ট্রাম্পের ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ, আলোচনায় যৌন নিপীড়ন মামলা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
  • ২৯ বার
ট্রাম্পের ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ, আলোচনায় যৌন নিপীড়ন মামলা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে বহুল আলোচিত যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লেখিকা ই. জিন ক্যারলকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা হয়েছে। আদালতের রায়ে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থের সঙ্গে আপিল চলাকালে জমা হওয়া সুদও যুক্ত হওয়ায় মোট পরিশোধিত অর্থ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলার। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলায় জুরির রায়ের তিন বছর পর ক্ষতিপূরণের অর্থ হাতে পেয়েছেন ক্যারল, যা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আবারও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা কাপলান মঙ্গলবার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে নিশ্চিত করেন যে, আদালতের রায়ের ভিত্তিতে জুরি যে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করেছিল, তার সম্পূর্ণ অর্থ এখন তাদের মক্কেলের কাছে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, এই অর্থ প্রাপ্তির মাধ্যমে মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।

এই মামলার পটভূমি বেশ দীর্ঘ। লেখিকা ও সাবেক ম্যাগাজিন কলামিস্ট ই. জিন ক্যারল অভিযোগ করেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের বিখ্যাত বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি ড্রেসিং রুমে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়নের শিকার করেন। বহু বছর পর তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন এবং পরবর্তীতে ট্রাম্প অভিযোগ অস্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই যৌন নিপীড়নের পাশাপাশি মানহানির অভিযোগও আদালতে গড়ায়।

২০২৩ সালে জুরি ট্রাম্পকে যৌন নিপীড়ন এবং মানহানির দায়ে দায়ী বলে রায় দেয়। যদিও জুরি ধর্ষণের অভিযোগে তাকে দায়ী করেনি, তবে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেয়। একই সঙ্গে ক্যারলের মানহানির অভিযোগও গ্রহণ করে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ট্রাম্প শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং মামলার রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

রায়ের পরপরই ট্রাম্প আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের অর্থ একটি আদালত-নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টে জমা রাখেন। তবে তিনি চেয়েছিলেন অর্থটি সরাসরি পরিশোধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আপিল শুনানির সুযোগ নিশ্চিত করতে। তার আইনি দল আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ে রায় স্থগিত রাখার আবেদনও করেছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক স্পষ্টভাবে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেন। এরপরই আদালতের নিয়ন্ত্রিত হিসাব থেকে অর্থটি ক্যারলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ক্যারলের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আপিল প্রক্রিয়া চলাকালে অর্থ আদালতের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত থাকায় তাতে সুদ যোগ হয়েছে। ফলে ৫ মিলিয়ন ডলারের মূল ক্ষতিপূরণের সঙ্গে অতিরিক্ত সুদ যুক্ত হয়ে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫.৬২ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এটি শুধু আদালতের রায়ের বাস্তবায়নই নয়, বরং দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নতুন মন্তব্য করা হয়নি। তার আইনি দলের একজন প্রতিনিধি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, চলমান আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে তারা এখনই কোনো মন্তব্য করতে চান না। তবে অতীতের মতো এবারও ট্রাম্পের আইনজীবীরা আদালতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন এবং রায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এই মামলার বাইরে ট্রাম্প ও ক্যারলের মধ্যে আরেকটি বড় আইনি লড়াইও চলমান রয়েছে। ২০২৪ সালে আরেকটি মানহানি মামলায় আদালত ক্যারলের পক্ষে প্রায় ৮৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের রায় দেয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধেও ট্রাম্প বর্তমানে উচ্চ আদালতে আপিল করে রেখেছেন। ফলে দুই পক্ষের আইনি বিরোধ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং ভবিষ্যতেও এ নিয়ে আদালতে শুনানি চলবে।

আইন বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বর্তমান বা সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত দেওয়ানি মামলায় এ ধরনের উচ্চ অঙ্কের ক্ষতিপূরণ এবং আদালতের রায় বাস্তবায়ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলমান একাধিক আইনি মামলার মধ্যে এটি অন্যতম বহুল আলোচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রায়ের আর্থিক দিক যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ এর প্রতীকী মূল্য। যৌন নিপীড়ন এবং মানহানির অভিযোগে আদালতের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের জবাবদিহির প্রশ্নকে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে এটি যৌন সহিংসতার অভিযোগকারীদের জন্য বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের সমর্থকদের একটি অংশ এখনও দাবি করে আসছেন, তার বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলোর অনেকগুলোই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে আদালতের রায় কার্যকর হওয়ায় বিষয়টি এখন নতুন করে জনমত ও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আপিল প্রক্রিয়ার ফলাফল এবং দ্বিতীয় মানহানি মামলার ভবিষ্যৎ রায়ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত