প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ব্রাজিলের সাবেক তারকা ফুটবলার ও রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন—সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া এমন খবরকে সরাসরি গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথাও জানিয়েছেন সাবেক এই ডিফেন্ডার।
৫৩ বছর বয়সী রবার্তো কার্লোস মরক্কোর নাগরিক সুহাইলা আল-তাহিরিকে বিয়ের পর ইসলাম গ্রহণ করেছেন—এমন খবর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তুরস্কের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও দাবি করা হয়, তিনি ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিচিত ব্যক্তি শেখ জিহাদ হামাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শাহাদা পাঠ করেছেন।
তবে রবার্তো কার্লোস নিজেই এবার সেই দাবির বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন।
বুধবার সৌদি আরবের সংবাদপত্র ‘ওকাজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই তারকা বলেন, ‘ইসলামের প্রতি আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে। আমার স্ত্রীকে নামাজ পড়তে দেখা চমৎকার লাগে। তবে আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি—এমন যে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, তা সত্য নয়।’
কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের খবর ছড়ানোর পেছনে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সংসদ সদস্য আলি শাহিন দুই দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে দাবি করেছিলেন।
আলি শাহিন জানান, ব্রাজিল সফরের সময় তিনি সাও পাওলোভিত্তিক শেখ জিহাদ হামাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ব্রাজিলিয়ান চ্যারিটেবল ইউনিয়ন অব মুসলিম ইয়ুথে যাওয়ার সময় ওই সাক্ষাৎ হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শাহিনের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ জিহাদ হামাদ তাকে জানিয়েছিলেন যে রবার্তো কার্লোস দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। প্রায় চার সপ্তাহ আগে কার্লোস তাঁর সঙ্গে দেখা করেন এবং শাহাদা পাঠ করার পর ইসলাম গ্রহণ করেন—এমন দাবিই করেছিলেন তিনি।
এই বক্তব্যের পরই সাবেক ব্রাজিলিয়ান তারকার ধর্মান্তর নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে কার্লোসের নিজের বক্তব্যে সেই দাবি এখন স্পষ্টভাবে অস্বীকার করা হলো।
রবার্তো কার্লোসের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাঁর স্ত্রী সুহাইলা আল-তাহিরি মুসলিম হওয়ায় তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা শুরু হয়।
কার্লোস জানান, তাঁদের বিয়ের উদযাপন একটিমাত্র অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে বিবেচনায় রেখে একাধিকভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘উদযাপনটি একাধিকভাবে আয়োজন করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে আমরা আগ্রহী ছিলাম, কারণ তারা ক্যাথলিক। পাশাপাশি আমার স্ত্রী এবং তার মুসলিম বন্ধুদের উপযোগী আরেকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।’
ফলে বিয়ের অনুষ্ঠানে মুসলিম রীতিনীতির উপস্থিতিকে কার্লোসের নিজের ইসলাম গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
রবার্তো কার্লোস বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরিচিত লেফট-ব্যাক। ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে তিনি বিশ্বকাপসহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলেছেন। ইউরোপীয় ফুটবলে তাঁর সবচেয়ে উজ্জ্বল সময় কেটেছে রিয়াল মাদ্রিদে।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দীর্ঘ সময় মাঠ মাতিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান। তাঁর শক্তিশালী শট, অসাধারণ গতি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল তাঁকে নিজের প্রজন্মের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডারে পরিণত করে।
তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি ছিল ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জয়। সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।
অবসর নেওয়ার পরও ফুটবল বিশ্বের আলোচনায় নিয়মিতই থাকেন কার্লোস। তবে এবার তাঁর খেলার পারফরম্যান্স নয়, ব্যক্তিগত ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কারণে তাঁকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
কার্লোসের সর্বশেষ বক্তব্যে বিষয়টি অবশ্য পরিষ্কার হয়েছে—তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেননি। একই সঙ্গে মুসলিম স্ত্রী এবং তাঁর ধর্মীয় চর্চার প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথাও প্রকাশ করেছেন। ফলে বিয়ের অনুষ্ঠান ও তাঁর স্ত্রীর ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ধর্মান্তরের জল্পনার অবসান ঘটল তাঁর নিজের বক্তব্যেই।