বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
  • ২৬ বার
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের সামুদ্রিক অঞ্চলে আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং চারটি প্রধান সমুদ্রবন্দরের ওপর দিয়ে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিশেষ আবহাওয়া বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় এই লঘুচাপের প্রভাবে সাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলে বাতাসের গতি বৃদ্ধি এবং আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে দমকা থেকে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চারটি সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করে সাবধানে চলাচল করতে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে এ ধরনের লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে লঘুচাপ যুক্ত হলে উপকূলীয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত, দমকা হাওয়া এবং সাগর উত্তাল হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল, চরাঞ্চল এবং নদী মোহনার কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষের জন্য পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় টানা বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল এবং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী ও উপকূলীয় বেশ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং নদীভাঙনের খবর পাওয়া গেছে। নতুন করে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় এসব অঞ্চলে বৃষ্টিপাত আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্র উত্তাল থাকলে ছোট নৌযান, মাছ ধরার ট্রলার এবং উপকূলীয় পরিবহনের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে সমুদ্রে অবস্থানরত জেলেদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি জোরদার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের গতিপ্রকৃতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর অবস্থান, শক্তি কিংবা গতিপথে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলে নতুন বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা, নৌযান চালক এবং মৎস্যজীবীদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামুদ্রিক সতর্কসংকেত জারি করা মানেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং এটি সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম সতর্ক থাকার একটি ব্যবস্থা। সময়মতো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা গেলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

বর্ষা মৌসুমে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন স্বাভাবিক হলেও সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ও লঘুচাপের আচরণ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। ফলে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, জেলে এবং নৌপরিবহন সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে উপকূলীয় এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্রে চলাচলকারী সব ধরনের ছোট নৌযানকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত