শুরু হচ্ছে জাতীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
  • ১০ বার
শুরু হচ্ছে জাতীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬

প্রকাশ: ০৮ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার নিয়ে আগামীকাল ৯ জুলাই থেকে দেশজুড়ে শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”। পরিবেশের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধকে জাগ্রত করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য নিরাপদ পৃথিবী রেখে যেতে সরকার এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বৃক্ষরোপণ অভিযানের শুভ উদ্বোধন করবেন।

সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু এই মেলার বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান, পরিবেশ ও বৃক্ষমেলা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় আন্দোলনে রূপ নেবে। রাজধানীর এই জাতীয় মেলাটি মাসব্যাপী চলবে। এর পাশাপাশি সারা দেশে বৃক্ষরোপণ অভিযানকে বেগবান করতে সাতটি বিভাগীয় সদরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এই বিস্তৃত আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের মধ্যে গাছ লাগানোর প্রবণতা বাড়িয়ে তোলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সচেতনতা তৈরি করা। এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলায় সর্বমোট ১২০টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছের সমাহার থাকবে।

সরকার এবার ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের এক বিশাল ও উচ্চাভিলাষী মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু জানান, রোপণ করা গাছের সঠিক হিসাব রাখা ও সেগুলোর পরিচর্যা নিশ্চিত করতে স্যাটেলাইটভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হবে। এছাড়া দেশের প্রতিটি বৃক্ষের তথ্যের জন্য একটি ‘ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ’ বা জাতীয় বৃক্ষ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হচ্ছে। ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে বনায়ন এলাকার সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে, যা বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। একই সঙ্গে এই কর্মসূচির মাধ্যমে ‘সবুজ কর্মসংস্থান’ বা গ্রিন এমপ্লয়মেন্ট সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের বেকার সমস্যার সমাধানেও ভূমিকা রাখবে।

বৃক্ষ কেবল আমাদের অক্সিজেনই দেয় না, বরং দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ধাক্কা থেকে আমাদের রক্ষা করে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা অতিরিক্ত তাপমাত্রার প্রভাব থেকে বাঁচতে বনায়নের কোনো বিকল্প নেই। সরকার আশা করছে, এই অভিযানের মাধ্যমে দেশের বনভূমির পরিমাণ বাড়বে এবং বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় বড় ধরনের অগ্রগতি সাধিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ এবং পরিবেশ সচিব ড. ফাহমিদা খানম। তারা প্রত্যেকেই দেশের প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।

পরিবেশ মেলায় আগত দর্শনার্থীরা কেবল গাছই দেখতে পাবেন না, বরং পরিবেশ রক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার নানা দিক সম্পর্কেও জানতে পারবেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ কীভাবে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, তা মেলায় বিভিন্ন স্টলে প্রদর্শন করা হবে। এছাড়া বৃক্ষমেলায় চারা গাছের সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়েও কৃষি বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেবেন। আমাদের মাটি ও জলবায়ুর উপযোগী সঠিক প্রজাতি নির্বাচন করা বৃক্ষরোপণ অভিযানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা এই মেলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের এই আয়োজন স্থানীয় পর্যায়ে এক দারুণ উদ্দীপনা তৈরি করেছে। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই এখন গাছ লাগানোর ধুম পড়ে যাবে, যা আমাদের জাতীয় পরিবেশ নীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। পরিবেশ রক্ষায় আজকের এই বিনিয়োগ ভবিষ্যতের জন্য এক বিশাল সম্পদ। আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি গাছ আমাদের আগামী দিনের টিকে থাকার লড়াইয়ে বড় শক্তির উৎস। ড্রোন প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণের মতো ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার প্রমাণ করে যে, সরকার পরিবেশ নিয়ে কতটা দূরদর্শী পরিকল্পনা করছে। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশ ভবিষ্যতে একটি সবুজ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে।

পরিশেষে বলা যায়, এবারের বৃক্ষমেলা কেবল গাছ লাগানোর উৎসবে সীমাবদ্ধ না থেকে, প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে সবুজ প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার প্রেরণা হয়ে উঠবে। আমরা যদি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আজ একটি করে গাছ রোপণ করি, তবে তা সম্মিলিতভাবে বিশাল এক বনভূমির সৃষ্টি করবে। আমাদের এই প্রিয় দেশটিকে সুন্দর ও বাসযোগ্য রাখার দায়িত্ব আমাদের প্রত্যেকেরই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই দূরদর্শী পদক্ষেপ আমাদের সবার জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। একটি বাংলাদেশ অনলাইন পরিবেশের সুরক্ষায় সবসময় সচেতন ভূমিকা পালন করে এবং এই মহতী কার্যক্রমের প্রতিটি আপডেট আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে সর্বদা প্রস্তুত। আসুন, আমরা সবাই মিলে বৃক্ষরোপণে দেশকে সাজাই এবং আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে একটি সবুজ ও নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তুলি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত