ক্যান্টন ফেয়ারে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সহজ করল চীন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ১৪ বার
ক্যান্টন ফেয়ারে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সহজ করল চীন

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আগ্রহী দর্শনার্থীদের জন্য বড় ধরনের সুখবর দিয়েছে চীন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘ক্যান্টন ফেয়ার’-এ অংশগ্রহণে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস। নতুন এই উদ্যোগের ফলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জটিলতা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঢাকায় চীনা দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চীনের গুয়াংজু শহরে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আমদানি-রপ্তানি প্রদর্শনী ১৪০তম ক্যান্টন ফেয়ার। তিনটি ধাপে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং ক্রেতারা অংশ নেবেন। বাংলাদেশ থেকেও প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবসায়ী এ মেলায় অংশগ্রহণ করেন এবং নতুন পণ্য, প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পাওয়ার সুযোগ গ্রহণ করেন।

চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, এবার ক্যান্টন ফেয়ারে অংশ নিতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও সহজ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভিসার জন্য আবেদন করতে কেবল ১৪০তম ক্যান্টন ফেয়ারের অফিসিয়াল আমন্ত্রণপত্র জমা দিলেই হবে। এই আমন্ত্রণপত্রই হবে আবেদন প্রক্রিয়ার একমাত্র বাধ্যতামূলক নথি। ফলে অতিরিক্ত বিভিন্ন কাগজপত্র সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে এবং আবেদনকারীরা দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন।

তবে দূতাবাস স্পষ্ট করেছে, আবেদনকারীরা চাইলে অনলাইন আবেদনপত্রের সঙ্গে অতিরিক্ত সহায়ক নথি সংযুক্ত করতে পারবেন। এর মধ্যে পূর্বে চীনে ভ্রমণের ভিসা, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের রেকর্ড কিংবা প্রতিষ্ঠানের গ্যারান্টি লেটারের মতো নথি থাকতে পারে। এসব কাগজপত্র বাধ্যতামূলক না হলেও আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দূতাবাস আরও জানিয়েছে, ভিসা আবেদনপত্রে ভুল, অসম্পূর্ণ বা অসত্য তথ্য থাকলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না। প্রয়োজন হলে সংশোধনের জন্য আবেদন ফেরত পাঠানো হতে পারে। এজন্য আবেদনকারীদের অনলাইন ফরম অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নাম, পাসপোর্ট নম্বর, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য যেন নির্ভুল থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতারণা সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তাও দিয়েছে চীনা দূতাবাস। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভুয়া বা পরিবর্তিত আমন্ত্রণপত্র, জাল নথি কিংবা মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে আবেদন করলে শুধু বর্তমান আবেদন বাতিলই হবে না, ভবিষ্যতে চীনের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে আবেদনকারীদের বৈধ ও নির্ভরযোগ্য নথি ব্যবহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দূতাবাস আরও স্পষ্ট করেছে যে, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা এজেন্সিকে বিশেষভাবে ভিসা অনুমোদনের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে ‘নিশ্চিত ভিসা’, ‘ভিসা না হলে টাকা লাগবে না’, ‘ভেতরের যোগাযোগ’ কিংবা ‘বিশেষ চ্যানেলে দ্রুত ভিসা’—এ ধরনের প্রচারণা সম্পূর্ণ প্রতারণামূলক। এসব প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আবেদনকারীদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিসার ধরন, মেয়াদ, একাধিকবার প্রবেশের সুযোগ এবং অবস্থানের সময়সীমা প্রতিটি আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, নথিপত্র এবং বিদ্যমান অভিবাসন নীতির আলোকে পৃথকভাবে নির্ধারণ করা হবে। তাই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আগাম ভিসা নিশ্চিত করার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, উৎপাদন এবং আমদানি-রপ্তানি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিকস, গার্মেন্টস সরঞ্জাম, নির্মাণসামগ্রী, স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি এবং ভোক্তা পণ্য আমদানির জন্য ক্যান্টন ফেয়ারকে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করেন।

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার ফলে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক এই প্রদর্শনীতে অংশ নিতে পারবেন। এর মাধ্যমে নতুন ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পাওয়া, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতাও আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

চীনা দূতাবাস আবেদনকারীদের যেকোনো তথ্য বা অভিযোগের জন্য নির্ধারিত সরকারি ই-মেইল এবং ঢাকায় চীনা ভিসা আবেদন সেবা কেন্দ্রের হটলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। দূতাবাস বলেছে, শুধুমাত্র সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদন করলে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও নিরাপদ থাকবে।

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য বিশ্বের অন্যতম বড় বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ আরও সহজ করে দেওয়ার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এটি শুধু ভিসা প্রক্রিয়াকে সহজ করবে না, বরং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত