যেমন ছিল ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ, অন্যদিকে তেমনি ছিল স্মৃতি ও আবেগের গভীর ছোঁয়া। পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন সেই আবেগকে আরও গভীর করে তোলে।

ঈদের এই বিশেষ দিনে কবর জিয়ারতের মাধ্যমে প্রয়াতদের স্মরণ এবং জীবিতদের জন্য শান্তি ও কল্যাণ কামনার মধ্য দিয়ে দিনটি শেষ হয় এক শান্ত ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে, যা রাজধানীর ঈদ উদযাপনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত