ইনকিলাব মঞ্চে নতুন নেতৃত্ব, আহ্বায়ক জাবের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ১১ বার
ইনকিলাব মঞ্চে নতুন নেতৃত্ব, আহ্বায়ক জাবের

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ছাত্র ও তরুণদের সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনটির সাধারণ সভায় সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে আট সদস্যের একটি আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে আবদুল্লাহ আল জাবেরকে আহ্বায়ক এবং ফাতিমা তাসনিম জুমাকে সদস্যসচিব নির্বাচিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের সাবেক আহ্বায়ক ও মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে ‘আজীবন মুখপাত্র’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ এবং নেতৃত্বের বিকাশের লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় সংগঠনের সাধারণ সভায় সদস্যদের সরাসরি ভোটে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। পরে রাতে ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে নবগঠিত কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের নেতারা জানান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সদস্যদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে, যা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

নবনির্বাচিত আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের দীর্ঘদিন ধরে ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি এর আগে সংগঠনটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার মাধ্যমে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনায় তিনি নেতৃত্ব দেবেন।

নতুন সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমাও ছাত্ররাজনীতিতে পরিচিত একটি নাম। তিনি এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি গত বছরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাঁকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আনা হয়েছে বলে সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন।

নতুন কমিটি ঘোষণার পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়াত নেতা শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির অবদানও স্মরণ করা হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি নিহত হন। মৃত্যুর সময় তিনি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সংগঠনের প্রতিষ্ঠা, সাংগঠনিক সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে ‘আজীবন মুখপাত্র’ ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনের নেতাদের মতে, এটি তাঁর সাংগঠনিক অবদানের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি প্রতীকী সিদ্ধান্ত।

ঘোষিত আংশিক কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রকিবুল ইসলাম (রাফসান রাকিব)। সহসাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন শোয়াইব বিন আহসান সিয়াম। দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রায়হান আহমেদকে এবং অর্থ সম্পাদক হয়েছেন মুহাম্মদ ওমায়ের। মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নাঈম ইবনে জহির এবং সহমিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক করা হয়েছে হাবিবুল্লাহ মিসবাহকে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন নেতৃত্ব সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

একই সঙ্গে সংগঠনকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি সার্চ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যোগ্য, সক্রিয় ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ সদস্যদের মূল্যায়নের মাধ্যমে আংশিক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার জন্য এই সার্চ কমিটি কাজ করবে। সার্চ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে জি এ সাব্বিরকে এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাসুদুর রহমান আদনান। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন আসাদুজ্জামান আসাদ, হিশাম ইব্রাহিম, শান্তা আক্তার এবং শাফিন শাররাজ।

সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, সার্চ কমিটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংগঠনের কার্যক্রম, সদস্যদের সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নেতৃত্বের যোগ্যতা মূল্যায়ন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটির জন্য সুপারিশ করবে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি বিভিন্ন সাংগঠনিক স্তরেও কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন ছাত্র ও তরুণ সংগঠনের মতো ইনকিলাব মঞ্চও সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিদের দায়িত্ব প্রদান সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে একটি সংগঠনের কার্যকারিতা নির্ভর করে শুধু নেতৃত্ব নির্বাচনের ওপর নয়; বরং সাংগঠনিক দক্ষতা, অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা, সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের ওপরও।

পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং ঘোষিত নীতিমালা বাস্তবায়ন করা। একই সঙ্গে তরুণদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ এবং জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি পরিচালনার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচি, মতবিনিময় সভা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হবে।

সংগঠন-সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ইনকিলাব মঞ্চের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে প্রয়াত নেতা শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির সাংগঠনিক অবদানকে স্মরণ রেখে সংগঠনটি তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত