প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে উপশাখা দায়িত্বশীল কর্মশালা এবং ‘অদম্য জুলাই’ শীর্ষক মিছিল। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, নেতৃত্বের বিকাশ, সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং শহীদদের স্মরণে ছাত্র-জনতার ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মশালা শেষে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, যা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় তানোর উপজেলা সদরের আব্দুল্লাহ কমিউনিটি সেন্টারে কর্মশালার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী জেলা পশ্চিম শাখার সভাপতি রেজুয়ানুল ইসলাম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা পশ্চিম শাখার সাধারণ সম্পাদক আতোয়ার রহমান। কর্মশালায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে সংগঠনের আদর্শ, নৈতিক মূল্যবোধ, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, একজন দায়িত্বশীল সংগঠককে শুধু সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেই নয়, সমাজের বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। তরুণদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন তানোর উপজেলা পূর্ব শাখার সভাপতি তৌহিদুল জামাল তোহিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ। এছাড়া উপজেলা পশ্চিম শাখার সভাপতি সানাউল্লা ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ এবং উপজেলা দক্ষিণ শাখার সভাপতি রাফিউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদ ইসলাম নিজ নিজ বক্তব্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা পর্বে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ এবং সমাজের বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব। তারা সংগঠনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে পারস্পরিক সমন্বয়, শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
কর্মশালা শেষে বিকেল ৫টার দিকে ‘শহীদদের স্বপ্ন পূরণে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম’ প্রতিপাদ্যে ‘অদম্য জুলাই’ শীর্ষক একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি তানোর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে থানা মোড় (জিরো পয়েন্ট), গোল্লাপাড়া বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে পুনরায় থানা মোড়ে এসে একটি সংক্ষিপ্ত পথসভার মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।
মিছিলে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার নিয়ে নির্ধারিত রুটে পদযাত্রা করেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।
মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদির। তিনি তাঁর বক্তব্যে সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং জনসম্পৃক্ততার বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তরুণদের ইতিবাচক ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়া সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তানোর পৌরসভায় জামায়াত মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী এবং পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মাহবুর চৌধুরী। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে জনসেবামূলক কার্যক্রম, সামাজিক সম্প্রীতি এবং নাগরিক অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন বক্তা বলেন, সংগঠনের দায়িত্বশীলদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও তারা গুরুত্ব দেন।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠনগুলোর কর্মসূচি গণতান্ত্রিক চর্চার একটি অংশ। তবে এসব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত এবং জনদুর্ভোগমুক্তভাবে পরিচালিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখাও রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক বলে তারা মনে করেন।
তানোরে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালা ও ‘অদম্য জুলাই’ মিছিলও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে বলে আয়োজক এবং স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাংগঠনিক ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং জনসম্পৃক্ততা আরও বৃদ্ধি পাবে।