নতুন নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে যুবদল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার
নতুন নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে যুবদল

প্রকাশ: ০৮ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম শক্তিশালী ও ঐতিহ্যবাহী যুব সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল তাদের সাংগঠনিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। সময়ের প্রয়োজনে সংগঠনকে আরও বেশি গতিশীল, আধুনিক এবং তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি। বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই মহাপরিকল্পনার কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি প্রান্তে সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে বিশেষ সাংগঠনিক টিম মাঠে নামানো হচ্ছে, যারা তৃণমূলের মাঠ পরখ করে যোগ্য ও ত্যাগী নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে যুবদল সভাপতি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও আদর্শ রক্ষায় তারা কোনো আপস করবেন না। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে যুবদলকে একটি সেবামূলক ও মানবিক সংগঠনে রূপান্তরিত করার ভিশন তুলে ধরেন তিনি। এই পরিকল্পনার আওতায় রক্তদান কর্মসূচি, ত্রাণ ও শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো জনকল্যাণমূলক কাজে যুবদলের কর্মীদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তার মতে, রাজনীতি মানেই কেবল ক্ষমতা অর্জন নয়, বরং মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থেকে তাদের ভালোবাসা জয় করা।

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে যুবদলের আত্মত্যাগ ও ভূমিকা সম্পর্কে বলতে গিয়ে আব্দুল মোনায়েম মুন্না আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার এই ঐতিহাসিক আন্দোলনে যুবদলের ৭৮ জন অকুতোভয় নেতাকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং শত শত কর্মী আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের এই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় সংগঠনটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দায়বদ্ধ। একই সঙ্গে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন কোনো বেআইনি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। ইতোমধ্যেই সংগঠনবিরোধী ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সারা দেশে প্রায় তিনশ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এই কঠোর অবস্থান সংগঠনকে কলঙ্কমুক্ত রাখার একটি পরিষ্কার বার্তা।

গত ৪ জুন কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই যুবদলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা নিয়মিত ঢাকা বিভাগীয়সহ সারা দেশের সাংগঠনিক টিমগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। দেশব্যাপী দশটি সাংগঠনিক বিভাগে ৩১টি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে, যারা মাঠ পর্যায়ের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজ করছেন। গত ৫ ও ৬ জুলাই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সভার মাধ্যমে এই টিমগুলোর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আগামী দিনের নতুন কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করছেন, তৃণমূলের নেতৃত্ব যত শক্তিশালী হবে, জাতীয় রাজনীতিতে যুবদলের প্রভাব ততটাই সুসংহত হবে।

যুবদলের সামাজিক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে সভাপতি জানান, কেবল রাজনৈতিক মিছিলে নয়, বরং জনকল্যাণমূলক কাজেও সংগঠনটি অভূতপূর্ব নজির স্থাপন করেছে। জুলাই-আগস্টের শহিদ পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা প্রদান থেকে শুরু করে নিহত ও আহত নেতাকর্মীদের পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের পরিকল্পনা হিসেবে এফডিআর ও নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নদী-খাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান, নিজস্ব অর্থায়নে সেতু-ব্রিজ নির্মাণ, কৃষকের ধান কেটে ঘরে পৌঁছে দেওয়া এবং গৃহহীন পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণের মতো কর্মসূচিগুলো সাধারণ মানুষের মনে যুবদলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই মানবিক কার্যক্রমগুলো প্রমাণ করে যে, যুবদল একটি সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চায় বিশ্বাসী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, যুগ্ম সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েলসহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ। তারা সবাই দেশের যুবসমাজকে বিপথগামী না করে প্রকৃত দেশপ্রেম ও গণতন্ত্রের শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার আহ্বান জানান। যুবদলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের প্রতিও অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করে নেওয়া হয়, যাতে সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন না হয়। তারা বিশ্বাস করেন, একটি স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক রাজনৈতিক ধারা বর্তমান সময়ের অপরিহার্য চাহিদা।

আব্দুল মোনায়েম মুন্না তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতির দিন শেষ। যুবদল এখন মেধা, দক্ষতা এবং মানবিকতার রাজনীতিতে বিনিয়োগ করতে চায়। অশুভ অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ভেঙে সংগঠনটি সামনের দিনগুলোতে গণতন্ত্রের প্রশ্নে আরও বেশি আপসহীন থাকবে। তৃণমূলের নবীন ও ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে যে নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠছে, তা আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। একটি বাংলাদেশ অনলাইন সব সময় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও মানবিক রাজনীতির অগ্রযাত্রার সংবাদ আপনাদের সামনে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যুবদলের এই নতুন পথচলা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত