ইসরাইলি মিললেই বহিষ্কার: কঠোর বার্তা আনোয়ারের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
  • ১৬ বার
ইসরাইলি মিললেই বহিষ্কার: কঠোর বার্তা আনোয়ারের

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মালয়েশিয়ায় কোনো ইসরাইলি নাগরিকের উপস্থিতি শনাক্ত হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিম। তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়া ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না এবং সেই নীতিগত অবস্থান থেকে সরকার কোনোভাবেই আপস করবে না। সম্প্রতি দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের জোহর রাজ্যের ফরেস্ট সিটি এলাকায় একটি বেসরকারি আবাসিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কমিউনিটির কার্যক্রমে একজন ইসরাইলি নাগরিক জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন তিনি।

বুধবার দেওয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিম বলেন, সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে সরকারি কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি কোনো ইসরাইলি নাগরিকের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়, তাহলে তাকে অবিলম্বে মালয়েশিয়া থেকে বহিষ্কার করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি কোনো ইসরাইলিকে খুঁজে পাই, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে দেশ থেকে বের করে দেব। কারণ মালয়েশিয়া ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।’ তাঁর এই বক্তব্য দেশটির দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিরই পুনরুল্লেখ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারের বক্তব্যের পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে জোহর রাজ্যের ফরেস্ট সিটিতে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক স্টার্টআপ কমিউনিটি, যার নাম ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে একজন ইসরাইলি নাগরিক সম্পৃক্ত রয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের আওতায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান এবং তাদের অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে।

এদিকে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, ফরেস্ট সিটির আন্তর্জাতিক কমিউনিটিতে পরিচালিত এক পরিদর্শনে ২৬৬ জন বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, সেখানে অবস্থানকারী প্রত্যেক বিদেশির বৈধ অভিবাসন নথি রয়েছে। তবে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।

ফরেস্ট সিটি মালয়েশিয়ার অন্যতম উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন প্রকল্প। সিঙ্গাপুর সীমান্তের কাছাকাছি জোহর রাজ্যে কৃত্রিম দ্বীপের ওপর গড়ে ওঠা এই মিশ্র-ব্যবহারের প্রকল্পে আবাসন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি খাতের উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক কমিউনিটির বসবাসের ব্যবস্থা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি বিদেশি উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে ফিলিস্তিন প্রশ্ন বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। দেশটি বহু বছর ধরে ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে এবং ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। সেই কারণে ইসরাইলি পাসপোর্টধারীদের জন্য মালয়েশিয়ায় প্রবেশ সাধারণত নিষিদ্ধ। বিশেষ সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনো ইসরাইলি নাগরিকের দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিমের সাম্প্রতিক বক্তব্য মূলত সেই নীতিগত অবস্থানকেই আরও দৃঢ়ভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছে। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়া তাদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না।

মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, প্রতিটি রাষ্ট্রই নিজস্ব অভিবাসন ও পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ ও অবস্থান সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করতে পারে। তবে একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে ফরেস্ট সিটিকে ঘিরে শুরু হওয়া তদন্তের ফলাফলের দিকে এখন নজর রয়েছে দেশটির রাজনৈতিক মহল, বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সরকারি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিমের এই বক্তব্য আবারও স্পষ্ট করেছে যে, ইসরাইলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতিতে দেশটি অনড় রয়েছে। ফরেস্ট সিটিকে ঘিরে চলমান তদন্তের ফলাফল এখন নির্ধারণ করবে অভিযোগের পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হবে। তবে সরকারের বার্তা স্পষ্ট—যদি কোনো ইসরাইলি নাগরিকের অবৈধ বা অননুমোদিত উপস্থিতি নিশ্চিত হয়, তাহলে তাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত