বস্তুনিষ্ঠ সংবাদে সমাজ-রাষ্ট্র উপকৃত: প্রতিমন্ত্রী ইকবাল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ১৪ বার
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদে সমাজ-রাষ্ট্র উপকৃত: প্রতিমন্ত্রী ইকবাল

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যম কেবল তথ্য পরিবেশনের মাধ্যম নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান শক্তি। তিনি বলেন, সত্যনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সমাজে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হয়, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি হয় এবং রাষ্ট্রও উপকৃত হয়। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

সোমবার (২৭ জুলাই) ময়মনসিংহের গৌরীপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানানো হয় এবং একই সঙ্গে গৌরীপুর প্রেসক্লাবের নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধনও করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেন, বর্তমান সরকার একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্ববোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই, নিরপেক্ষতা এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর ভাষায়, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সহায়তা করে এবং রাষ্ট্রের উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকে দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং জনগণের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে সহায়তা করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সাংবাদিকদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও দেশপ্রেম ও নৈতিকতার চর্চার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাদক এবং সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে শুধু সরকারের একার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ জন্য গণমাধ্যম, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সামাজিক অপরাধ দমনে সচেতন নাগরিক সমাজ এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই।

গৌরীপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের নবনির্মিত বহুতল ভবনের কাজের উদ্বোধনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন বক্তারা। তাদের মতে, নতুন ভবন নির্মিত হলে স্থানীয় সাংবাদিকদের পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনা, প্রশিক্ষণ, মতবিনিময় এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য আরও উন্নত পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এটি স্থানীয় গণমাধ্যমের বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গৌরীপুর প্রেসক্লাবের সহসভাপতি কমল সরকার। সভা পরিচালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম। এ সময় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইনের হাতে ফুলেল শুভেচ্ছা এবং সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সমস্যা, সম্ভাবনা এবং জনদুর্ভোগ তুলে ধরতে সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রশাসন ও সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা থাকলে জনসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও। তারা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে পড়ার কারণে গুজব ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে মূলধারার গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই তথ্য যাচাই এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করতে হবে।

গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং দায়িত্বশীলতা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি জনগণের সামনে উপস্থাপন করাই সংবাদমাধ্যমের অন্যতম দায়িত্ব। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভুলতা ও নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ে প্রেসক্লাবগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাংবাদিকদের পেশাগত পরিবেশ উন্নত করতে সহায়ক হবে। প্রশিক্ষণ, গবেষণা, তথ্য আদান-প্রদান এবং সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের মান আরও উন্নত হবে। সেই সঙ্গে গণমাধ্যমের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সমস্যা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রও আরও বিস্তৃত হবে।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিক, সুধীজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, গৌরীপুর প্রেসক্লাবের নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে স্থানীয় সাংবাদিকদের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বিকাশে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ ও জনস্বার্থভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার যে আহ্বান অনুষ্ঠানে উঠে এসেছে, তা বাস্তবায়নে গণমাধ্যমকর্মীরা আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত