প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং বিশ্বসংস্কৃতি, সংগীত, বিনোদন ও বৈশ্বিক উদ্যাপনের এক অনন্য মিলনমেলা। চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত এই মহাযজ্ঞের শেষ অধ্যায়ও তাই হয়ে ওঠে কোটি দর্শকের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। আগামী ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে এমন এক বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে দেখা যাবে হলিউড, পপসংগীত ও ডিজিটাল বিনোদন জগতের বিশ্বখ্যাত তারকাদের।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, এবারের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ উপস্থিতি থাকবে হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজের। তাঁর সঙ্গে অংশ নেবেন ইতালির জনপ্রিয় গায়িকা লরা পাউসিনি, মার্কিন সংগীতশিল্পী নিকোল শেরজিঙ্গার, ব্রিটিশ পপ তারকা রবি উইলিয়ামস এবং বিশ্বজুড়ে আলোচিত ইউটিউবার ও কনটেন্ট নির্মাতা আইশোস্পিড। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি শুধু একটি সমাপনী অনুষ্ঠান নয়, বরং ক্রীড়া ও বিনোদনের এক অসাধারণ বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত হতে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার সমাপনী অনুষ্ঠানের শিল্পীদের তালিকা প্রকাশ করে ফিফা জানায়, ৪৮টি দল, তিনটি স্বাগতিক দেশ এবং ১৬টি আয়োজক শহর নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের সফল সমাপ্তিকে স্মরণীয় করে তুলতেই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, ফুটবলের আবেগের সঙ্গে সংগীত, সংস্কৃতি ও বিশ্ববিনোদনের সমন্বয় ঘটিয়ে কোটি দর্শকের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়াই এবারের লক্ষ্য।
বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের কাছে ‘মিশন: ইম্পসিবল’ সিরিজের মাধ্যমে পরিচিত টম ক্রুজকে এবার ‘বিশেষ উপস্থিতি’র অতিথি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও তিনি সংগীত পরিবেশন করবেন না, তবুও তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে ভিন্ন মাত্রা দেবে বলে মনে করছেন আয়োজকেরা। এর আগে বিশ্বকাপের একাধিক ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে ফুটবল উপভোগ করতে দেখা গেছে তাঁকে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের সমাপনী অনুষ্ঠানে তাঁর রোমাঞ্চকর স্টান্ট পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। ফলে এবারও তাঁকে ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা তুঙ্গে।
এবারের সমাপনী অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের একাধিক খ্যাতিমান শিল্পী। ইতালীয় গায়িকা লরা পাউসিনি দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বসংগীতের পরিচিত মুখ। অন্যদিকে পুসিক্যাট ডলস ব্যান্ডের সাবেক সদস্য নিকোল শেরজিঙ্গার তাঁর শক্তিশালী কণ্ঠ ও মঞ্চ উপস্থিতির জন্য সমাদৃত। ব্রিটিশ পপসংগীতের জনপ্রিয় শিল্পী রবি উইলিয়ামসও থাকছেন এই আয়োজনে। তাঁদের পরিবেশনা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ফাইনালের আগে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিডকেও পারফর্মার হিসেবে যুক্ত করেছে ফিফা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফুটবল বিষয়ক কনটেন্ট, তারকাদের সঙ্গে মজার মুহূর্ত এবং প্রাণবন্ত উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। বিশেষ করে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং ফুটবলকেন্দ্রিক নানা আয়োজন তাঁকে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ ডিজিটাল প্রজন্মের দর্শকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে ফাইনাল ম্যাচ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করবেন এমি, গ্র্যামি, অস্কার এবং টনি—এই চারটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কারজয়ী শিল্পী জেনিফার হাডসন। তাঁর কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনা পুরো স্টেডিয়ামে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফিফা জানিয়েছে, সমাপনী অনুষ্ঠানটি আয়োজন করছে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান বালিচ ওয়ান্ডার স্টুডিও। প্রতিষ্ঠানটি এর আগেও বিশ্বমানের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সফলতার পরিচয় দিয়েছে। এবারও তাদের লক্ষ্য ফুটবল, সংগীত, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতিকে একত্রিত করে এমন একটি অনুষ্ঠান উপহার দেওয়া, যা দীর্ঘদিন দর্শকদের স্মৃতিতে রয়ে যাবে।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হেইমো শিরগি বলেন, কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যেভাবে বিশ্বকে স্বাগত জানিয়েছিল, ঠিক তেমনি সমাপনী অনুষ্ঠানও এই ঐতিহাসিক আসরের পূর্ণতা দেবে। তাঁর ভাষায়, ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়; এটি বিশ্বের নানা সংস্কৃতি, ভাষা ও মানুষের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক। সেই বার্তাকেই সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুনভাবে তুলে ধরা হবে।
তিনি আরও জানান, সমাপনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরই শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপের ফাইনাল। সেখানে নির্ধারিত হবে ২০২৬ সালের নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ফলে একই দিনে দর্শকরা একদিকে যেমন উপভোগ করবেন বিশ্বমানের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, অন্যদিকে প্রত্যক্ষ করবেন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ১৬টি শহরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতা বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। আয়োজকদের বিশ্বাস, সমাপনী অনুষ্ঠান এই বিশাল আয়োজনের যথার্থ সমাপ্তি টানবে।
জানা গেছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে সমাপনী অনুষ্ঠান শুরু হবে, যা ফাইনালের নির্ধারিত কিক-অফের প্রায় ৯০ মিনিট আগে। দর্শকদের জন্য স্টেডিয়ামের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হবে সকাল ১১টায়। সমাপনী অনুষ্ঠান ছাড়াও দর্শকদের জন্য থাকবে নানা ধরনের ইন্টারঅ্যাকটিভ কার্যক্রম, বিশেষ প্রদর্শনী, পুরস্কার এবং ম্যাচপূর্ব বিনোদনের আয়োজন।
ফিফা আরও জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া আরও কয়েকজন শিল্পী ও বিশেষ অতিথির নাম ঘোষণা করা হবে। ফলে ফাইনালের আগে এই তারকাখচিত আয়োজন নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ প্রতিদিনই বাড়ছে। মাঠে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের লড়াই যেমন উত্তেজনা ছড়াবে, তেমনি মাঠের বাইরের এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানও বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমাপ্তিকে স্মরণীয় করে রাখবে।