ঈশ্বরই জানেন’, পাঁচ দিন খেলতে পারবে বাংলাদেশ?

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ বার

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার পর বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দল ম্যাকাই টেস্টে পাঁচ দিন খেলতে পারবে কি না—অস্ট্রেলিয়ার এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।

প্রশ্ন শুনে কিছুক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসেন ক্যারিবীয় এই কোচ। এরপর বলেন, ‘আমি তো জানি না। তিনি (ঈশ্বর) হয়তো এসে আমাকে তা বলে দিতে পারেন; কিন্তু আমি তো এখনই তা বলতে পারব না।’

তবে সিমন্সের কথায় স্পষ্ট, ডারউইনের ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশ দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। ম্যাকাইয়ের ভিন্ন কন্ডিশন নিয়ে সতর্ক থাকলেও দলের সামর্থ্য নিয়ে তিনি আশাবাদী।

ম্যাকাইয়ে অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স বলেন, টেস্ট জয়ের পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তাঁর ভাষায়, দল ভালো খেলেছে এবং একটি ভালো টেস্ট ম্যাচ জিতেছে। তাই খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস এখন অনেক উঁচুতে।

ডারউইনে ৯ উইকেটের জয়কে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা টেস্ট জয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন সিমন্স। শুধু ফলাফল নয়, ম্যাচের আগে বাংলাদেশ ভালো কিছু করতে পারে—এমন বিশ্বাসও তাঁর ছিল।

৫৪ রানে অলআউট হয়েও বদলায়নি কাজের ধরন

বাংলাদেশের সেই আত্মবিশ্বাসের পেছনে দলের অনুশীলন ও মানসিকতার ভূমিকা দেখছেন সিমন্স। ডারউইন টেস্টের আগে প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি ছিল না বলে জানান তিনি।

সিমন্স বলেন, তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের আগে এবং টেস্টের আগের তিন দিন বাংলাদেশ যেভাবে অনুশীলন করেছে, সেই কাজের ধরনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এমনকি ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পরও দল অনুশীলনের ধরন বা পরিশ্রমের মাত্রা কমায়নি।

কোচের মতে, এখানেই তাঁর বিশ্বাস তৈরি হয়েছিল যে খেলোয়াড়েরা জিততে চায় এবং ভালো করতে চায়। শেষ পর্যন্ত ডারউইন টেস্টে সেই মানসিকতারই প্রতিফলন ঘটেছে।

ডারউইনে বাংলাদেশ শুধু জয়ই পায়নি, ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—সব বিভাগেই ছিল দারুণ নিয়ন্ত্রণ। এমন একটি পারফরম্যান্সের পর দলকে আলাদা করে অনুপ্রাণিত করার প্রয়োজন নেই বলেও মনে করেন সিমন্স।

তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগে খেলোয়াড়দের একটি বিষয় মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি—প্রতিপক্ষ আরও কঠিনভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।

‘অস্ট্রেলিয়া আরও কঠিনভাবে ফিরে আসবে’

সিমন্স বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে একটি জয় পাওয়ার পর আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। তাঁর বার্তা ছিল, ডারউইনে যে মানের ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ, সেটি ধরে রাখতে হবে অথবা তার চেয়েও ভালো করতে হবে।

কোচের মতে, সামান্য উন্নতিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাত্র এক শতাংশ উন্নতি সম্ভব হলেও সেটি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ অস্ট্রেলিয়া তাদের খেলার ধরন বদলে আরও আগ্রাসী হয়ে ফিরতে পারে।

ম্যাকাইয়ের কন্ডিশনও ডারউইনের চেয়ে ভিন্ন। এখানকার উইকেট সবুজ, বাউন্সি ও গতিময়। অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদেহী পেসারদের জন্য এই কন্ডিশন বাড়তি সুবিধা তৈরি করতে পারে।

তারপরও ডারউইনের জয়ী একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেননি সিমন্স। বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলামের দিকে অনুশীলনে বাড়তি নজর ছিল। শরীফুল দলে ভিন্ন কিছু যোগ করতে পারেন বলেও স্বীকার করেছেন কোচ।

তবে সাধারণত জয়ী একাদশে পরিবর্তন করতে পছন্দ করেন না সিমন্স। তাই ম্যাচের আগে টিম ম্যানেজমেন্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত একাদশ নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাননি তিনি।

‘পরিকল্পনা হলো ব্যাটিং করা’

ম্যাকাই টেস্টের পরিকল্পনা নিয়ে অবশ্য কোনো রাখঢাক করেননি সিমন্স। তাঁর লক্ষ্য পরিষ্কার—বাংলাদেশকে দীর্ঘ সময় ব্যাট করতে হবে এবং প্রথম ইনিংসে বড় রান তুলতে হবে।

সিমন্স বলেন, টেস্ট ক্রিকেট পাঁচ দিনের খেলা। বাংলাদেশ যদি এই পাঁচ দিনের মধ্যে অন্তত ১১ ঘণ্টা ব্যাট করতে পারে, তাহলে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলা সম্ভব। তাই প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে রান তাড়া বা বাংলাদেশকে হারাতে কঠিন পরিশ্রম করানোর লক্ষ্য থাকবে।

বাংলাদেশের জন্য এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে বড় ব্যবধানে হারানোর পর দ্বিতীয় টেস্টে স্বাগতিকদের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

বিদেশের মাটিতে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের পরিচয়

অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন জানিয়েছিলেন, সিরিজে তাঁর লক্ষ্য ভালো ক্রিকেট খেলা। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের প্রত্যাশা ছিল দলের জন্য ‘সম্মান অর্জন’। ডারউইন টেস্টের পর সিমন্স মনে করছেন, দুটো লক্ষ্যই পূরণ হয়েছে।

তাঁর মতে, বাংলাদেশ বিদেশের মাটিতে ভালো খেলে আরও কিছুটা সম্মান অর্জন করেছে। আগে দেশের বাইরে টেস্ট খেলতে গেলে বাংলাদেশকে নিয়ে সংশয় থাকত। কিন্তু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সেই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে।

পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানকে হারানোর কথাও উল্লেখ করেন সিমন্স। তাঁর মতে, সেই জয় থেকেই বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সম্মান বাড়ার প্রক্রিয়া আরও দৃশ্যমান হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনের জয় সেই ধারাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

অভিজ্ঞদের সঙ্গে তরুণদেরও শিখতে হবে

অস্ট্রেলিয়ায় জাতীয় দলের নিয়মিত খেলার সুযোগ বাংলাদেশের খুব বেশি নয়। তবে ডারউইনে আয়োজিত টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের কারণে বাংলাদেশের কিছু ক্রিকেটার নিয়মিত অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে খেলার সুযোগ পান।

এবারের টেস্ট দলেও এমন কয়েকজন ক্রিকেটার আছেন। তবে সিমন্স মনে করেন, শুধু আগের অভিজ্ঞতা দিয়ে নতুন ম্যাচে সফল হওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, মুশফিকুর রহিমসহ কয়েকজন আগে অস্ট্রেলিয়ায় ভালো খেলেছেন। কিন্তু প্রত্যেক ক্রিকেটারকেই নতুন পরিস্থিতিতে নিজেদের কাজ করে দেখাতে হবে। আগের অভিজ্ঞতা সহায়ক হতে পারে, কিন্তু মাঠে পারফরম্যান্সই শেষ কথা।

ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়ের পর বাংলাদেশের সামনে এখন আরও বড় পরীক্ষা। অস্ট্রেলিয়া নিজেদের কন্ডিশনে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে, আর বাংলাদেশ চাইবে প্রথম টেস্টের সাফল্যকে ধরে রেখে সিরিজে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে।

ম্যাকাইয়ের সবুজ ও বাউন্সি উইকেটে তাই শুধু পাঁচ দিন টিকে থাকাই নয়, সিমন্সের পরিকল্পনা অনুযায়ী দীর্ঘ সময় ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখাই হবে বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত