আইনের শাসন না এলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি হাসনাতের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
  • ২৭ বার
আইনের শাসন না এলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি হাসনাতের

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে জনগণ আবার রাজপথে নামবে। তিনি দাবি করেন, দেশে ভয়ের সংস্কৃতি ফিরে আসছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বাড়ছে। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কর্মসংস্থান, রাষ্ট্র সংস্কার এবং নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা এলাকায় আয়োজিত ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। স্থানীয় এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।

বক্তব্যের শুরুতেই হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ অতীতেও গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতেও যদি দেশ আবার স্বৈরতন্ত্র বা ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হয়, তাহলে জনগণ নীরব থাকবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় মানুষ প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে দেশে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করছে। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠছে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আন্দোলনে প্রাণ হারানো এবং আহত হওয়া মানুষের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি বলে তাঁর দল মনে করে। তাঁর দাবি, যেসব মানুষ আন্দোলনে অংশ নিয়ে জীবন দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার সেই আত্মত্যাগের সঙ্গে সুবিচার করতে পারেনি।

বিএনপির উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, জনগণের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা করা উচিত হবে না। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার ব্যর্থ হলে তার রাজনৈতিক প্রভাব ভবিষ্যতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ দেশের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে দেওয়া বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনে জনগণের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি দাবি করেন, জনগণের আন্দোলন না হলে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারত। তাঁর এই মন্তব্যও রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ হিসেবে সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয় এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তাঁকে একজন ব্যর্থ মন্ত্রী হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

কর্মসংস্থানের বিষয়েও সরকারের সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, সে প্রশ্ন তিনি তোলেন। তাঁর মতে, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।

রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশের জনগণের একটি বড় অংশ বিভিন্ন ধরনের সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। তাঁর দাবি, সংস্কারের প্রশ্নে বেছে বেছে সংবিধানের কিছু অংশ গ্রহণ এবং কিছু অংশ উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, সংবিধান এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বিষয়টি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এবং একটি স্বচ্ছ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশে ফিরতে চাইলে নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষা না করে এখনই ফিরে আসা উচিত। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন। এ ছাড়া তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। এসব বক্তব্য রাজনৈতিক সমালোচনার অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা দলগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পথসভায় মুন্সীগঞ্জ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মাজিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার, জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম এবং সিরাজদিখান উপজেলা প্রধান সমন্বয়ক আলী নেওয়াজ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা কমিটির সদস্যসচিব মারুফ হাসান মন্টি। এছাড়াও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে গাজী আ. আলীম, সেলিম মিয়া, রাকিবুল ইসলাম ও ইমরান হোসেন শান্ত বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানের শেষদিকে আলী নেওয়াজকে আসন্ন সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাচনে এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থিত জনতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। দলীয় নেতারা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা এবং জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন দলের নেতাদের বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা, নির্বাচন, সংস্কার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নগুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসছে। তবে রাজনৈতিক বক্তব্যে উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিক্রিয়া এবং প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়নও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনৈতিক মতপ্রকাশের পাশাপাশি সংলাপ, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন শক্তিশালী করাই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গঠনে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত