‘চক্রপূরণে’ বাংলাদেশকে জিততে হবে ভারত-ইংল্যান্ডে

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৩ বার

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় বাংলাদেশের বিদেশের মাটিতে সাফল্যের তালিকায় নতুন পালক যোগ করেছে। ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে নয় উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে অ্যাওয়ে জয়ের দিক থেকে আরও এক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ।

টেস্ট ক্রিকেটে ২৬ বছরের পথচলায় বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ১৬০ ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে জয় এসেছে ২৮টিতে। দেশের মাটিতে ১৮টি জয়ের বিপরীতে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ জিতেছে ১০টি টেস্ট।

এই ১০টি অ্যাওয়ে জয় এসেছে ছয়টি ভিন্ন দেশে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, শ্রীলংকা, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয় পেয়েছে লাল-সবুজের দল।

২০০৯ সালে কিংসটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম অ্যাওয়ে টেস্ট জয় আসে। এরপর বিদেশের মাটিতে ধীরে ধীরে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনটি অ্যাওয়ে জয় রয়েছে টাইগারদের। জিম্বাবুয়ে ও পাকিস্তানে দুটি করে এবং শ্রীলংকা, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় একটি করে টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনের জয় তাই শুধু আরেকটি অ্যাওয়ে জয় নয়, বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। কারণ বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী টেস্ট দলের মাঠে জয় পাওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজেদের সামর্থ্যের নতুন প্রমাণ দিয়েছে।

তবে বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয়ের তালিকা পূর্ণ করতে বাংলাদেশের সামনে এখনো কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড—এই তিন দলের মাটিতে এখনো টেস্ট জয়ের স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ।

এর মধ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাটিতে বাংলাদেশ একটি টেস্ট জিতেছে। কিন্তু ইংলিশ কন্ডিশনে এখনো জয় অধরা। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। নিজেদের মাঠে এই দুই দলকে এখনো টেস্টে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ।

ফলে ভারতের মাটিতে টেস্ট জয় বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় লক্ষ্য হয়ে আছে। উপমহাদেশের কন্ডিশনে ভারতের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাদের মাটিতে জয় পাওয়া এখনো সম্ভব হয়নি।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেও বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ কম নয়। সেখানকার বাউন্স ও গতি নির্ভর কন্ডিশনে বাংলাদেশকে বরাবরই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। একইভাবে ইংল্যান্ডের মাটিতে সুইং ও সিমিং কন্ডিশন বাংলাদেশের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।

তবে বর্তমান দল নিয়ে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস আগের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে সাম্প্রতিক সাফল্য খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা বাড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে জয় সেই আত্মবিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করবে।

এদিকে টেস্ট পরিবারের নবীন সদস্য আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও এখনো বিদেশের মাটিতে টেস্ট খেলেনি বাংলাদেশ। যদিও দেশের মাটিতে দুই দলকেই হারিয়েছে টাইগাররা।

অর্থাৎ বাংলাদেশের অ্যাওয়ে টেস্ট সাফল্যের মানচিত্র এখনো অসম্পূর্ণ। ছয়টি দেশে জয় পেলেও ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডে জয় না পাওয়ায় বড় তিনটি ঘাটতি রয়ে গেছে। পাশাপাশি আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগও এখনো আসেনি।

বিদেশের মাটিতে জয়কে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের উন্নতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১০টি অ্যাওয়ে জয় হয়তো সংখ্যার বিচারে খুব বড় নয়, কিন্তু প্রতিটি জয় এসেছে ভিন্ন পরিস্থিতি ও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

অস্ট্রেলিয়ার দুর্গে জয় সেই তালিকাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এখন বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য হতে পারে বাকি বড় দুর্গগুলো জয় করা। ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের মাটিতে জয় এলে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট সাফল্যের ‘চক্রপূরণ’ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত