রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চার রাত সীমিত থাকবে কর্ণফুলী টানেল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ১২ বার
রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চার রাত সীমিত থাকবে কর্ণফুলী টানেল

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রকৌশল ও যোগাযোগ বিস্ময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল বা কর্ণফুলী টানেলে নিয়মিত রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা যাচাইকরণের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এই কারিগরি কাজের সুবাদে আগামী টানা চার রাত টানেলের ভেতর দিয়ে যানবাহন চলাচল আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। টানেলের ভেতরের অবকাঠামো, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, আলোকায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত বিভিন্ন যন্ত্রাংশের কার্যকারিতা নিরবচ্ছিন্ন ও নিখুঁত রাখতে এই বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন প্রকৌশলীরা। এর ফলে প্রতিদিন রাতের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে চালকদের সামান্য বিলম্বের মুখোমুখি হতে হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা মূলত যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থেই নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার, অর্থাৎ ২৮ জুলাই, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি গণমাধ্যম ও দেশবাসীর অবগতির জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগামী ২৮ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ৩১ জুলাই পর্যন্ত মোট চার দিন এই রক্ষণাবেক্ষণের কাজ পরিচালিত হবে। এই সময়সীমার মধ্যে প্রতিদিন দিবাগত রাত এগারোটা থেকে শুরু করে পরদিন ভোর পাঁচটা পর্যন্ত একটানা ছয় ঘণ্টা করে টানেলের ভেতরে রক্ষণাবেক্ষণ টিমের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানরা তাঁদের কারিগরি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। রাতের এই নির্দিষ্ট সময়টিতে টানেলের মূল সুরঙ্গপথ বা টিউবগুলোর ওপর চাপ কমানোর জন্য এবং কাজ পরিচালনার সুবিধার্থে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, রক্ষণাবেক্ষণ চলাকালীন এই চার রাত টানেলের দুটি টিউবের মধ্যে যেকোনো একটি টিউব সম্পূর্ণ সচল রেখে অন্যটিতে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা হবে। ট্রাফিক ডাইভারসন বা পথ পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারা অভিমুখী কিংবা আনোয়ারা থেকে পতেঙ্গা অভিমুখী টিউবের যেকোনো একটির ভেতর দিয়েই উভয়মুখী সীমিত যান চলাচল অব্যাহত রাখা হবে। অর্থাৎ, এক টিউব দিয়েই দুই পাশের যানবাহনগুলো নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খলভাবে পারাপার করানো হবে, যাতে জরুরি পরিবহন এবং রাতের বেলা যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ না হয়ে যায়। এই অস্থায়ী ব্যবস্থাপনা চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো টানেলের ভেতর আধুনিক প্রযুক্তির যে যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম রয়েছে, সেগুলোর কোনো ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সারিয়ে ফেলা।

এদিকে সেতু কর্তৃপক্ষ সাধারণ যাত্রী, চালক এবং পরিবহন মালিকদের সতর্ক করে আরও জানিয়েছে যে, এই ট্রাফিক ডাইভারসন ও সীমিত চলাচলের কারণে টানেলের উভয় প্রান্তে সাময়িকভাবে কিছু যানবাহনের জটলা তৈরি হতে পারে। বর্তমান ট্রাফিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে টানেলের প্রবেশমুখে বা উভয় প্রান্তে অপেক্ষমাণ যাত্রী ও গাড়ি চালকদের সর্বনিম্ন পাঁচ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ দশ মিনিট পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। যদিও এই বিলম্বের সময়কাল খুব বেশি দীর্ঘ নয়, তবুও রাতের বেলা যাতায়াতকারী দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক এবং জরুরি ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের নিজ নিজ যাত্রার সময় কিছুটা হাতে রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সাময়িক এই ক্ষুদ্র ভোগান্তি ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ যাতায়াতের স্বার্থেই মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কর্ণফুলী নদীর তলদেশের এই জনগুরুত্বপূর্ণ টানেলটি চালু হওয়ার পর থেকেই চট্টগ্রাম শহর ও আনোয়ারা উপজেলার মধ্যকার যোগাযোগ ব্যবস্থার এক অভূতপূর্ব ও বিপ্লবী পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। কর্ণফুলী টানেল শুধু দুই তীরের দূরত্বই কমায়নি, বরং দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং পর্যটন খাতের প্রসারে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। নদীর তলদেশে নির্মিত এই জটিল অবকাঠামোর সুচারু রক্ষণাবেক্ষণ না করলে যেকোনো ধরনের বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি বা নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই নিয়মিত ও পর্যায়ক্রমিক এই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ টানেলের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করার পাশাপাশি চালক ও যাত্রীদের জীবন ও সম্পদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিধানে সবচেয়ে বেশি সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে বলে মত দিয়েছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা।

পরিশেষে, রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনাটির নিরাপদ এবং কার্যকর পরিচালনা নিশ্চিত করতে দেশের আপামর জনসাধারণ, পরিবহন মালিক সমিতি, চালক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সবার অকৃত্রিম সহযোগিতা কামনা করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। রাতের নির্ধারিত ওই চার ঘণ্টা টানেল পারাপারের সময় ট্রাফিক পুলিশ ও টানেল কতৃপক্ষের নিয়োজিত কর্মীদের নির্দেশনা ও সিগন্যাল যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দৃঢ় বিশ্বাস, সবার সম্মিলিত সচেতনতা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই এই চার রাতের রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ কাজ অত্যন্ত সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে দেশের যোগাযোগ খাতের নিরাপত্তাকে আরও বেশি শক্তিশালী ও টেকসই করে তুলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত