শীতের আগেই কাঞ্চনজঙ্ঘা, পর্যটকের ভিড় পঞ্চগড়ে

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩১ বার

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে শীতের মৌসুম শুরুর আগেই দেখা মিলেছে বিশ্বের অন্যতম উচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার। অনুকূল আবহাওয়া ও মেঘমুক্ত আকাশে আগস্টের শুরু থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খালি চোখে বরফে ঢাকা পর্বতচূড়াটি দেখা যাচ্ছে।

কাঞ্চনজঙ্ঘার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকেরা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ছুটে আসছেন। স্থানীয়দের ধারণা, শীতের আগেই এমন দৃশ্যমানতা অব্যাহত থাকলে সামনে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সাধারণত সেপ্টেম্বরের দিকে পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হয়। তবে এবার প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় আগে থেকেই দেখা মিলছে বরফে ঢাকা এই পর্বতশৃঙ্গের। ভোরের আলো কিংবা বিকেলের শেষ সূর্যের রশ্মি পর্বতের গায়ে পড়লে এর রূপও বদলে যায়। কখনো সাদা, কখনো গোলাপি, আবার কখনো লালচে আভায় ধরা দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য দৃশ্যটি ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমান জানান, সকালে মাঠে কাজ করার সময় হঠাৎ আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পান। এত পরিষ্কারভাবে পর্বতশৃঙ্গটি দেখা খুবই বিরল বলে জানান তিনি।

রাবিক আল হাসান বলেন, আগস্টের শুরু থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে। শীতের আগেই এমন দৃশ্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। এতে তেঁতুলিয়ার স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও উপকৃত হবে বলে আশা করছেন তিনি।

পঞ্চগড়ের গণমাধ্যমকর্মী সরকার হায়দার জানান, প্রতিবছর সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হলেও এবার আগস্টের শুরু থেকেই তা দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা তেঁতুলিয়ায় আসছেন।

কাঞ্চনজঙ্ঘার পাশাপাশি তেঁতুলিয়ার অন্য আকর্ষণ

কাঞ্চনজঙ্ঘা ছাড়াও তেঁতুলিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো এলাকা থেকে সন্ধ্যার পর ভারতের দার্জিলিং ও শিলিগুড়ির পাহাড়ি এলাকার আলোকসজ্জা দেখা যায়।

দিনের বেলায় দূরে বরফঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা আর সন্ধ্যায় পাহাড়ি এলাকার আলো—দুই ভিন্ন ধরনের দৃশ্য তেঁতুলিয়ার পর্যটন আকর্ষণকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও পঞ্চগড়ের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর থেকে নেপাল প্রায় ৬১ কিলোমিটার, ভুটান ৬৪ কিলোমিটার, দার্জিলিং ৫৮ কিলোমিটার এবং শিলিগুড়ি প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে। ভারত, নেপাল ও ভুটানের কাছাকাছি হওয়ায় সীমান্তবর্তী এই জেলার পর্যটন সম্ভাবনাও ক্রমে বাড়ছে।

পর্যটন গবেষক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, প্রকৃতির সৌন্দর্য মানুষের কাছে সবসময় আকর্ষণীয়। তবে কাঞ্চনজঙ্ঘার সঙ্গে মানুষের অনুভূতির একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণত শীতের আগমনে এটি দৃশ্যমান হলেও এবার এত আগে দেখা যাওয়াকে তিনি বিস্ময়কর বলে উল্লেখ করেন।

তার মতে, দেশের বাইরে গিয়ে পাহাড়-পর্বত দেখার সুযোগ যাদের নেই, তারা পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে পঞ্চগড়ে এসে দূর থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। উত্তরাঞ্চলে নিজস্ব কোনো পাহাড় বা পর্বত না থাকায় দূর থেকে হলেও এমন একটি পর্বতশৃঙ্গ দেখার সুযোগ স্থানীয় পর্যটনের জন্য বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে।

পরিষ্কার আকাশই মূল শর্ত

কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিষ্কার আকাশ। মেঘ ও কুয়াশা কম থাকলে ভোর কিংবা বিকেলের দিকে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে দূর দিগন্তে চোখ রাখলে দেখা মিলতে পারে বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গটির।

পর্যটকদের কাছে তাই আবহাওয়ার পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে তেঁতুলিয়ায় দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

কীভাবে যাবেন তেঁতুলিয়ায়

ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে একতা, দ্রুতযান ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে পঞ্চগড় যাওয়া যায়। ট্রেনভেদে ভাড়া প্রায় ৬৯৫ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। এছাড়া ঢাকার গাবতলী থেকেও দূরপাল্লার বাসে পঞ্চগড় যাওয়া যায়। বাসের ধরন অনুযায়ী ভাড়া প্রায় ৮৫০ থেকে ২ হাজার ৫০ টাকা।

পঞ্চগড় শহরে পৌঁছানোর পর বাস টার্মিনাল বা রেলস্টেশন থেকে স্থানীয় বাস, অটোরিকশা কিংবা প্রাইভেটকারে তেঁতুলিয়া, মহানন্দা নদীর পাড়, ডাকবাংলো ও বাংলাবান্ধাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাওয়া যায়।

শীতের মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মেলায় পঞ্চগড়ে পর্যটকদের আগ্রহ বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই আগাম পর্যটন-আনাগোনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি স্থানীয় হোটেল, পরিবহন, খাবার ও অন্যান্য ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত