ময়নাতদন্ত শেষে ৯ মরদেহ, স্বজনদের অপেক্ষা

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয়জনের মরদেহ কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। এরপর ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহগুলো বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন পরিবারের সদস্যরা।

নিহত নয়জনের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশের নাগরিক এবং দুজন ভারতের নাগরিক। নিহতদের মধ্যে পুরুষ, নারী ও একটি শিশুও রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় কলকাতায় অবস্থান করছেন নিহতদের স্বজনেরা।

ইতিমধ্যে কুষ্টিয়া থেকে দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্যরা এবং সাতক্ষীরা থেকে মোহাম্মদ আলিমুজ্জামান ও শিকদার পরিবারের সদস্যরা কলকাতায় পৌঁছেছেন। মরদেহ শনাক্ত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন এবং হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ করে প্রিয়জনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।

কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাস ও কলকাতা পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারই নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দেশে পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্ত এবং অন্যান্য আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর সরকারি প্রক্রিয়া মেনে সেগুলো বাংলাদেশে নেওয়া হবে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে হোটেলটির লিজহোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে আরও দুই হোটেলকর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের একজন হোটেলটির বিপরীতে থাকা ‘যাপন’ হোটেলের ম্যানেজার এবং অন্যজন ওই হোটেলের কর্মী।

পুলিশ জানিয়েছে, ‘যাপন’ হোটেলটির লিজহোল্ডারও আবু জাফর। ফলে দুটি হোটেলের পরিচালন ব্যবস্থা এবং মালিকানা-সংক্রান্ত বিষয়ও তদন্তের আওতায় এসেছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলটির পরিচালন ব্যবস্থা, লিজ-সংক্রান্ত নথি, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আগুনের সূত্রপাতের কারণ খতিয়ে দেখছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। প্রাথমিকভাবে এসি মেশিনে বিস্ফোরণ অথবা শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, আগুন প্রথমে সীমিত এলাকায় শুরু হলেও পরে অন্তত চারটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পুরো হোটেলে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং অনেকে বের হওয়ার সুযোগ পাননি।

ঘটনার পর নিউমার্কেট থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএসের অনিচ্ছাকৃত হত্যার ধারা ১০৫, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারা ৬১ এবং সমবেতভাবে অপরাধের ধারা ৩/৫ যুক্ত করা হয়েছে। দমকল বিভাগের পক্ষ থেকেও পৃথক অভিযোগ করা হয়েছে।

ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের প্রাণহানির পর নিউমার্কেট এলাকার হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারীরা হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন, লাইসেন্স এবং ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তার বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখছেন।

অন্যদিকে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রিয়জনদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নেওয়া। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে কলকাতায় অবস্থান করা স্বজনেরা ময়নাতদন্ত, শনাক্তকরণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে নিয়ে শেষ বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নেবেন তাঁরা।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত