সর্বশেষ :

প্রত্যেকে একটি গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা করুন: প্রতিমন্ত্রী

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১ বার

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেছেন, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না; লাগানো গাছটির নিয়মিত পরিচর্যা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবার সকালে রাজধানীর খিলগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বিনা মূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, বৃক্ষরোপণ ও চারাগাছ বিতরণ কর্মসূচি-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তবে অনেক সময় গাছ লাগানোর পর সেটির পরিচর্যার বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যায়। একটি গাছকে বড় করে তোলার জন্য নিয়মিত পানি দেওয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচর্যা করা এবং গাছটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে সেটির যত্ন নিলে পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিতভাবে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

তিনি বলেন, একটি গাছ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়ায় না, বরং মানুষের জীবন ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাছ বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে অক্সিজেন সরবরাহ করে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। নগরায়ণের বিস্তারের কারণে শহরাঞ্চলে সবুজের পরিমাণ কমে যাওয়ায় পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের প্রয়োজন আরও বেড়েছে।

রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে গাছের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগরজীবনে সবুজের উপস্থিতি মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে। তাই রাস্তার পাশে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনা, খেলার মাঠ ও অন্যান্য উপযুক্ত স্থানে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলো সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে রক্তদানের গুরুত্ব নিয়েও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, রক্তদান একটি মহৎ মানবিক কাজ। একজন সুস্থ মানুষের দান করা রক্ত দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি, অস্ত্রোপচাররত রোগী কিংবা সংকটাপন্ন কোনো মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। তাই শারীরিকভাবে সক্ষম ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসা উচিত।

তিনি বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা ছোটবেলা থেকেই গড়ে তোলা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা ভবিষ্যতে একটি দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করলে তাদের মধ্যে নাগরিক দায়িত্ববোধ আরও শক্তিশালী হবে।

হেরাল্ড ওপেন, গোল্ডেন টাই ও ৩৬ রেসকিউ ওপেন স্কাউট গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর বিনা মূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির চারাগাছ বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণও করা হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবেশ সচেতনতা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডকে একই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যেই রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, বৃক্ষরোপণ ও চারাগাছ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার সচেতনতা তৈরি এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই নিজেদের আঙিনা ও আশপাশের এলাকায় গাছ লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাদের জন্য চারাগাছ বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচির বার্তাটি শুধু অনুষ্ঠানস্থলে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়েও ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

পরিবেশবিদদের মতে, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে গাছ লাগানোর পর তার বেঁচে থাকার ওপর। একটি চারা রোপণের পর নিয়মিত পরিচর্যা না করলে সেটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যেও এই বিষয়টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্কাউট সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তাদের অংশগ্রহণে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের আগ্রহ বাড়বে। একই সঙ্গে একটি চারা লাগানোর পর সেটিকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে পরিচর্যা করার অভ্যাস গড়ে উঠলে শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকাতেই সবুজায়নের কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

একটি গাছ রোপণকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ তাই শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের আহ্বানও। ব্যক্তিগত উদ্যোগের সঙ্গে সমষ্টিগত প্রচেষ্টা যুক্ত হলে পরিবেশ ও মানবিকতার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব—এমন প্রত্যাশাই উঠে এসেছে কর্মসূচি থেকে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত