প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে। সংগঠনটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করে বাজুস। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একই দিন সকাল ১০টা থেকে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই দর বহাল থাকবে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের মূল্য পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নিয়মিত সমন্বয় করে আসছে সংগঠনটি।
নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকায়।
স্বর্ণের ওজনের প্রচলিত হিসাবে এক ভরি সমান ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম। ফলে বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, এক ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ কিনতে একজন ক্রেতাকে শুধু স্বর্ণের নির্ধারিত মূল্য হিসেবেই ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকার বেশি ব্যয় করতে হবে। এর সঙ্গে অলঙ্কারের নকশা ও তৈরির ধরন অনুযায়ী মজুরি যুক্ত হতে পারে।
বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে প্রযোজ্য ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। একই সঙ্গে অলঙ্কার বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। ডিজাইন বা অলঙ্কার তৈরির ধরন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে।
অলঙ্কার বিনিময় বা এক্সচেঞ্জ এবং পুরোনো স্বর্ণ বিক্রি করে নতুন অলঙ্কার কেনার ক্ষেত্রেও বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে। সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে এসব লেনদেন সম্পন্ন করতে হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে আবারও পরিবর্তন
স্বর্ণের বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে। এর মাত্র তিন দিন আগে, গত ৮ আগস্ট স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। তখন প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই দরও সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছিল।
৮ আগস্টের নির্ধারিত দরে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা।
সেই দাম কার্যকর হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই আবার মূল্য বাড়ানো হলো। ফলে স্বর্ণ কিনতে আগ্রহী সাধারণ ক্রেতা, বিয়ের বাজারের জন্য অলঙ্কার কিনতে যাওয়া পরিবার এবং জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
চলতি বছর ১০১ বার দাম সমন্বয়
বাজুসের হিসাব অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালে এ নিয়ে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ১০১ বার সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে ৫০ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৫০ দফা কমানো হয়েছে। এ ছাড়া একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।
এত ঘন ঘন দাম পরিবর্তনের ফলে দেশের স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামও ওঠানামা করছে।
বিশেষ করে স্বর্ণকে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এর দাম দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ দাম আরও বাড়ার আশঙ্কায় আগেভাগে স্বর্ণ কিনতে চাইছেন, আবার কেউ দাম কমার সম্ভাবনায় অপেক্ষা করছেন।
গত বছরের তুলনায়ও ঘন মূল্য পরিবর্তন
২০২৫ সালেও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম একাধিকবার পরিবর্তন করেছিল বাজুস। ওই বছর মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসের কিছু বেশি সময়েই মূল্য সমন্বয়ের সংখ্যা গত বছরের পুরো সময়ের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। ফলে স্বর্ণের বাজারে মূল্য পরিবর্তনের প্রবণতা যে আরও ঘন হয়েছে, তা বাজুসের পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট।
ক্রেতাদের জন্য নতুন দরের অর্থ
স্বর্ণের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ে অলঙ্কার কেনার ক্ষেত্রে। বিশেষ করে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনের জন্য যারা স্বর্ণ কিনতে চান, তাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হবে। একই সঙ্গে পুরোনো স্বর্ণ বিক্রি বা নতুন অলঙ্কারের সঙ্গে বিনিময়ের ক্ষেত্রেও বাজারদরের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের জন্যও ঘন ঘন মূল্য পরিবর্তন একটি চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিনের বাজারদর অনুযায়ী পণ্যের মূল্য নির্ধারণ, পুরোনো মজুতের হিসাব এবং ক্রেতাদের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন দর বিবেচনা করতে হয়।
স্বর্ণের দাম নির্ধারণে স্থানীয় বাজারের তেজাবি স্বর্ণের মূল্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাজুসের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতেও স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এর ভিত্তিতেই সংগঠনটি দেশের বাজারে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে।
ফলে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির নতুন দর ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এ দরই কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কার কেনার সময় নির্ধারিত স্বর্ণের মূল্যের পাশাপাশি প্রযোজ্য মজুরি ও অন্যান্য নিয়মও বিবেচনায় নিতে হবে।
স্বর্ণের দাম এভাবে ঘন ঘন পরিবর্তিত হওয়ায় সামনে আবারও নতুন দর ঘোষণা করা হবে কি না, সেটিই এখন বাজারসংশ্লিষ্টদের নজরে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী বাজুস পরবর্তী সময়ে নতুন করে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।