প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বড় ধরনের দুশ্চিন্তায় পড়েছে ইংল্যান্ড। শিরোপার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে পাচ্ছেন না প্রধান কোচ থমাস টুখেল। অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসন এবং তরুণ ডিফেন্ডার জারেল কুয়ানসাহকে ছাড়াই শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কৌশল সাজাতে হচ্ছে ইংলিশ কোচকে। তবে এই ধাক্কার মধ্যেও দলের অন্য খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে আশাবাদী ইংল্যান্ড শিবির।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নাটকীয় লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে হারিয়ে শেষ চারে ওঠে থ্রি লায়ন্সরা। তবে নকআউট পর্বের সেই সাফল্যের মাঝেই একের পর এক দুঃসংবাদ এসে ভিড় করেছে দলটির শিবিরে।
ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে জর্ডান হেন্ডারসনের চোট থেকে। মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে নাটকীয় জয়ের পর সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনের সময় দুর্ঘটনায় তাঁর হাত ভেঙে যায়। পরে দ্রুত অস্ত্রোপচার করা হয় এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারের। বর্তমানে তিনি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর মাঠে ফেরার মতো শারীরিক অবস্থা তৈরি হয়নি। ফলে বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটিতে তিনি শুধুই দর্শকের ভূমিকায় থাকবেন।
হেন্ডারসনের অনুপস্থিতি ইংল্যান্ডের মাঝমাঠে নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বড় বড় টুর্নামেন্টে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং চাপের মুহূর্তে দলকে সংগঠিত করার সক্ষমতা ইংল্যান্ডের জন্য সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই তাঁর না থাকা টুখেলের পরিকল্পনায় নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে তরুণ ডিফেন্ডার জারেল কুয়ানসাহও সেমিফাইনালে খেলতে পারছেন না। মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষের ওপর কঠোর ট্যাকলের কারণে তিনি সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাঁর মাঠে নামার সুযোগ নেই। কুয়ানসাহ সাম্প্রতিক সময়ে রক্ষণভাগে নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স দেখালেও এবার তাঁকে ডাগআউট থেকেই সতীর্থদের উৎসাহ দিতে হবে।
তবে এই দুই অনুপস্থিতির মধ্যেও কিছুটা স্বস্তির খবর পেয়েছেন টমাস টুখেল। দলের বাকি খেলোয়াড়রা সুস্থ আছেন এবং পূর্ণ উদ্যমে অনুশীলন করছেন। বিশেষ করে মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা ডেকলান রাইসকে ঘিরে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে। নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে অসুস্থতার কারণে তিনি পুরো প্রস্তুতি নিতে পারেননি। কিন্তু সর্বশেষ অনুশীলনে তাঁকে সতীর্থদের সঙ্গে পূর্ণ গতিতে অনুশীলন করতে দেখা গেছে। ফলে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শুরুর একাদশে তাঁর থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
কোচ টুখেলের রক্ষণভাগ নির্বাচনের কৌশলও আলোচনায় রয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে তিনি টানা দুই ম্যাচে একই ব্যাক ফোর ব্যবহার করেননি। প্রতিপক্ষের শক্তি ও ম্যাচের কৌশল অনুযায়ী তিনি রক্ষণভাগে পরিবর্তন এনেছেন। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে এজরি কনসা, জন স্টোনস, মার্ক গেহি এবং নিকো ও’রাইলির সমন্বয়ে গড়া রক্ষণভাগের পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুষ্ট। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডাররা চাপের মুহূর্তেও সংগঠিত ফুটবল খেলেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়ে দিয়েছেন। তাই আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও একই রক্ষণভাগ ধরে রাখার ইঙ্গিত মিলেছে।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা আত্মবিশ্বাসী অবস্থাতেই সেমিফাইনালে উঠেছে। শক্তিশালী আক্রমণভাগ, অভিজ্ঞ মিডফিল্ড এবং ভারসাম্যপূর্ণ রক্ষণভাগ নিয়ে আলবিসেলেস্তেরা আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে। ফলে ইংল্যান্ডের জন্য এই ম্যাচ শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, বরং টুর্নামেন্টে নিজেদের সামর্থ্যের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দুই দলের মুখোমুখি হওয়া মানেই বাড়তি উত্তেজনা, কৌশলগত লড়াই এবং কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর। এবারের সেমিফাইনালও তার ব্যতিক্রম নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মহারণ ঘিরে ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হেন্ডারসন ও কুয়ানসাহর অনুপস্থিতি ইংল্যান্ডের জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। তবে ডেকলান রাইসের সুস্থ হয়ে ওঠা এবং রক্ষণভাগের ধারাবাহিকতা টুখেলের দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা তাদের অভিজ্ঞতা, গতি এবং আক্রমণভাগের কার্যকারিতা কাজে লাগিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইবে।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালটি হতে যাচ্ছে ট্যাকটিক্যাল লড়াই, মানসিক দৃঢ়তা এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের এক আকর্ষণীয় পরীক্ষা। ইংল্যান্ডকে যেখানে গুরুত্বপূর্ণ দুই ফুটবলার ছাড়াই লড়াই করতে হবে, সেখানে আর্জেন্টিনা পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এখন শেষ পর্যন্ত কোন দল ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারে, সেটিই দেখার অপেক্ষা ফুটবল বিশ্বের।