ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে অভিযান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
  • ১৬ বার
ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে অভিযান

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও জমি ভরাটের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে দুটি শ্যালো মেশিন এবং উত্তোলন করা বালু জব্দ করেছে। পরে জব্দকৃত আলামত প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বালু ব্যবহার করে জমি ভরাট করার দায়ে এক ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের সাধুরমোড় এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ উপস্থিত থেকে অভিযানের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী আবাসিক এলাকার একটি জমিতে অবৈধভাবে নদী বা আশপাশের উৎস থেকে উত্তোলন করা বালু দিয়ে ভরাটের কাজ করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ড্রেজার মালিক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে ঘটনাস্থল থেকে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত দুটি শ্যালো মেশিন এবং বিপুল পরিমাণ উত্তোলিত বালু জব্দ করা হয়।

পরে সরকারি বিধি অনুসারে জব্দকৃত শ্যালো মেশিন ও বালু প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মোকছেদুল মোমিন ৪৪ হাজার ৬০০ টাকায় জব্দকৃত মেশিন ও বালু ক্রয় করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিলাম প্রক্রিয়া উন্মুক্তভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং সরকারি নিয়ম অনুসরণ করেই বিক্রয় সম্পন্ন করা হয়েছে।

একই সঙ্গে অবৈধভাবে বালু ব্যবহার করে জমি ভরাটের দায়ে মোহাম্মদ আলীকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, প্রাকৃতিক সম্পদের অবৈধ ব্যবহার এবং পরিবেশের ক্ষতি রোধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করে, ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ায় এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। তাই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পরিবহন কিংবা ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত ও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদী, খাল এবং জলাশয়ের স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তিত হয়। এতে নদীর তলদেশে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়, তীরভাঙন বৃদ্ধি পায় এবং কৃষিজমি ও বসতভিটা ঝুঁকির মুখে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে সেতু, কালভার্ট ও অন্যান্য অবকাঠামোর স্থায়িত্বও হুমকির মুখে পড়ে। এছাড়া আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে বালু ভরাট করলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশ ও জনজীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করছে। সরকারের লক্ষ্য নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বালু ব্যবস্থাপনায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্ধারিত অনুমতি ছাড়া বালু উত্তোলন বা ব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড, যন্ত্রপাতি জব্দ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের বিধান রয়েছে। ফলে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে অনেক সময় আশপাশের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হয়। নিয়মিত নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূরুঙ্গামারীসহ কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে কেউ পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে জড়িত না হন। পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত