প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলা নাটকের দর্শকদের জন্য আবারও সুখবর নিয়ে ফিরছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান। দীর্ঘ প্রায় আট বছর পর নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় অভিনয় করেছেন তিনি। ভালোবাসা, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মানুষের গভীর আবেগকে কেন্দ্র করে নির্মিত নতুন নাটক ‘পথহারা মন’-এ প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে এই গুণী অভিনেতাকে। তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় দুই অভিনয়শিল্পী খায়রুল বাসার ও তানজিম সাইয়ারা তটিনী। এছাড়া নাটকের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন দীপা খন্দকার, ডা. এজাজুল ইসলাম এবং মনিরা আক্তার মিঠুর মতো অভিজ্ঞ শিল্পীরা।
দীর্ঘদিন পর রাজ ও জাহিদ হাসানের এই পুনর্মিলন ইতোমধ্যেই নাটকপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। ২০১৮ সালে বৈশাখী টেলিভিশনে প্রচারিত জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘ছেলেমানুষি’-তে শেষবার একসঙ্গে কাজ করেছিলেন তারা। এরপর দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে আবারও নতুন গল্পে এক হয়েছেন নির্মাতা ও অভিনেতা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি নতুন নাটকের মুক্তিই নয়, বরং দর্শকদের জন্য একটি বহুল প্রতীক্ষিত পুনর্মিলনের মুহূর্ত।
নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ জানিয়েছেন, ‘পথহারা মন’ শুধুই একটি প্রেমের গল্প নয়; এটি মানুষের সম্পর্ক, বিশ্বাস, অভিমান, ত্যাগ এবং জীবনের বাস্তব অনুভূতিগুলোকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি আবেগঘন নাটক। তার ভাষায়, এমনভাবে গল্পটি নির্মাণ করা হয়েছে যাতে দর্শক নিজেদের জীবনের নানা মুহূর্ত এই নাটকের চরিত্রগুলোর মধ্যে খুঁজে পান। তিনি মনে করেন, মানুষের সম্পর্ক কখনো সরলরৈখিক নয়; সেখানে যেমন ভালোবাসা থাকে, তেমনি থাকে ভুল বোঝাবুঝি, দূরত্ব, প্রত্যাশা এবং ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষাও। সেই বাস্তব অনুভূতিকেই নাটকের গল্পে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
নাটকের কাহিনিতে প্রেমকে শুধুমাত্র রোমান্টিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বরং পরিবার, আত্মত্যাগ, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের ভেতরের আবেগের জটিল দিকগুলোও এতে গুরুত্ব পেয়েছে। নির্মাতার বিশ্বাস, বর্তমান সময়ের দর্শক শুধু বিনোদন নয়, এমন গল্পও খোঁজেন যেখানে নিজেদের জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাওয়া যায়। সেই ভাবনা থেকেই ‘পথহারা মন’ নির্মাণ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর জাহিদ হাসানকে নিয়ে কাজ করার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রাজ বলেন, জাহিদ হাসান এমন একজন অভিনেতা, যিনি যেকোনো চরিত্রকে নিজের অভিনয় দক্ষতায় জীবন্ত করে তুলতে পারেন। তার অভিজ্ঞতা, সংলাপ বলার ভঙ্গি এবং চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করার ক্ষমতা নাটকটিকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে। একই সঙ্গে তরুণ ও অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পীদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ে উঠেছে, যা পুরো কাজকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।
অন্যদিকে জাহিদ হাসানও এই নতুন কাজ নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, রাজের সঙ্গে তার কাজের অভিজ্ঞতা সবসময়ই আনন্দের। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও একসঙ্গে কাজ করতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট। তার মতে, ‘পথহারা মন’-এর গল্প অত্যন্ত আন্তরিক এবং বাস্তবধর্মী। এতে তার অভিনীত চরিত্রটি বেশ চ্যালেঞ্জিং, কারণ চরিত্রটির ভেতরে আবেগের নানা স্তর রয়েছে, যা ফুটিয়ে তুলতে অভিনয়ের সূক্ষ্মতা প্রয়োজন হয়েছে। শুটিংয়ের পুরো পরিবেশও ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক এবং সহযোগিতাপূর্ণ।
নাটকটিতে খায়রুল বাসার ও তানজিম সাইয়ারা তটিনীর উপস্থিতিও বিশেষভাবে নজর কাড়বে বলে আশা করছেন নির্মাতা। সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই অভিনয়শিল্পী দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তাদের সঙ্গে জাহিদ হাসানের অভিজ্ঞ অভিনয়ের সমন্বয় নাটকটিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস। একই সঙ্গে দীপা খন্দকার, ডা. এজাজুল ইসলাম এবং মনিরা আক্তার মিঠুর মতো গুণী শিল্পীদের উপস্থিতি নাটকের অভিনয়শৈলীতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
নাটকের গল্প লিখেছেন জাকিয়া হোসেন তৃষা। চিত্রনাট্য রচনা করেছেন আসাদ জামান এবং নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। গল্প ও চিত্রনাট্যে সম্পর্কের সূক্ষ্ম মনস্তত্ত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সংলাপ ও চরিত্র নির্মাণেও বাস্তব জীবনের অনুভূতির প্রতিফলন রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে দর্শক সহজেই গল্পের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারেন।
বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। সেই ধারাবাহিকতায় ‘পথহারা মন’ মুক্তি পাবে ইউটিউবের ‘সিনেমাওয়ালা’ চ্যানেলে। নির্মাতার আশা, প্রচলিত টেলিভিশনের পাশাপাশি অনলাইন দর্শকরাও নাটকটি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবেন। বিশেষ করে তরুণ দর্শকদের পাশাপাশি পারিবারিক দর্শকদের কথা মাথায় রেখেই নাটকটির নির্মাণ পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বাংলা নাটকের ইতিহাসে জাহিদ হাসান বরাবরই শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত। হাস্যরস, পারিবারিক গল্প কিংবা আবেগঘন চরিত্র—সব ধরনের ভূমিকাতেই তিনি নিজের স্বতন্ত্রতা প্রমাণ করেছেন। অন্যদিকে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজও মানবিক গল্প ও সম্পর্কভিত্তিক নাটক নির্মাণে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। ফলে দীর্ঘ বিরতির পর তাদের এই নতুন কাজ নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি।
নির্মাতা ও শিল্পীরা আশা করছেন, ‘পথহারা মন’ শুধু একটি প্রেমের গল্প হিসেবেই নয়, বরং সম্পর্কের গভীরতা, মানুষের অনুভূতি এবং জীবনের বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে। ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, প্রত্যাশা এবং ফিরে পাওয়ার আবেগে নির্মিত এই নাটকটি মুক্তির পর দর্শকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলেই তারা আশাবাদী।