রাজধানীতে নৃশংস হামলায় প্রাণ গেল বিএনপি কর্মীর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
  • ৪০ বার
রাজধানীতে নৃশংস হামলায় প্রাণ গেল বিএনপি কর্মীর

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর সবুজবাগে পূর্বশত্রুতার জেরে মো. পলাশ (৩৪) নামে বিএনপির এক কর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার রাতের এ ঘটনায় নিহতের স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে পলাশকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় ৮টার দিকে সবুজবাগ থানার রাজারবাগ বাজার এলাকার পানির পাম্পসংলগ্ন একটি মুদি দোকানের সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পলাশ সেখানে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়িভাবে কোপাতে থাকে। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার একপর্যায়ে তাঁর দুই হাতের কব্জিতেও গুরুতর আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

নিহত পলাশ লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর সবুজবাগ এলাকার মাদারটেকে বসবাস করছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি দীর্ঘদিন প্রাইভেটকার চালকের কাজ করলেও সম্প্রতি সেই পেশা থেকে সরে এসেছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে দলীয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পলাশকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রতিবেশী হীরা গণমাধ্যমকে জানান, রাত ৮টার দিকে পলাশ রাজারবাগ বাজারের একটি মুদি দোকানের সামনে ছিলেন। এ সময় পূর্বশত্রুতার জেরে স্থানীয় রয়েল, সবুজ, নাঈমসহ কয়েকজন তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসক তাঁর জীবন রক্ষা করতে পারেননি।

তবে হামলার পেছনে কী ধরনের পূর্ববিরোধ ছিল বা এর প্রকৃত কারণ কী, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, স্থানীয় আধিপত্য কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সবুজবাগ থানাকে জানানো হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সবুজবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়, হামলার পরিকল্পনা এবং এর নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ব্যস্ত এলাকায় প্রকাশ্যে এমন নৃশংস হামলার ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাঁদের মতে, জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় সংঘটিত এমন হত্যাকাণ্ড শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যই নয়, স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্যও উদ্বেগের বিষয়। অনেকেই দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের কোনো ব্যক্তি হত্যার ঘটনায় প্রকৃত কারণ উদঘাটন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যক্তিগত বিরোধ, স্থানীয় দ্বন্দ্ব কিংবা রাজনৈতিক বিরোধ—যে কারণেই ঘটনা ঘটুক না কেন, তদন্তের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে গুজব ও বিভ্রান্তিও কমবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, হত্যা মামলার তদন্তে প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, আলামত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং প্রযুক্তিগত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের পরই তদন্তকারী সংস্থা ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

বর্তমানে পলাশ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। নিহতের প্রতিবেশীর দেওয়া অভিযোগ এবং প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে পলাশের মৃত্যুর খবরে তাঁর স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রাও দ্রুত তদন্ত শেষ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত